ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

ছড়িয়ে পড়েছে ‘নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি’ জাল, হুমকিতে দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য


মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি photo মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮-৮-২০২৬ দুপুর ১:৩২

চলছে বর্ষা মৌসুম। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিভিন্ন নদী,খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দেশি প্রজাতির মাছ। নিষিদ্ধ রিং ‘চায়না দুয়ারি’ ও কারেন্ট জালের ব্যবহারে দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দেশি মাছের ভান্ডার। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু মাছই নয়, এ জালের কারণে খালের উপকারী ব্যাঙ,পোকা-মাকড় ও মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, চায়না দুয়ারি জাল দেশে নিষিদ্ধ। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও মোহনগঞ্জে বিভিন্ন একাকায় বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে এই জাল।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন নদী,খাল ও বিলের অগভীর অংশে অর্ধেক পানিতে ডুবিয়ে এবং অর্ধেক পারে রেখে চায়না দুয়ারি জাল পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব জাল দিনের পর দিন পানিতে ফেলে রাখা হচ্ছে। সব ইউনিয়নে প্রায় সব নদী, খাল-বিল ও হাওরেই দেশি মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারেও উঠছে না আগের মতো দেশি সুস্বাদু মাছ।

মাছের পাশাপাশি পুরো জলজ পরিবেশই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জানা যায়, আগে নতুন পানি এলেই নদী-খাল-বিলে শোল, গজার, টেংরা, পাবদা, কৈ, বোয়াল, আইড়, মাগুর, শিং, পুঁটি, বাইম, চিংড়ি, বেলেসহ নানা ধরনের দেশি মাছ পাওয়া যেত। এখন সেই মাছের দেখা খুব কমই মেলে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা, ডিমওয়ালা মা-মাছ, এমনকি মাছের ডিমও নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, লোহার রিংয়ের সঙ্গে মিহি সুতা দিয়ে ঘন ঘন গিঁট দিয়ে তৈরি এ জাল পানির নিচে পেতে রাখা হয়। মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী এতে ঢুকলে সহজে বের হতে পারে না। ফলে মাছ শিকারের পাশাপাশি ছোট মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা পড়ে।

মৎস্য-সংশ্লিষ্টরা জানান, চায়না দুয়ারি জাল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এতে মাছের পাশাপাশি শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙ, কাঁকড়া, সাপ, কুচিয়া ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। দীর্ঘদিন এ জালের ব্যবহার চলতে থাকলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তেতুলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বার্কো রহমান বলেন, চায়না দুয়ারি জাল জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ জালে মাছের বাচ্চা, পোনা এমনকি মাছের ডিমও আটকা পড়ে। ফলে অনেক প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী জহর বলেন, জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ কাজে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা গেলে এর ব্যবহার কমবে এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা পাবে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. অনিক রহমান বলেন, চায়না দুয়ারি জাল পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। জনসাধারণকে এ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ জাল অপসারণে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

এমএসএম / এমএসএম

মির্জাগঞ্জে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণায় তোলপাড়

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, নির্যাতনের অভিযোগ

মুসলিম সেজে বিয়ে, দুই সন্তান রেখে ফের হিন্দু হয়ে আরেক বিয়ে

নরসিংদীতে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত

ধুনটে বিস্ফোরক মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

অব‌শে‌ষে ক্লোজ হলেন সাভারের বিতর্কিত এসআই নেয়ামত উল্লাহ

ডেমরায় গৃহবধূর প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং রাজমিস্ত্রিকে মারধর।

গুরুদাসপুরে প্রতিবন্ধীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ

দুই পদে এক কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাতের অভিযোগ

উল্লাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নকল কীটনাশক তৈরি ,জরিমানাসহ ১ বছরের কারাদণ্ড

পঞ্চগড়ে চা-বাগান দখলের অভিযোগে বিধবাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি, থানায় লিখিত অভিযোগ

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেলেন ডা: ভীম্মদেব মন্ডল