চীনের তৃণভূমির পশুপালক
উত্তর চীনের ইনারমঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হরকিন তৃণভূমি পানি ও ঘাসে সমৃদ্ধ। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য অসাধারণ। এখানকার পশুপালকরা অসংখ্য গরু ও ভেড়া লালনপালন করে। কৃষক ও পশুপালক উ ছাং শেংয়ের পরিবারও বংশ পরম্পরায় এখানে বসবাস করছে। ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালে উ ছাং শেং দু’টি কঠিন সমস্যায় পড়েন। উ ছাং শেং কিভাবে এ দু’টি কঠিন সমস্যার সমাধান করেছিলেন? চলুন, তাঁর গল্প বলি।
৪৬ বছর বয়সী উ ছাং শেং ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালে দু’টি কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হন। একটি হলো, এবারের গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাঁর পারিবারিক ভুট্টাক্ষেতের ওপর। ফলে তাঁর আয় হ্রাস পায়। তাঁর গবাদিরপশুর চারণভূমিরও ক্ষতি হয়। আরেকটি কঠিন সমস্যা ছিল, ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো। ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়টি তাঁর পরিবারের জন্য ভালো খবর ছিল। কিন্তু এতে পরিবারের ব্যয় বেড়ে যায়, যা একট সমস্যা।
গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দাও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতসংশ্লিষ্ট সমস্যায় পড়েন। গ্রামের সিপিসি কমিটি গ্রামবাসীদেরকে গবাদিপশুগুলো কাছাকাছি পাহাড়ে নিয়ে যেতে উত্সাহিত করে। সময়মতো স্থানান্তরিত করার কারণে উ ছাং শেংয়ের গবাদিপশুগুলোর ক্ষতি কম হয়। গ্রামের সিপিসি কমিটি উ ছাং শেংসহ স্থানীয় গ্রামবাসীদেরকে পশুর খাবারও সরবরাহ করে। ফলে, গ্রামবাসীদের সমস্যার সমাধান হয়।
ইনারমঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তৃণসম্পদে সমৃদ্ধ। এখানকার তৃণভূমি সংরক্ষণের জন্য বহু বছর ধরে চীন পশুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। পশু থেকে প্রাপ্ত মাংসের মান ও পশুপালকদের আয় নিশ্চিত করার জন্য পশুপালকরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতিবৃষ্টির সমস্যা সমাধানের পর উ ছাং শেং বুলপেন সংস্কার করেন এবং নতুন বুলপেন নির্মাণ করেন। এর মাধ্যমে আসন্ন শীতকালের জন্য তাঁর সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এদিকে, উ ছাং শেংয়ের ছেলে উ খাই জুন চলতি বছর হাজার কিলোমিটার দূরে হোহোট শহরে অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হন। তবে উ খাই জুন তাঁর পিতাকে নিয়ে চিন্তিত। ২০১৪ সালে পিতা কৃষিকাজ করার সময় তাঁর ডান হাত ভেঙ্গে ফেলেন। তখন থেকে উ খাই জুন পরিবারের ভারি কাজগুলো করে আসছিল। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেলে তাঁর পিতার কী হবে! পিতা হলেন তাঁর সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগের দিনগুলোয় বুদ্ধিমান উ খাই জুন প্রতিদিন ভোরে পিতার সঙ্গে পশুচারণ করতে থাকেন।
এর আগে টানা সাত বছর ভুট্টার ভালো ফলন হয়। সেজন্য উ ছাং শেং অনেক পশুখাদ্য সংরক্ষণ করতে পেরেছিলেন। তাই চলতি বছর আবহাওয়া বিরূপ হলেও, পশুখাদ্য নিয়ে তাঁর কোনো চিন্তা নেই।
এদিকে পশুবাজারে উ ছাং শেংয়ের কিছু গবাদিপশু ভালো দামে বিক্রি হয়। এতে ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রাথমিক খরচ উঠে যায়। তাঁর চিন্তা দূর হয়। তিনি বলেন, তাঁর পরিবার গরিব ছিল। সেজন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাননি। তিনি আশা করেন, তাঁর ছেলে ভালোভাবে শিক্ষা গ্রহণ করবে।
ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে উ ছাং শেং ও তাঁর স্ত্রী উ খাই জুনের দাদা, দাদি ও চাচার পরিবারকে আমন্ত্রণ জানান বিদায়ী ভোজে। তাঁরা ছেলের জন্য সবচেয়ে প্রিয় ভেড়াটি রান্না করেন। খাওয়ার সময় উ ছাং শেং মঙ্গোলীয় জাতির একটি সুন্দর লোকসংগীত গেয়ে শোনান!!
সূত্র: মুক্তা, বেইজিং(সিএমজি)।
এমএসএম / এমএসএম
ইরানের ৩ ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করল মার্কিন বাহিনী
ইরান চায় হরমুজ খোলা থাকুক, কিন্তু সেক্ষেত্রে চুক্তি হবে না : ট্রাম্প
‘বাড়াবো না’ বলেও ট্রাম্প কেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন?
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রতি পাকিস্তানের আহ্বান
ইরানের কোনো প্রতিনিধি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি
ওমান উপসাগরে ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
ওমান উপসাগরে ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারে ‘দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া’ প্রয়োজন হবে
চুক্তি না হলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে ইরানে ফের অভিযান : ট্রাম্প
সৌদির আপত্তিতে দেড় বিলিয়নের অস্ত্র চুক্তি আটকে দিল পাকিস্তান
মার্কিন অবরোধ আলোচনার অন্তরায়, ট্রাম্পকে জানাল পাকিস্তান
ভারতে আতশবাজি কারাখানায় বিস্ফোরণে ১৯ শ্রমিকের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করবে, পাকিস্তানকে বলেছে ইরান
Link Copied