ঢাকা শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা

‘নিজ দেশের নাগরিক হত্যা, তাদের গণকবর—সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না’


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭-১-২০২৬ বিকাল ৭:৮

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
ইতোমধ্যে নিজেদের স্বজনের সন্ধানে ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা প্রদান করেছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকেই বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
শনাক্ত হওয়া শহীদেরা হলেন— শহীদ সোহেল রানা (৩৮), শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ আসাদুল্লাহ (৩২), শহীদ মাহিন মিয়া (৩২), শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬), শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩), শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮) এবং শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)।
কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন।
সিআইডি জানিয়েছে, জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব পরিবারের সদস্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, সত্য উদঘাটন এবং শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে— সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, আর তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি ফরেনসিক কার্যক্রম নয়; এটি নিখোঁজদের পরিবারের চোখের পানি মুছে দেওয়া, রাষ্ট্রের মানবিক মুখ পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়বিচারের পথে এক সাহসী পদক্ষেপ। যারা এখনও প্রিয়জনের খোঁজে পথ চেয়ে আছেন, তাদের জন্য এ কার্যক্রম আশার আলো— একদিন সত্য সামনে আসবেই।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বৈঠকে বলেন, একজন শহীদের মা নিয়মিত সিআইডির কাছে আসতেন। তিনি রায়ের বাজারে গিয়ে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। খুবই আশ্চর্যজনকভাবে ওই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ল্যাব তৈরি করে যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে পুলিশের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।”
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি মো. জমশের আলী, সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম, সিআইডির এসএসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিআইডির ডেপুটি চিফ ডিএনএ এনালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস এবং জাতিসংঘে মানবাধিকার অফিসের প্রতিনিধি মো. জাহিদ হোসেন।

 

এমএসএম / এমএসএম

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির ধর্মঘট প্রত্যাহার

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে : আসিফ নজরুল

চীনা নাগরিকের হাত ধরে ঢাকায় অবৈধ আইফোন কারখানা

মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি

এবার কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না : সিইসি

‘নিজ দেশের নাগরিক হত্যা, তাদের গণকবর—সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না’

নির্বাচনী ট্রেন সচল করতে যন্ত্রাংশ বদলে গতি ফেরানোর চেষ্টা ইসির

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ

জুলাই-যোদ্ধাদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান উপদেষ্টা সাখাওয়াতের

জাতীয় পার্টির পুনর্বাসন চাই না : ইসিকে আসিফ মাহমুদ

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশে হত্যা করা হয় ওসমান হাদিকে : ডিবি

ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে না : অর্থ উপদেষ্টা