জাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছিলেন নুরুল, সাভারে আছে পার্ক
অবৈধভাবে উপার্জনের টাকা দিয়ে জাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছিলেন নুরুল ইসলাম। এছাড়া সাভারে একটি পার্ক তৈরিতেও বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ২০০১ সালে টেকনাফ স্থল বন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করা নুরুল ইসলাম ৯ বছরে উপার্জন করেছেন ৪৬০ কোটি টাকা। এসব অর্থ তিনি বন্দরে দালালি, পণ্য খালাস, পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল এনে খালাসের মাধ্যমে করেছেন।
র্যাব বলছে, গ্রেপ্তার নুরুল অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ৩৭টি বাড়ি ও জমি কিনেছেন। এছাড়া ঢাকার সাভার, টেকনাফসহ বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি কিনেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি টাকা, জাল নোট ও ইয়াবাসহ তাকে আটক করে র্যাব।
একইদিন দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এলিট ফোর্স র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
মঈন বলেন, ওই চাকরি থেকে শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান তিনি। চাকরির সুবাদে বন্দরের সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে নুরুল ইসলামের। একপর্যায়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। দালালি, পণ্য খালাস, পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল এনে অল্প সময়েই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান এই কম্পিউটার অপারেটর।'
দালালিসহ অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ঢাকায় তার ছয়টি বাড়ি ও ১৩টি প্লটের মালিক তিনি। এছাড়া তার সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে সর্বমোট ৩৭টি প্লট-বাগানবাড়ি-বাড়ি রয়েছে। অবৈধভাবে তার অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।
কমান্ডার মঈন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাবের যৌথ অভিযানে মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি ২০০১ সালে টেকনাফ স্থল বন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা হারে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন। বন্দরে কর্মরত অবস্থায় তার অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারী, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালির কৌশল রপ্ত করেন। এরপর নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বন্দরে বিভিন্ন রকম দালালি সিন্ডিকেটে যুক্ত হন তিনি। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে তার আস্থাভাজন একজনকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেন।
আটক নুরুল টেকনাফ বন্দর কেন্দ্রীক দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা জানিয়ে এলিট ফোর্সটির মুখপাত্র বলেন, তার সিন্ডিকেটে ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ মালামাল খালাসে সক্রিয় ছিল। এছাড়া কাঠ, শুঁটকি মাছ, বরই আচার, মাছের আড়ালে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য নিয়ে আসতো। চক্রটি টেকনাফ বন্দর, ট্রাক স্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন-বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ করত। অবৈধ আয়ের উৎসকে ধামাচাপা দিতে তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এর মধ্যে এমএস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমএস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল স্টেট লিমিটেড এবং এমএস কানিজ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তার নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯ টি ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে তিনি জাহাজ শিল্প ও ঢাকার কাছাকাছি বিনোদন পার্কেও বিনিয়োগ করছেন। অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ঢাকায় তার ৬টি বাড়ি ও ১৩টি প্লটের মালিক তিনি। সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে সর্বমোট ৩৭টি প্লট-বাগানবাড়ি-বাড়ি রয়েছে। অবৈধভাবে তার অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।
এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চাকরির পর থেকে নুরুল ইসলাম বন্দরে গাড়ি ও জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করত, জাহাজ থেকে বিভিন্ন পণ্য খালাসের সময় কর্তৃত্ব করাসহ ভেতরে বাইরে বিভিন্নভাবে দালালি করত।
তার সঙ্গে আর কারা জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কম্পিউটার অপারেটর থাকাকালীন বন্দরের বেশিরভাগ তাকে চিনতেন এবং সবার সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ করতে সুবিধা হতো। তার সঙ্গে এক দুজন ব্যক্তি নয় অনেকেই তার কাজে সহযোগিতা করেছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কারও নাম বলেনি, পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে নাম যাবে যাবে।
কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বন্দর কেন্দ্রীক অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল। সাভারে একটি পার্ক ও বন্দরে জাহাজ কেনার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।
জাল টাকার বিষয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার নুরুলের বাসায় জাল টাকা পাওয়া গেছে। তিনি এই জাল টাকা দিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন।
প্রীতি / প্রীতি
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ : আসামিদের আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ : আসামিদের আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট
সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক ডনের জামিন মেলেনি
শিশু রামিসা হত্যা : ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির প্রস্তুতি শেষ
সবশেষ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
এমপিওভুক্তদের নতুন শর্তের বেড়াজালে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার, নেওয়া হচ্ছে আদালতে
তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর ফের গ্রেফতার
আজ ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা জেআইসি পরিদর্শনে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনাল