খুললেও ‘আশার আলো’ দেখছেন না পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা
বিধিনিষেধ শিথিল করে আটদিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। তবে খুলে দেয়া হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে ‘আশার আলো’ দেখছেন না পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
বুধবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন হতাশার চিত্র পাওয়া গেছে।
তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ধাপে ধাপে বিধিনিষেধে প্রায় চলাচল বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তাই অনেকটাই সংকটের মুখে সড়ক পরিবহনখাত। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। এছাড়া মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো না।
যাত্রী পরিবহন করতে হবে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক। এই অবস্থায় ঈদে মানুষ কতটা গ্রামমুখী হবে, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের। তাই দূরপাল্লার গাড়ি চালিয়ে লাভের মুখ দেখা আদৌ সম্ভব হবে কি-না, সেটা নিয়ে ভাবছেন তারা।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গণপরিবহন চলাচল, দোকান-শপিংমল খুলে দেয়াসহ কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়ে চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই বুধবার দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
সায়েদাবাদে দূরপাল্লার বিভিন্ন বাসের টিকিট বিক্রি করেন মো. আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘পরিবহন লাইনের সবার অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক দিন পর গাড়ি চলবে, মালিক-শ্রমিকরাও প্রস্তুতি নিতেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই খাতের মূল দুটি সিজন দুই ঈদ। কিন্তু সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে না আহামরি কিছু হবে। কারণ পকেটে টাকা থাকলে বাড়ি যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা থাকে মানুষের। সবারই অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। ঈদ আসলেও পরিস্থিতি তো স্বাভাবিক না। আর মানুষের মনেও তো ভয় আছে করোনা নিয়ে। খুব জরুরি না হলে কেউ স্থান ত্যাগ করবে না। তাই আমগো ভাগ্যের উন্নতি হবে বলে তো মনে হয় না।’
একটি বাসের চালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এভাবে গাড়ি বন্ধ থাকলে আমরা ক্যামনে চলমু। আমাগো চলার তো রাস্তা নাই। এতদিন বন্ধের পর এক সপ্তাহ টাইম দিছে, তাও দুই সিটে একজন। কী অইব বলেন? আমগো সারা মাস গাড়ি চালাইতে দেন, আমরা একজন কইরাই যাত্রী টানমু। এটাই আমগো দাবি।’
তিনি বলেন, ‘আমগো আর কান্দাইয়েন না। আমরা দুই ছেলে, স্ত্রী আছে। বলতে গেলে এতদিন ভিক্ষা করে সংসার চালাইছি।’
বাসের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘একটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হইতেও তো কিছুটা সময় লাগে। এরমধ্যে মাত্র আটদিনের খোলা। আবার দুই সিটে যাবে একজন, কিন্তু দুই সিটের ভাড়া তো পাওয়া যাবে না। যতটা পারছি বসাইয়া বসাইয়া শ্রমিকদের বেতন দিছি। যা পরিস্থিতি তাতে খুলে দিলেও খরচ ওঠানো যাইব কিনা কে জানে।’
কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী একটি গাড়ির চালক হোসেন মিয়া বলেন, ‘ঈদের বাড়ি গেলেও ঈদের পরের দিনই আপনাকে আবার ছুটতে হবে। এরপর আবার ১৪ দিনের লকডাউন। মানুষ তো বেকায়দায় না পড়লে কোন জায়গায় যাবে না।’
বাসের সুপারভাইজার মো. নবী হোসেন বলেন, ‘গত বছর লকডাউনের সময় ১০ হাজার টাকা কিস্তি উঠাইয়া ঘর ভাড়া দিছি। সেই কিস্তি এখনও শোধ করতে পারি নাই। এরমধ্যে কাজকাম বন্ধ। লকডাউনে আমগো মরা ছাড়া উপায় নেই। এখন খুলছে প্রতিদিন ৫০০/৭০০ টাকায় ইনকাম হইব। একদিন ইনকাম হইব দুইদিন খাইতে অইব। আটদিনে কী কদ্দুন কী অইব?’
ঢাকা কেন্দুয়া রুটের একটি বাসের চালক মফিজুল ইসলাম রনির তিন মেয়ে, এক ছেলে। থাকেন নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার থেকে গাড়ি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে আমরা পুরাই বসা। এতদিন ঋণ করে কষ্ট করে চলেছি। গাড়ি খুলে দিয়েছে ভাল সিদ্ধান্ত। একদিন গাড়ি বন্ধ কোন সহযোগিতা পাই নাই আমি। সরকার বলছে সহযোগিতা করব, আমরা তো কিছুই পাইলাম না, কোন সংগঠন থেকেও কিছু পাইনি।’
এমএসএম / এমএসএম
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন
জুলাইকে ধারণ না করায় বিরোধী দল আমন্ত্রণ পেয়েও অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি
১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ১১ কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন
সারাদেশে কমতে পারে দিন-রাতের তাপমাত্রা
ফার্মেসির গোডাউনে সরকারি ভ্যাকসিন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
শেরেবাংলা নগরে সচিবালয়, ২০২৯ সালে শুরু হবে কার্যক্রম
আগামী বছর উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ
দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী
পিএসসি থেকে দুই সদস্যের পদত্যাগ
বাংলাদেশে ৩৯০ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা কানাডার