ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

গরিবের ওপর কর না বাড়িয়ে ধনীদের চাপ দেয়ার পরমর্শ


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩-২-২০২২ দুপুর ৪:৩৯

দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপের মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ করে বিত্তবান-ধনীদের ওপর যুক্তিসঙ্গত চাপ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি (বিইএ)। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম কতগুলো প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস সদস্য (শুল্ক নীতি) মাসুদ সাদিক। আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদস্য (আয়কর নীতি) সামস উদ্দিন আহমেদ ও (ভ্যাটনীতি) জাকিয়া সুলতানা।

অর্থনীতি সমিতি বলছে, করোনা-উদ্ভূত বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেটের জন্য সম্পদ আহরণ করতে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ধনী, বিত্তবান, সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যারা সম্পদ-আয় ও মুনাফার অর্থমূল্য কম প্রদর্শনের মাধ্যমে সঠিক কর দেয় না, তারা যেন সঠিক পরিমাণ কর দেয়, তা শক্তভাবে নিশ্চিত করতে হবে। 

প্রস্তাবনায় অর্থনীতি সমিতি বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারকে চারমাত্রিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ওপর জোর দিতে বলেছে। কারণ অর্থনৈতিক মহামন্দা ও কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের সব দেশই এখন অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাগত, স্বাস্থ্যগত ও রাজনৈতিক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে।

সমিতি মনে করে, করোনার প্রভাবে নিরঙ্কুশ দরিদ্র, হতদরিদ্র, চরম দরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্য-মধ্যবিত্ত মানুষের ব্যাপকাংশ দরিদ্রতর হয়েছে। কর্মবাজার ভীষণভাবে সংকুচিত ও বিপর্যস্ত। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন খড়গ হয়ে নেমে এসেছে দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি। এসব মিলিয়ে বৈষম্য নিরূপণের মাপকাঠি গিনি সহগ ও পালমা অনুপাত অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন উচ্চ ও বিপজ্জনক আয় বৈষম্যের দেশে পরিণত হয়েছে।

কোভিড-১৯ রোধে দেওয়া লকডাউন ও বিধি-নিষেধে নিঃস্ব, সর্বস্বহারা, হতাশাগ্রস্ত, ও ভাগ্যনির্ভর মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে আয়, সম্পদ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বৈষম্য হ্রাসের যত পথ-পদ্ধতি আছে, তা প্রয়োগ করে সবার আগে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভাইরাসপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতি। তাদের মতে, আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটকে কোনোভাইে সংকোচনমূলক না করে বরং সম্প্রসারণশীল ও বৃহদাকারভাবে প্রণয়ন করতে হবে। শুধু প্রয়োজন আয়, ধন ও সম্পদের বণ্টনকে ন্যায্য করা। অর্থাৎ ধনীদের কাছ থেকে তা প্রবাহিত করতে হবে দরিদ্র, বিত্তহীন ও নিম্নবিত্ত মানুষের দিকে। 

রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে দরিদ্রদের ওপর প্রত্যক্ষ করের বোঝা না বাড়িয়ে ধনী-বিত্তশালীদের ওপর সম্পদ কর আরোপ করতে হবে, সুপার-ডুপার ধনীদের ওপর করের হার বাড়াতে হবে এবং ৮০ শতাংশ শেয়ার-বন্ডের মালিক গুটিকয়েক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বড় বড় বিনিয়োগের ওপর সম্পদ কর আরোপ করতে হবে। 

সমিতির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপ এবং কালো টাকা ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করতে নিতে হবে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। দেশপ্রেম ও সদিচ্ছা থাকলে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা কঠিন কিছু নয়। পরোক্ষ করের বোঝা মূলত দরিদ্র, প্রান্তিক, নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্য-মধ্যবিত্তদের ওপর তাদের আয়ের তুলনায় অধিক হারে চাপ প্রয়োগ করে; ফলে তা দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস না করে উল্টো আরও বাড়িয়ে দেয়। সে কারণে পরোক্ষ করের তুলনায় প্রত্যক্ষ করের অনুপাত বেশি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। 

অর্থনীতি সমিতির মতে, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ যৌক্তিক, নৈতিক, মানবিক সব বিচারেই সম্ভব। আর এ জন্য সরকারকে বাজেট প্রণয়নে সংবিধানের বিধানসমূহকে মৌলভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নয়া-উদারবাদী দর্শনের বিপরীতে থেকে অধিকতর সক্রিয় ও ফলপ্রদ ভূমিকা নিতে হবে। বাজেটে সরকারের আয় ও ব্যয় খাতের কাঠামোগত রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা জরুরি। 

সমিতি বলছে, আমদানি শুল্ক হার নির্ধারণে দেশজ শিল্পায়ন ও দেশজ কৃষির স্বার্থ বিবেচনায় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাত-উপখাতসমূহের ক্ষেত্রে চাপিয়ে দেওয়া মুক্তবাজার দর্শনের বিপরীতে সংরক্ষণবাদ নীতি-দর্শন প্রয়োগ করতে হবে। কারণ ধনী দেশের যারা নানা প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে, তারা সম্ভাব্য সব ধরনের সংরক্ষণবাদ নীতি অবলম্বন করেই ধনী হয়েছে, কিন্তু ধনী হওয়ার পরে ‘উপরে ওঠার মই লাথি মেরে সরিয়ে’ মুক্তবাজারে বাংলাদেশকে খেলতে বলছে—এসব হলো দ্বিচারিতা।

এমএসএম / জামান

সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন

পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

আগামীতে হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয় : স্পিকার

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

৪ লাখ ৬৮ হাজার সরকারি পদ শূন্য, নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন

আ.লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

মোহাম্মদপুরে ৩ দিনের ব‍্যবধানে ফের খুন

১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

অকটেন-পেট্রোলের মজুত যথেষ্ট, দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না

একমাসে হাম ও হাম সন্দেহে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু

৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার