বর্বরোচিত হামলায় অঙ্গহানি হওয়া শিশু নেয়ামুলের পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা
মানবাধিকার সংগঠন “বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন” (বিএইচআরএফ) এবং বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর যৌথ উদ্যোগে, জনহপকিন্স হাসপাতাল, জাতিসংঘের আইওএম এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহায়তায় শিশু নেয়ামুলের কর্তিত পুরুষাঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যয়বহুল ও বিরল চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে অসহায় শিশুটি ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা। প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তার পুরুষাঙ্গটি রি-কনস্ট্রাকশন করা হয়েছে, যার ফলে সে এখন থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের মতো জীবন যাপন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসকগণ।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে ছিলেন বিএইচআরএফ-এর চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী এডভোকেট এলিনা খান। ২০১০ সালে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ৭ বছর বয়সী (বর্তমানে ১১ বছর) শিশু নেয়ামুলের পুরুষাঙ্গ ও একটি অন্ডকোষ কেটে ফেলে দেয় একদল দুর্বৃত্ত। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ক্ষত-বিক্ষত করার এই অমানবিক ঘটনাটি সিএনএন-এর ‘ফ্রিডম প্রজেক্ট’-এ গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আমেরিকার মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত জনহপকিন্স হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল—পেডিয়েট্রিক সার্জন ডাঃ ফ্রে স্টুয়ার্ট, প্লাস্টিক সার্জন ডাঃ রিসার্ড রেড্টে এবং পেডিয়েট্রিক ইউরোলজিস্ট ডাঃ জন গারহার্ট সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। কাতার এয়ারলাইন্স যাতায়াতের বিমান টিকিট এবং মার্কিন দম্পতি মিঃ আরাম ও তার স্ত্রী ব্রায়াংকা চিকিৎসা বহির্ভূত অন্যান্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হলে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি এ.এইচ.এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) রুল জারি করেন। মামলার বিবরণে নেয়ামুলের পিতা উমেদ আলী জানান, ইমরান ও রাসেল নামের দুই শিশু খেলার কথা বলে নেয়ামুলকে ডেকে নিয়ে গেলে আসামী শরিফুল আলম কোরবান, রমজান ও সাদ্দাম তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের জন্য তার পুরুষাঙ্গ কেটে নেয়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে র্যাব-১ তদন্তের দায়িত্ব পায়। র্যাব তদন্তের মাধ্যমে নাজমা বেগম, কাউসার, সালাউদ্দিন ও খন্দকার ওমর ফারুকের মতো মূল হোতাদের এই অপরাধ চক্রের সাথে সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করে।
চিকিৎসার প্রয়োজনে এডভোকেট এলিনা খান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহায়তায় বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন এবং জনহপকিন্স হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সমন্বয় করেন। অবশেষে গত ১০ আগস্ট ২০১২ তারিখে নেয়ামুল ও তার পিতাকে নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। গত ১৬ আগস্ট ২০১২ তারিখে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জেনেটিক্যাল অর্গান ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। সফল চিকিৎসা শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে তারা দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪, ঢাকায় বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছরের সমন্বিত প্রয়াসে একজন অসহায় শিশুর এই সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন আধুনিক চিকিৎসা ও মানবাধিকার রক্ষার ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এমএসএম / এমএসএম
চরফ্যাসন জজ কোর্টের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট হযরত আলীর সদস্যপদ ৬ মাসের জন্য স্থগিত
‘হাত মটকিয়ে দেব, যাতে সারা জীবন লিখতে না পারিস’
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা : এমপি গাজী নজরুলের ১ম স্ত্রীর জামিন
ভাইয়ের বাড়ি দখলে তুরিন আফরোজ: জেল থেকে নাড়ছেন কলকাঠি
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব
জিয়াউল-তারেক সাঈদের প্রতিবেদন জমার দিন পেছাল
শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল
পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর রিট ডিসচার্জের বিরুদ্ধে আপিল
৫ কারণে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ
এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আদালতে
মামার প্ররোচনায় এমপির সঙ্গে বিয়ে, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা
এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ