ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা

এনআইডি ও পেশা পরিবর্তন করে জঙ্গি এনামুলের ২২ বছর আত্মগোপন


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯-৬-২০২২ দুপুর ৩:৪০

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ মো. এনামুল হককে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা। র‌্যাব বলছে, ব্যবসায়িক সূত্রে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজির আমির মুফতি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল এনামুল হকের। তার মালিকানাধীন সোনার বাংলা ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় মুফতি হান্নান গোপন বৈঠক ও কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করে। ঘটনার পর দীর্ঘ ২২ বছরে তিনি রাজধানীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, বনশ্রী ও গাজীপুরে নাম-পরিচয় ও পেশা পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। পরিবর্তন করেছিলেন ন্যাশনাল আইডি কার্ডও।

রোববার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, জঙ্গি হামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করছিল র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পলাতক আসামি জঙ্গি ইকবাল ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি মুফতি শফিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হুজি-বির প্রতিষ্ঠাতা আমির মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১-এর একটি দল রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি শেখ মো. এনামুল হক ওরফে শেখ মো. এনামুল করিমকে (৫৩) গ্রেপ্তার করে।

২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কোটালীপাড়ার জনসভার অদূরে জঙ্গি শেখ মো. এনামুল করিমসহ অন্য জঙ্গি সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় হত্যাচেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩টি মামলা হয়। তদন্ত শেষে মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ গ্রেপ্তার শেখ মো. এনামুল হকসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার এনামুল জানায়, ব্যবসায়িক সূত্র ধরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হুজির আমির মুফতি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তিনি ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরে বিসিক শিল্পনগরীতে মুফতি হান্নানের ছোট ভাই আনিসের সঙ্গে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে সোনার বাংলা ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ নামে টুথপেস্ট, টুথপাউডার, মোমবাতি ও সাবান তৈরির একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। মুফতি হান্নানসহ জঙ্গি নেতারা ২০০০ সালের জুলাই মাসে বেশ কয়েকবার তার ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে। বিভিন্ন সময়ে মুফতি হান্নানসহ অন্য জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ করত।

এনামুল মুফতি আব্দুল হান্নানের পরিকল্পনা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের কারখানায় সাবান তৈরির কেমিক্যাল সংগ্রহের আড়ালে বিভিন্ন প্রকার বিস্ফোরকদ্রব্য, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামা আনে ও লোহার ড্রামের ভেতর ৭৬ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের দুটি শক্তিশালী বোমা তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ার জনসভার অদূরে বোমা পুঁতে রাখে। তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ফাঁস হওয়ার পর সেনাবাহিনী বোমা দুটি নিস্ক্রিয় করে।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এনামুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে ক্বারী না হওয়া সত্ত্বেও ক্বারী পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের একটি মসজিদে ৮ বছরের বেশি সময় ইমামতি করেন। গাজীপুরে থাকতেই তিনি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন।

গাজীপুরে একটি হোমিওপ্যাথি কলেজে দুই বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই ভাবে তিনি নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করতেন। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে তিনি ঢাকার উত্তরা ও বনশ্রীতে বাসা ভাড়া করে আত্মগোপনে ছিলেন।

গ্রেপ্তার এনামুল ঢাকার উত্তরায় ২০১৫ সালে আই কে হোমিও কলেজ উত্তরা নামে একটি ভুয়া হোমিও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে ক্যান্সার নিরাময় কেন্দ্র নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান খুলে ক্যান্সারের ভুয়া হারবাল চিকিৎসা শুরু করেন। তার চিকিৎসায় ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে ভালো হয় বলে তিনি দাবি করতেন। এইডস রোগ নিরাময়ে চিকিৎসা দিতে পারতেন বলে দাবি করেন। এছাড়াও তিনি নিজেকে হেপাটাইটিস ভাইরাস, প্যারালাইসিস, ডায়াবেটিকস, মেদ, বন্ধ্যাত্ব, টিউমার, হার্ট, কিডনি, যৌন, মানসিক রোগসহ বহুবিধ রোগের সফল চিকিৎসক হিসেবে দাবি করতেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামি কিভাবে পেশা ও এনআইডি পরিবর্তন করে ২২ বছর আত্মগোপনে থাকল- জানতে চাইলে তিনি জানান, বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে থেকেছেন। গাজীপুরে থাকতেই ২০১০ সালে তিনি নামের কিছু অংশ পরিবর্তন করে শেখ মো. এনামুল হক থেকে শেখ মো. এনামুল করিম নামে স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জের স্থলে গাজীপুরের ঠিকানায় এনআইডি করেন। সর্বশেষ তিনি উত্তরার দিয়াবাড়ীতে বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তার গতিবিধি ও কার্যক্রম সংক্রান্ত সন্দেহের অবকাশ ছিল। সে ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পেয়েই তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তাকে গ্রেপ্তারে দেরির কারণ পেশা, স্থান ও নাম পরিবর্তন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জামান / জামান

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

জুলাই হত্যাযজ্ঞ : সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ১০ জন ট্রাইব্যুনালে

আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা : হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে সোমবার

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা চলছে

এজলাসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ান

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবার আপিলে আবেদন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট খারিজ

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ : আসামিদের আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ : আসামিদের আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট