ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কানাডা-রাশিয়া-সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩-৯-২০২৬ দুপুর ৩:৫৫

কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় ও জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন ও রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। সার আমদানির অর্থ পরিশোধ করা হবে কৃষি ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ বাজেট থেকে।

কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন এমওপি

বৈঠকে কানাডার কানাডিয়ান কমার্সিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে এমওপি সার আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় লটে ৪০ হাজার টন এবং চতুর্থ লটে আরও ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে।

প্রতিটি লটের জন্য ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ দুই লটে মোট ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। তৃতীয় ও চতুর্থ লটের প্রতিটির সার আমদানির মূল্য ১ কোটি ৫৩ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা।

বিএডিসি কানাডা থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছিল। আগের চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় কমিটির অনুমোদন নিয়ে গত ১৩ আগস্ট চুক্তিটি পুনরায় নবায়ন করা হয়। চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (প্রাইসিং ফরমুলা) অনুসরণ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে তৃতীয় ও চতুর্থ লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে কানাডা থেকে ৬ লাখ টন এমওপি সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) এ পর্যন্ত কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

রাশিয়া থেকে আরও ৩৫ হাজার টন এমওপি

এদিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে ৭ম লটে ৩৫ হাজার (+১০ শতাংশ) টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। এর বিপরীতে সারটির মোট আমদানি মূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।

রাশিয়া থেকে এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। পূর্ববর্তী চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় গত ২৪ মে চুক্তিটি পুনরায় নবায়ন করা হয়। চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফরমুলা অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৭ম লটের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার টন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটি থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের মা’আদেন থেকে ২০২৬ সালের চতুর্থ লটে ৪০ হাজার (+১০ শতাংশ)  টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে সরকারের ব্যয় হবে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সারের মোট আমদানি মূল্য ৩ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি টন ডিএপি সারের দাম ৮৮৫ মার্কিন ডলার।

বিএডিসি সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করে থাকে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডিএপি সার আমদানির জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বিএডিসি ও সৌদি আরবের মা’আদেন-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফরমুলা অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে চতুর্থ লটের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি প্রত্যাশামূলক অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৯১ হাজার টন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৬ লাখ টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে।

মোট ব্যয় প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা

চারটি প্রস্তাবের মধ্যে কানাডা থেকে দুই লটে ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা। রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি আমদানিতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা। এসব সার আমদানির অর্থ কৃষি ভর্তুকি বাবদ বাজেট থেকে ব্যয় করা হবে।

aliul / aliul

ডলার ছাড়াই টাকায় আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধের সুযোগ

পোশাক খাতের সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রত্যাশা

কানাডা-রাশিয়া-সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার

জরিমানা মওকুফ চেয়ে বিএসইসির কাছে প্রাইম ফাইন্যান্সের আবেদন

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

কারণ ছাড়াই বাড়ছে দুই ফান্ডের ইউনিটের দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার

নতুন ওয়েবসাইট চালু করল ডিএসই

আলোচনা ছাড়াই এক বছরে বিকডার তিন দফা চার্জ বৃদ্ধি

হাইকোর্টের আদেশে ফিরে পেল বামার লাইসেন্স, একীভূতের সিদ্ধান্ত স্থগিত

সহজে মিলবে বৈদেশিক মুদ্রা, বাড়বে বাণিজ্যে অর্থায়নের সুযোগ

টাকা তুলতে আসেননি অর্ধেক গ্রাহক, নতুন আমানত এলো ২৭০০ কোটি