ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

ব্যাংকে ৫ কোটি টাকা থাকলেই কর বেশি


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯-৬-২০২২ দুপুর ৪:২৯
ব্যাংকে ৫ কোটি টাকা জমা হলেই কর দিতে হবে বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি টাকা বা এর বেশি জমা হলে ৫০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হবে। যা আগে ছিল ৪০ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বর্তমানে ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক আদায় করা হয়। কোনো ব্যক্তির ৫ কোটি টাকার বেশি থাকলে বছরে ৪০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। এখন থেকে ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ব্যাংক স্থিতির ওপর ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করছি।

২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এ বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হার গত বাজেটে ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে এ ঘাটতি মেটানো হবে।

ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, যার মধ্য থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে। ফলে প্রকৃত বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যে ঋণ নেওয়া হবে তার মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা নেওয়া হবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। এর মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ ৬৮ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। আর স্বল্প মেয়াদি ঋণ ৩৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। আর ব্যাংক বহির্ভূত ঋণ ধরা হচ্ছে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা। যার মধ্যে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্প থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং ৫ হাজার ১ কোটি টাকা অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবর্তক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা, এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৭৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। মূলধন ব্যয় ধার হচ্ছে ৩৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। খাদ্য হিসাবে ৫৪০ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ হাজার ৫০১ কোটি টাকা।

অপরদিকে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। এডিপি বহির্ভূত বিশেষ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে ৭ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন স্কিম বাবদ ৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির জন্য ২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সাদিক পলাশ / সাদিক পলাশ