আগুনে ভস্মীভূত ঘর, দাঁড়িয়ে আছে শুধু সিঁড়িটি
কড়াইল বস্তির বউ বাজার এলাকার বাসিন্দা সাবিকুন্নাহার, স্বামী-স্ত্রী আর তিন সন্তান মিলে ৫ জনের সংসার তাদের। থাকতেন দ্বিতল একটি টিনশেড ঘরের নিচতলায়। সাবিকুন্নাহারের বসবাস করা বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, তবে দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটি পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া সিঁড়ি। আগুনে পুড়ে চারপাশের টিনের বেড়া ধসে ভেঙে পড়েছে, চালও পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। আগুন এমনভাবে সবকিছু গ্রাস করেছে যে, কোন ঘর কোন দিকে ছিল—বোঝারও উপায় নেই।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পোড়া কড়াইল বস্তিজুড়ে শুধুই হাহাকার। কেউ ধ্বংসস্তূপের সামনে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে, কেউ টুকটাক পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র টোকাচ্ছেন, আবার কেউ কান্নায় আহাজারি করছেন।
টিনের তৈরি এই দুইতলা ঘরের নিচতলায় গত চার বছর ধরে পরিবার নিয়ে থাকতেন সাবিকুন্নাহার। আগুনের রাতে তিনি ঘরে ছিলেন না। প্রতিবেশীদের চিৎকারে দৌড়ে এসে দেখেন আগুন ছড়িয়ে গেছে চারপাশে। তিনি বলেন, ঘরের কাছে যাওয়ার সুযোগই পাইনি। সবকিছু আগুনের ভেতর গলতে দেখছি। আমার কাপড়–চোপড়, বেড, আলমারি, বাচ্চাদের বইপত্র—কিছুই বাঁচে নাই।
আগুনের তাপে টিনগুলো মোচড় খেয়ে একদম কুঁচকে গেছে। সাবিকুন্নাহার ধ্বংসস্তূপ ঘেটে দেখালেন—একটা আধাভাঙা স্টিলের থালা আর পুড়ে যাওয়া একটি লোহার আলমারি ছাড়া কিছুই নেই। তিনি বলেন, আগুন লাগার সময়ে ঘরে শুধু আমার বাচ্চারা ছিল। আমি কাজ করতে গেছিলাম। আগুন লাগার খবরে আমার আত্মা শুকিয়ে গেছিল। তারপর ফোন করে জানতে পারি বাচ্চারা নিরাপদে বের হয়ে গেছে। কিন্তু তারা কিছুই নিয়ে যেতে পারেনি। আমি আসতে আসতে দেখি আগুন ধরে গেছে।
শফিকুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বস্তির এই অংশের প্রায় সব ঘরই আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন এমন গতিতে ছড়িয়েছে যে কয়েক মিনিটেই এক ব্লকের পর আরেক ব্লক ধরে ফেলেছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও দেরিতে এসে পৌঁছেছে। তারা আসতে আসতেই আগুন ছড়িয়ে গেছে।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ লায়লা আক্তার বলেন, আগুনের রাতটা বুঝতেই পারিনি। হঠাৎ হৈ চৈ শুনে দুই বাচ্চা নিয়ে দৌড়াইছি। পরে এসে দেখি ঘরটা আর চেনাই যায় না। যেদিক দিয়ে ঘরে ঢুকতাম, সেই দরজাটাই নাই। টিনগুলো এমন গরম ছিল, কাছে যাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, এখন আমরা শুধু একটা নিরাপদ থাকার জায়গা চাই। বাচ্চাদের নিয়ে একটু ঘুমানোর জায়গা চাই। সারারাত এখানেই বসে রাত কাটিয়েছি। বাচ্চাগুলো সারারাত ঠান্ডায় কেঁপেছে। খাবার–পানির সমস্যাও বাড়ছে।
এমএসএম / এমএসএম
জুলাই শহীদদের ত্যাগ জাতিকে স্মরণ রাখতে হবে: মির্জা ফখরুল
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর
হজের ব্যয় অন্তত ৪০ হাজার টাকা কমবে : বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থায় এগোচ্ছে সরকার : হাবিবুর রশিদ
তিন প্রতিবন্ধীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
নৌপথে বাণিজ্য বাড়াতে খালগুলোর আন্তঃসংযোগ অপরিহার্য: পানি সম্পদমন্ত্রী
আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী
ইউনেস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী