কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তরে সক্রিয় সিন্ডিকেট
প্রধানমন্ত্রী’র অনুষ্ঠানকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজী!
সম্প্রতি টাঙ্গাইলে কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে ৫০ লাখ টাকা অর্থ আদায় করেছে।
গত ১৫ এপ্রিল টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী’র উপস্থিতিতে আয়োজিত কৃষি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর খামারবাড়িতে এই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুরে আলম সিদ্দিকী তুহিন, একেএম বদরুল হক, মুরাদুল হাসান, মাজেদুর রহমান, সাব্বির আহমেদ এবং বনি আমিন খান-সহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উল্লেখ্য যে, একই চক্রের বিরুদ্ধে পূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর নামে প্রায় ৯০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সুবিধা ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।
এই অনেক কর্মকর্তাকে ‘ড্যাম্পিং পোস্টিং’-এর মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপপরিচালক (প্রশাসন) মুরাদুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও নজরুল ইসলাম বাবু এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও দুর্নীতির দায়ে অবসরে যাওয়া সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ারও আস্থাভাজন ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের এডিডি এবং বরিশালের ডিডি হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সুপারিশে। বর্তমানে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এখনও কৃষি ক্যাডার কর্মকর্তাদের কাছে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত।
তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তাদের ওপর রাজনৈতিক ট্যাগ প্রয়োগ করে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখেন। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি
ড. কে. এম. বদরুল হক (প্রকল্প পরিচালক) অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “একটি চক্র সরকারের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, বনি আমিন খান, মাজেদুর রহমান ও সাব্বির আহমেদ তিনজনই পৃথকভাবে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা জানান, তারা শুধুমাত্র অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং অর্থ লেনদেন সম্পর্কে অবগত নন।
নুরে আলম সিদ্দিকী তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ছয়জন কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ইঙ্গিতেই গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের গতিপথ নির্ধারিত হয়।
কৃষিখাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। সেই খাতে যদি দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রবেশ করে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
Aminur / Aminur
দেশের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩১
কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ডাক্তার-নার্সরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন
প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গেমচেঞ্জার
ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে দীর্ঘ সারি, ‘স্লট’ নিয়ে বড় ভোগান্তি
সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ
তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত
তাপপ্রবাহ বিদায়ের বার্তা, টানা বৃষ্টির আভাস
দেশের ৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা
ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, বায়ু দূষণের শীর্ষে নয়া দিল্লি