ঢাকা শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

বিনিয়োগ সংস্কারে উদ্যোগ: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ রূপরেখায়


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০-৪-২০২৬ দুপুর ১:১৫

নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মেলন গতকাল ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ -রোজ বুধবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের এক সংকটময় মুহূর্তে, যখন প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং মানসম্পন্ন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রধান অগ্রাধিকার, তখন দেশের ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ী নেতারা আজ এক আলোচনায় মিলিত হয়েছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর নতুন সরকার যখন তাদের সংস্কার এজেন্ডা নির্ধারণ করছে, তখন এই সংলাপটি নীতিগত পূর্বাভাসযোগ্যতা (regulatory predictability), ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জরুরিতা তুলে ধরে। এই ক্ষেত্রগুলোই আসন্ন জাতীয় বাজেট এবং সরকারি নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে এই বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগের আয়োজন করে, যার শিরোনাম ছিল “বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন: নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও আসন্ন জাতীয় বাজেটে এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ।” অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহায়তা করেছে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি (Guest of Honor) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (BGMEA) সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমসিসিআই (MCCI)-এর মহাসচিব ও সিইও জনাব ফারুক আহমেদ। তিনি সংলাপের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করার গুরুত্বারোপ করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাশরুর রিয়াজ। তিনি বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সময়োপযোগী সংস্কারের ওপর জোর দেন।
ড. রিয়াজের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনায় শীর্ষস্থানীয় শিল্প ব্যক্তিত্ব ও পেশাদাররা অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (EuroCham)-এর চেয়ারপারসন মিসেস নুরিয়া লোপেজ; মারুব কবির অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস-এর হেড অফ চেম্বার জনাব মারুব কবির; এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) মিস জিনিয়া হক। প্যানেলে ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি হওয়া মূল প্রতিবন্ধকতা, যেমন- নিয়ন্ত্রক জটিলতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের বাধা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে ব্যবহারিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মিস জিনিয়া হক উল্লেখ করেন যে, বিনিয়োগকারীরা গতি, স্বচ্ছতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেন। টেকসই বিনিয়োগকারী আস্থা তৈরি করতে নীতিগুলো ব্যক্তি-নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক-ভিত্তিক (institution-based) করার ওপর জোর দেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অফ কমার্স ইন বাংলাদেশ (EuroCham)-এর চেয়ারপারসন মিসেস নুরিয়া লোপেজ বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং নির্ভরযোগ্য রপ্তানি সুবিধা নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। তিনি নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, কাস্টমস সিস্টেম আধুনিকীকরণ, জ্বালানি সরবরাহ উন্নত করা এবং সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
মারুব কবির অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস-এর হেড অফ চেম্বার জনাব মারুব কবির, বাণিজ্যিক বিষয়গুলি নিষ্পত্তির জন্য পুরনো ও জটিল পদ্ধতিগত আইন সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (BGMEA)-এর সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান বলেন,
ধারাবাহিক এবং মানসম্পন্ন জ্বালানি ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চ মূল্য
সংযোজনকারী শিল্পে (higher value-added industries) রূপান্তর কঠিন হবে।

Aminur / Aminur