ঢাকা রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দুরবস্থার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ


সকালের সময় ডেস্ক photo সকালের সময় ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮-৮-২০২২ দুপুর ১২:১০

করোনাভাইরাস মহামারী ও চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি এবং খাদ্যসামগ্রীর চড়া দামে বর্তমানে অধিকাংশ দক্ষিণ এশীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে বাংলাদেশের ১৬০ মিলিয়ন মানুষও ভুগছে। এর ফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎ সংকট ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে সন্দিহান করে তুলছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিনান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দুরবস্থার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক নিবন্ধে একথা বলা হয়। ঢাকা থেকে বেঞ্জামিন পার্কিন এবং নয়াদিল্লি থেকে জন রিড যৌথভাবে এ নিবন্ধ লেখেন।

এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংকট নানা ধরনের দুরবস্থার মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং সেই সব দেশগুলোকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে যারা আদর্শ উন্নয়ন অর্থনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবিবেচনাপ্রসূত ব্যয় করেছে। এটি এখন দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অর্জিত বিশ্বের সবচাইতে জনবহুল উদীয়মান অর্থনীতির অঞ্চলকে পেছনে ফেলে দিচ্ছে, যা ভারত ও চীনের ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রের কেন্দ্রে অবস্থিত। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ঋণদাতাদের মধ্যে অন্যতম হলো বেইজিং। ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের ওপর চীনের প্রভাব ভারত বেশ অস্বস্তিতে আছে এবং চলমান সংকট তাদের হাতকে শক্তিশালী করার বিভিন্ন ইঙ্গিত তারা পাচ্ছে।

জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে জর্জ সরস পরিচালিত ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনসের প্রধান মার্ক ম্যালোক ব্রাউন একথা বলেন। এই সংকট বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও মডেলের দেশগুলোকে বিপদে ফেলছে। গার্মেন্টস শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের অন্যান্য জায়গার অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে ধ্বসে পড়ছে।

দুই দশকের মধ্যে গত মে মাসে শ্রীলঙ্কা প্রথম এশিয়া-প্যাসিফিক দেশ হিসেবে ঋণ খেলাপি হয়। শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফলে রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় মানুষ বিক্ষোভ করে। ফলে সে সেনাবাহিনীর বিমানে দেশত্যাগে বাধ্য হয়। পাকিস্তানের আদালত সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শাস্তির রায় দিয়েছে এবং সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও দেশটি আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলো থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা তাকে ঋণ খেলাপি হওয়া থেকে রক্ষা করবে। ছোট্ট দেশ নেপাল এবং মালদ্বীপও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুস্থ আছে, যার বড় কারণ রফতানি খাত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো ও জলবায়ু পরিবর্তজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় সহায়তার জন্য আইএমএফ এর কাছে ঋণের আবেদন করেছেন। এ ফান্ড থেকে ৪.৫ বিলিয়নসহ বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ আরও ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে দেশব্যাপী জনগণ প্রতিবাদ করেছে। বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য স্কুল ও অফিস সময় কমিয়ে এনেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ে বিলাস দ্রব্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ঘানা, ইথিওপিয়া থেকে চিলি পর্যন্ত বিভিন্ন উদীয়মান অর্থনীতির মিল রয়েছে, যেখানে ৮০’র দশকের পর এই প্রথম বৈদেশিক ঋণ সংকটে শুরু হয়েছে, যা সেখানে দীর্ঘদিনের সমস্যার কারণে পরিণত হয়েছে।

অনেক দক্ষিণ এশিয়ার দেশ জ্বালানি সম্পদ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যেমন অপরিশোধিত তেল, কয়লা এবং খাদ্যসামগ্রী এবং ভোজ্যতেল । গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে কেউ কেউ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশটির কাছে ঋণগ্রস্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, যেখানে অন্যান্য দেশ চাপের মুখে আছে, সেখানে বাংলাদেশ কোনো গভীর অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়ার মতো বিপদের মধ্যে নেই। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আইএমএফ বলছে, জিডিপির ৩৯ শতাংশ ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ কোনো সংকটের মধ্যে নেই। এ ঋণের অনুপাত এর প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে প্রচুর অনিশ্চয়তা রয়েছে, যার প্রভাবে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় কীভাবে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ পরবর্তী দশকগুলোতে বাংলাদেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। অদক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থা বাদ দেয়া হয়, কর মওকুফ ও বৃহৎ বাজারগুলোতে ডিউটি ফ্রি সুবিধা পায় এবং নারী ও পুরুষের বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হয়। বৈদেশিক রেমিট্যান্সও পুঁজি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৯১ সাল থেকে দারিদ্র্য ৫৮.৮ শতাংশ থেকে অর্ধেক কমে ২০১৬ সালে ২৪.৩ শতাংশে নেমে আসে। সেইসঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়, যার ফলে স্বাক্ষরতা ও শিশু মৃত্যুর হারে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ২৫০০ ডলার মাথাপিছু আয় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও বেশি। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।

আশির দশকের পর থেকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রফতানি খাতে ৪ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৮০ শতাংশ অবদান রাখছে, যা দেশের পোশাক শিল্প সমিতির মতে ৫০ বিলিয়ন ডলার।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, এই উন্নতি শ্রমিকদের শোষণ ও ভয়াবহ কর্মপরিবেশের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে আছে ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের ঘটনা।

ঢাকাভিত্তিক পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভিয়েলাটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসনাত বলেন, তুলার দাম বর্তমানে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কোম্পানির ক্রেতা বেড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। এই ব্যয় আমাদের অনেক বেশি ভোগাবে।

এছাড়া বর্ধিত আমদানি ব্যয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। মুডি অ্যানালিটিক্সের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনীতিবিদ স্টিভ কোকরেনের মতে, ১৯৯৭-৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের সময় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যেহেতু খুব বেশি বিপদে পড়েনি, তাই তারা এরপর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারে মনোনিবেশ করেনি।

তবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান কখনোই পলিসিমেকিংয়ে উন্নতি করার চেষ্টা করেনি, যা বাংলাদেশ করেছে। বরং তারা বারবার আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়ার জন্য দেনদরবার করেছে, যা কখনোই নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যে তাদের স্থির করতে পারেনি।

বিশেষভাবে শ্রীলঙ্কা সংকটে পড়ার আগে থেকেই বিভিন্ন সমস্যার পথ সৃষ্টি করেছে। ২০১৯ সালে দেশটি জনগণের কর মওকুফের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বন্ড বিক্রি ও চীন থেকে প্রচুর পরিমাণে ঋণ নেয়। এই অর্থ পরবর্তীতে তারা আয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। ট্যাক্স কাটা এবং রফতানি খাত দুর্বল হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে চলেছে পাকিস্তানও।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ শিলান শাহ বলেন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সমস্যা হলো তাদের ঋণের অধিকাংশই ছিল বৈদেশিক মুদ্রায় নেয়া। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী পুঁজি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সময়োপযোগী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী কর্মক্ষেত্র এবং জিডিপির তুলনায় ঋণের হার কম থাকায় ভারতের প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। 

জামান / জামান

সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলার পর বলল তুরস্ক— আমরা নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দেব না

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ ঘোষণা ট্রাম্পের

কলকাতায় আগুনে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে

নভেম্বরে কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার অর্ধেকের বেশি তেল যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ-জ্বালানি সহায়তা নিয়ে যা বলল ভারত

তারেক রহমানের ভারত সফরে খুলতে পারে সম্পর্কের ‘নতুন দুয়ার’

ইউক্রেনকে ড্রোন সরবরাহ, যুক্তরাজ্যকে কঠোর হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা পুনর্গঠন শুরু হবে না: ট্রাম্পের জামাতা

বিশ্বজুড়ে এক বছরে রেকর্ড ৩৫০ দাতব্যকর্মী নিহত

ইরান নিয়ে দ্বিমত: দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ভাটা স্পষ্ট