ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আলোচনায় মোস্তাফিজুর রহমান


তৌহিদুল ইসলাম ক‍্যাম্পাস প্রতিনিধি photo তৌহিদুল ইসলাম ক‍্যাম্পাস প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯-৮-২০২৬ দুপুর ২:৪
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় বেশ কয়েকজনের নাম সামনে এলেও বর্তমান কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
 
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতি এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে ছাত্রদলের একটি অংশ তাকে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে। কর্মীদের একটি অংশের ভাষ্য, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও মোস্তাফিজুর রহমান সংগঠনের কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি।
 
দলীয় সূত্রের দাবি, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নতুন কমিটির চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দলের কার্যালয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর থেকেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
 
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
 
২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
পরবর্তীতে এমফিলে ভর্তি হওয়ার পর তার হল-সংযুক্তি পরিবর্তন হয়ে সূর্যসেন হলে হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, দলীয় কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়গুলোতেও তিনি রাজপথে অবস্থান করেছেন এবং কর্মীদের সঙ্গে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।
 
মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ
 
২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা মিথ্যা মামলায় মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়েও তাকে মামলা, কারাবাস, হয়রানি ও নানা ধরনের চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
 
তাদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনসহ স্বৈরাচারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে মোস্তাফিজুর রহমান সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে থাকা এবং তাদের সাহস জোগানোর বিষয়টিও তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করেন সমর্থকেরা।
 
তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতার দাবি
 
মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি সংগঠনের কঠিন সময়গুলোতে নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি। মামলা-হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের একটি অংশের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
 
তাদের দাবি, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শুধু সাংগঠনিক পদ নয়, বরং আন্দোলনের মাঠে পরীক্ষিত অভিজ্ঞতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিবেচনায় মোস্তাফিজুর রহমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।
 
নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা
 
সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রত্যাশিত ফল না আসায় সংগঠনটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতিকে সংগঠনের দুর্বলতার কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
 
তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক জটিলতা কাটিয়ে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন নতুন উদ্যম, গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠের রাজনীতিতে পরীক্ষিত নেতৃত্ব। পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারভিত্তিক কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সক্ষমতাও নতুন নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
 
এই পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় সামনে আসায় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সমর্থকদের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে।
 
তবে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেটি নির্ভর করছে বিএনপির হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। কমিটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির একাধিক নেতা।
 
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটির মাধ্যমে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক আন্দোলনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Aminur / এমএসএম

বিরোধীদল স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আলোচনায় মোস্তাফিজুর রহমান

কর্নেল ওলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে জেল অথবা মৃত্যু ছিল অবধারিত: জামাল হোসেন

এনসিপি বলতে যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন: রাশেদ খাঁন

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর যেন দলীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা না হয়: নাহিদ ইসলাম

‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি’

সচিবালয় ঘেরাও করতে গেল ১১ দলীয় ঐক্য, আটকে দিলো পুলিশ

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাবির টিএসসিতে ছাত্রশিবিরের গণজমায়েত

ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে জামায়াত: নুরুল হক নুর

দেশের কঠিন অতীত নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে: দুদু

দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল