ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থ মন্ত্রণালয়ের শর্তে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা


মনজুর এ আজিজ photo মনজুর এ আজিজ
প্রকাশিত: ২২-৪-২০২৬ রাত ৯:৪২

ভর্তুকির আংশিক অর্থ ছাড়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া শর্তের বেড়াজালে সংকট দেখছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। শর্ত পালন করতে গেলে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেনা পরিশোধের জন্য সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছিল। ছাড় করা হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। ভর্তুকি ছাড়ের চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।
চিঠিতে আদানিসহ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীতে ভর্তুকি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আদানি ইতোমধ্যেই বিল পরিশোধের জন্য তাগাদাপত্র দিয়েছে। বর্তমানে আদানি পুরোমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দিচ্ছে তাতেই চাহিদা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ বন্ধ করে দিলে কি দাঁড়াবে বলা কঠিন। আমাদের হিসেব অনুযায়ী তাদের পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকার উপরে। এছাড়া ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন না থাকায় রামপাল এবং পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীতে ভর্তুকি ছাড় করা হয়নি। এতোদিন দিয়ে আসলেও এখন বিল বন্ধ করে দিলে উৎপাদন ব্যহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র দু’টি হচ্ছে কস্টবেজড ভিত্তিক। নিয়ম হচ্ছে চালু হওয়ার পর খরচ চুড়ান্ত করে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া। যার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এমন সময়ে হঠাৎ করে বিল বন্ধ করলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিল না পেলে কয়লা আমদানি করতে পারবে না, এতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিপিডিবির অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ভর্তুকি বাবদ প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেছে। চলতি অর্থবছরে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা। অন্যদিকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে লোকসান বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দায় দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের ওই চিঠি ২১ এপ্রিল ইস্যু করা হয়েছে। চিঠিতে অনুমোদনহীন ওই দুই কেন্দ্রের অনুমোদন নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিআর পাওয়ার জেন জামালপুর এবং আরপিসিএল-নোরিনকো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভর্তুকি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
বিপিডিবি সুত্র জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ পড়ছে ১১.৮৩ টাকা, আর বিক্রি করছি ৬.৯৯ টাকায় (পাইকারি)। ওই অর্থবছরে ১ লাখ ১ হাজার ১৮৭ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে ৫.৯৯ টাকা হারে ঘাটতির কারণে বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছে। ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরও বিপিডিবির লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা। নতুন করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এখন উৎপাদন খরচ পড়ছে ১২.০৫ টাকার মতো। এতে প্রতি ইউনিটে পাইকারি দামে লোকসান যাচ্ছে ৫ টাকার মতো।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী প্রতি ইউনিটে যদি ১ টাকা ঘাটতি হয় তাহলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়। ইউনিটে ৫ টাকা লোকসান মানে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি লোকসান। চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৪ হাজার মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ ১৩ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজেটে প্রস্তাবিত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরও প্রায় ১৮ হাজার থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির হতে পারে।
নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এখনই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল দেশে ৩৭ কোটি ইউনিট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩৩ কোটি ইউনিট। অর্থাৎ ৪ কোটি ইউনিট লোডশেডিং ছিল।যদিও সরকারি এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান অনেক। গ্রামাঞ্চলে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নতুন করে যদি আদানি, পায়রা ও রামপালের মতো বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে যায়, সেই সংকট সামাল দেওয়ার মতো বিকল্প নেই বিপিডিবির হাতে।
বিপিডিবি প্রক্কলন অনুযায়ী, এপ্রিলে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয় ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থেকে আসবে ৬৮৪০ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক (পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ি, বাঁশখালী, বরিশাল, বড়পুকুরিয়া এবং আরএনপিএল) বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫৯৫১ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৩২১৩ মেগাওয়াট, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪০ মেগাওয়াট, বায়ু ও সৌর থেকে ২০ মেগাওয়াট, আদানি থেকে ১৪৩৬ মেগাওয়াট এবং ভারত সরকার থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট আমদানির কথা বলা হয়েছে।
বিপিডিবির প্রক্কলন অনুযায়ী ১২০০ মিলিয়ন ঘনফুট পেলেও প্রায় অর্ধেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বেকার। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ১২ হাজার ২০৪ মেগাওয়াট। সে হিসেবে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট সিস্টেমে থাকছে না। এর বাইরেও আরও দেড় থেকে ২ হাজার কমে গেছে গ্যাস সংকটে।
এ প্রসঙ্গে বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটাতো সংকট হবেই। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি, একটা সমাধানতো বের করতেই হবে।

আরমান / আরমান

সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে ওয়ালটন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২%, মূল্যস্ফীতি ১০.৯% হতে পারে: আইএমএফ

মোংলা ইপিজেডে ২১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

ব্যাংককে চলছে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা, জ্বালানি খাত ও বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

সংসারের হিসাব মেলাতে নিত্যদিনের খরচে কাটছাঁট

​৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ পেতে ব্যাংককে আইএমএফের সঙ্গে দর-কষাকষিতে বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

চার কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন

রিকশাচালক-মুচিরাও লেনদেন করতে পারবেন বাংলা কিউআর দিয়ে: গভর্নর

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ