ঢাকা শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক ডনের জামিন মেলেনি


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২-৮-২০২৬ দুপুর ২:১৬

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১২ অগাস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এদিন ডনের পক্ষে তার আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। জামিন আবেদনে বলা হয়, হাজতি আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। রাষ্ট্র পক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ডনের জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে ৯ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান।

আবেদনে বলা হয়, আসামি ডনকে বিমানবন্দর থেকে ভোর ৫টায় আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। দীর্ঘদিন তিনি এ মামলায় পলাতক ছিলেন। আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান। আসামি জামিন পেলে মামলা তদন্তে বিঘ্নসহ চিরপলাতক হতে পারে। এমতাবস্থায় তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওইদিন ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির হেফাজতে দেওয়া হয়। 

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরো উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। 

এর আগে গত ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহ-এর মরদেহ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

সাজার বিরুদ্ধে বিদিশার আপিল, জামিন নামঞ্জুর

জুলাই অভ্যুত্থানে রামপুরায় ২৮ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য পিছিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

শিশু আছিয়া হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট

শপথ নিলেন আপিল বিভাগের নতুন বিচারপতি

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

জুলাই হত্যাযজ্ঞ : সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ১০ জন ট্রাইব্যুনালে

আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা : হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে সোমবার

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা চলছে

এজলাসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ান

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল