ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকারের ৬ মাস : ১২ সূচকে স্বস্তি, ১৯টিতে গভীর শঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪-৮-২০২৬ দুপুর ১:৩৩

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে। অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও রিজার্ভসহ ১২টি খাতে অগ্রগতি অর্জিত হলেও, মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু ঋণসহ বাকি ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে তীব্র অবনতি ও গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আজ (সোমবার) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত “সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা” শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সিপিডি বলছে, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্ণ হলেও দেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত গতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়ে ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, রাজস্ব আদায়ে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং শিল্প খাতে দীর্ঘায়িত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নতুন বিনিয়োগ থমকে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মূল্যস্ফীতি, তারল্য সংকট ও অস্থিতিশীল বাজারের যে চ্যালেঞ্জ ছিল, ছয় মাস পরও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

সিপিডির গবেষণায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান ম্যাক্রো অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সূচকে অগ্রগতি দেখা গেলেও ১৯টি সূচকে অবনতি ঘটেছে।

বিগত ৬ মাসের অর্থনীতি ও সুশাসনের পারফর্ম্যান্স নিয়ে মূল্যায়ন তুলে ধরে সিপিডির দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান দুটো প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিগত ৬ মাসের সার্বিক পর্যালোচনায় এই দুটির একটিতেও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং দুই প্রত্যাশাতেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি। বিগত সরকারের কাছ থেকে বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। টাকা সংকট, ব্যাংকিং খাতের করুণ দশা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে ছিল। তবে এগুলো সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি দেখা যায়নি।

 

সুশাসন ও প্রশাসনিক দুর্বলতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, দুর্নীতি বন্ধ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট এবং ‘মব কালচার’ বন্ধ করাই ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়ন করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও দেশে মব ভায়োলেন্স অব্যাহত রয়েছে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি। গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় তৈরি আইনে নানা ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। বিশেষ করে, আইন ভঙ্গকারীকে দিয়ে অনুসন্ধান করানোর কারণে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কি কি সংকট পেয়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট একীভূত দলিল বা নথিপত্র তৈরি করেনি। ফলে সরকারের মুখে সংকটের কথা শোনা গেলেও তার তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুপস্থিত।

অবশ্য সরকারের কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এমপিদের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, এআই দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়গুলো স্বস্তিদায়ক। তবে সার্বিকভাবে অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করতে হলে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের বদলে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির দিকে যেতে হবে।

aliul / aliul

চড়া সবজির বাজার, শিম ২০০ বেগুনের কেজি ১৬০!

সাধ আর সাধ্য মিলছে না ইলিশের বাজারে

সিনোবাংলায় স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে বিএসইসির সম্মতি

ডলার ছাড়াই টাকায় আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধের সুযোগ

পোশাক খাতের সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রত্যাশা

কানাডা-রাশিয়া-সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার

জরিমানা মওকুফ চেয়ে বিএসইসির কাছে প্রাইম ফাইন্যান্সের আবেদন

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

কারণ ছাড়াই বাড়ছে দুই ফান্ডের ইউনিটের দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার

নতুন ওয়েবসাইট চালু করল ডিএসই

আলোচনা ছাড়াই এক বছরে বিকডার তিন দফা চার্জ বৃদ্ধি