প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় বাজেট খুবই অপ্রতুল
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় বাজেট খুবই অপ্রতুল বলে জানিয়েছে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। সোমবার “জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থান” শীর্ষক বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জাতীয় প্রেসক্লাবে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি উঠে আসে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ডিজএবিলিটি রাইটস ফান্ড, ডিসিএফ, এনসিডিডাব্লিউ, সীতাকুন্ড ফেডারেশন, টার্নিং পয়েন্ট, ডাব্লিউডিডিএফ, বি-স্ক্যান, ভিপস, এনজিডিও, এসডিএসএল, নোয়াক, জয়িতা নারী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, বিপিইউএস, ন্যাডপো, জয়ের পথে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, নরসিংদী ডিপিওডি, স্পন্দন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা, প্রতীক মহিলা ও শিশু সংস্থা, ডিডাব্লিউএস, পরশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা ও রংধনু জিলা প্রতিবন্ধী অধিকার সংস্থা এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
সভা প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ এর সভাপতি নাসরিন জাহান এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় । ডাব্লিউডিডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টির সভাপতিত্বে আয়োজক সংস্থার পক্ষে অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বরাদ্দের উপর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
আলবার্ট মোল্লা ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা ১০০ টাকা বৃদ্ধি করে ৮৫০ টাকা, উপকারভোগীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার বৃদ্ধি এবং এ খাতে বরাদ্দ ৬০৯.১৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্রীড়া কমপ্লেক্স এর জন্য ১২০ কোটি টাকা এবং কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম এর জন্য ৪০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। যদি কোন প্রতিষ্ঠান তার মোট কর্মচারীর ১০ শতাংশ বা ২৫ জনের অধিক প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয় তবে উক্ত কর্মচারীদের পরিশোধিত বেতনের ৭৫ শতাংশ বা প্রদেয় করের ৫ শতাংশ যেটি কম, তা নিয়োগকারীকে কর রেয়াত দেয়া হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পড়ার উপকরণ ব্রেইল মুদ্রণের উপর ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কানে শোনার যন্ত্রে ব্যবহৃত ব্যাটারি এর উপর শুল্ক কর ২৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষায়িত হুইলচেয়ার আমদানিতে VAT ১৫% এবং AIT ৫% ছিলো তা সম্পূর্ণ বিলোপ করা হয়েছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রতিবন্ধিতা খাতে মোট বরাদ্দ ২ হাজার ৮৬৪.৮৫ কোটি টাকা যা সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাত্র ২.৫২% এবং যা মোট বাজেটের ০.৪২%। এ বরাদ্দ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। বিগত ৪ বছর ধরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং বরাদ্দ অপরিবর্তিত রয়েছে যা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিণত করতে বাধাগ্রস্ত করবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোন উদ্যোগ বাজেটে নেই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাজেট বরাদ্দ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কেন্দ্রিক, অথচ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ধারণায় মন্ত্রণালয় ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল। এছাড়া বাজেটে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ, জাতীয় আইন, নীতিমালা, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিফলন নেই।
প্রতিক্রিয়া সভায় বি-স্ক্যান এর সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব সরকারের কাছে ১০টি দাবি পুনর্বিবেচনার জন্য তুলে ধরেন। যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা জনপ্রতি মাসিক ন্যূনতম ২০০০ টাকায় উন্নীত করা, গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেয়ারগিভারের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালু করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষার আওতায় আনতে ও ঝরে পড়া রোধ করতে উপকারভোগীর সংখ্যা বাজেটে কমপক্ষে দ্বিগুণ (২ লক্ষ) করা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক খাতসমূহে উপকারভোগী নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়নে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের যে কর্মসূচী রয়েছে তার প্রত্যেকটিতে উপকারভোগী নির্বাচনে প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়ক উপকরণ আমদানিতে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আরও যেসকল সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করে, যেমন- ট্রাই-সাইকেল, স্কুটার, সাদাছড়ি, হিয়ারিং এইড, বহনযোগ্য র্যাম্প, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অঙ্গসহায়ক উপকরণ, স্পীচ টু টেক্সট, টেক্সট টু স্পীচ, এক্সেসিবল মোবাইল অ্যাপস, কী-বোর্ড, লার্জ প্রিন্ট ম্যাটেরিয়াল, স্ক্রীন রিডিং সফটওয়ার ইত্যাদিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান, ভৌত অবকাঠামো ও তথ্যগত প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা, বাজেট প্রণয়নে প্রতিবন্ধী বিষয়ক আইন, নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ, প্রতিবন্ধী মানুষের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এর উপর সকল প্রকার ভ্যাট-ট্যাক্স ও সার চার্জ প্রত্যাহার, প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য উপযোগী পাওয়ার র্যাম্প বা ম্যানুয়াল র্যাম্পযুক্ত বাস আমদানিতে এবং তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপর শুল্ক প্রত্যাহার, প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাজেটে যথাযথ বরাদ্দ রাখা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ। সভায় বক্তারা সকল দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের ৮০ জন প্রতিনিধি। মহুয়া পাল এর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সভার পরিসমাপ্তি ঘটে।
সাদিক পলাশ / সাদিক পলাশ
বাড়ল সোনা ও রুপার দাম
বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
দাম বেড়েছে সবজির
এলএনজি-এলপিজি নিয়ে দেশে আসছে আরও ৫ জাহাজ
কমলো সোনা ও রুপার দাম
নাগালে নেই ইলিশ, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪০০ টাকা
সোনার দামে বড় লাফ
ফের বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম
চার দফায় ১৩ হাজার বেড়ে সোনার দাম কমলো ২ হাজার
এক ঘণ্টা কমিয়ে ব্যাংক লেনদেন ১০টা থেকে ৩টা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে