পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে সেনা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া
টানা সাড়ে ৫ মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে চলা রুশ এই আগ্রাসনের বিষয়ে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ মস্কোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আনলেও এবারই প্রথম পরাশক্তি এই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ সামনে এনেছে কিয়েভ। আর তা হচ্ছে, ইউক্রেনের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে সেনা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের পারমাণবিক শক্তি কোম্পানির প্রধান বলেছেন, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে সেনা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া। তার অভিযোগ, ইউক্রেনের অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর জন্য এই স্থাপনাটিকে একটি সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে দখলকারী রাশিয়ান বাহিনী।
ইউক্রেনের পারমাণবিক শক্তি কোম্পানির ওই প্রধানের নাম পেট্রো কোটিন। বিবিসিকে তিনি বলেন, (রাশিয়ার কর্মকাণ্ডে) পারমাণবিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য ব্যাপক হুমকি দেখা দিয়েছে, তবে এটি এখনো নিরাপদ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক জোট ন্যাটোকে ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে সীমান্তে আড়াই মাস সেনা মোতায়েন রাখার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই ঘোষণার দুদিন আগে ইউক্রেনের রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন তিনি।
এরপর গত মার্চের শুরুতে যুদ্ধের প্রথম দিকেই রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেয়। যদিও এই স্থাপনা এখনো ইউক্রেনীয় প্রকৌশলীরা পরিচালনা করছেন। এরপর চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ এই হামলার জন্য ইউক্রেন রাশিয়াকে দায়ী করলেও বিবিসি বলছে, হামলার দায় পাল্টা ইউক্রেনের ঘাড়েও চাপিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভ বলছে, এনারগোদারের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রোববার গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। পারমাণবিক এই সহিংসতার দায়ে মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বলেছে, শনিবার রাতে রুশ বাহিনীর নতুন করে গোলাবর্ষণ নিক্ষেপের ঘটনায় জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি বিকিরণ সেন্সর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই স্থাপনার একজন কর্মী আহত হন।
পেট্রো কোটিন বিবিসিকে বলেন, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৫০০ রাশিয়ান সৈন্য ছিলেন এবং তারা সেখানে রকেট লঞ্চারও স্থাপন করেছিলেন। যদিও তার এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো বলেন, তারা (রাশিয়ান বাহিনী) এটিকে (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢালের মতো ব্যবহার করছে। কারণ ইউক্রেনের কেউ সেখানে কিছু (হামলা) করতে যাচ্ছে না। ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী জানে যে, এরা ইউক্রেনীয় কর্মী ও এটি একটি ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেখানে ইউক্রেনীয় জনগণ আছে। আর তাই (সেখানে) আমরা আমাদের লোকদের, আমাদের কর্মীদের হত্যা করতে যাচ্ছি না এবং আমাদের অবকাঠামোরও ক্ষতি করতে যাচ্ছি না।
কোটিন বলেন, প্ল্যান্টের কর্মীরা চাপের মধ্যে ও বিপদের মধ্যে কাজ করছেন এবং কয়েকজনকে বন্দী, মারধর ও নির্যাতনও করা হয়েছিল। রাশিয়ার পরিকল্পনা ছিল ইউক্রেনের গ্রিড থেকে প্ল্যান্টটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং অবশেষে এটি রাশিয়ার সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
জামান / জামান
সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলার পর বলল তুরস্ক— আমরা নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দেব না
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ ঘোষণা ট্রাম্পের
কলকাতায় আগুনে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে
নভেম্বরে কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার অর্ধেকের বেশি তেল যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ-জ্বালানি সহায়তা নিয়ে যা বলল ভারত
তারেক রহমানের ভারত সফরে খুলতে পারে সম্পর্কের ‘নতুন দুয়ার’
ইউক্রেনকে ড্রোন সরবরাহ, যুক্তরাজ্যকে কঠোর হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা পুনর্গঠন শুরু হবে না: ট্রাম্পের জামাতা
বিশ্বজুড়ে এক বছরে রেকর্ড ৩৫০ দাতব্যকর্মী নিহত