ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ব সংকটের উত্তাপ নিয়ে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ অধিবেশন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক  photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২-৯-২০২৬ বিকাল ৬:২২

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে ভাষণ দেবেন বিশ্বের প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক খলিলুর রহমান। আজ থেকে শুরু হওয়া এ বিতর্কই মূল অধিবেশনের প্রধান আকর্ষণ। সাধারণ পরিষদে কী ঘটতে যাচ্ছে, কারা বক্তব্য দেবেন এবং অধিবেশনের মূল নজর কোন বিষয়গুলোতে থাকবে; চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই বিষয়ে।

• অধিবেশনের সময়সূচি
সাধারণ বিতর্কের মূল পর্ব আজ (মঙ্গলবার) শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত চলবে। রোববার একদিন বিরতি দিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে।

প্রতিদিন দুটি অধিবেশনে আলোচনা চলবে। প্রথম অধিবেশন চলবে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে বিকেল ৩টায়, যা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদের বক্তব্য ১৫ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানানো হলেও অনেক বিশ্বনেতাই তা মানেন না। তালিকাভুক্ত সব বক্তার বক্তব্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক চলবে।

• কে, কখন ভাষণ দেবেন?

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে এই বিতর্কের সূচনা করবেন। মহাসচিব হিসেবে এটিই হতে যাচ্ছে তার বিদায়ী ভাষণ। এরপর সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিতর্কের উদ্বোধন করবেন।

ঐতিহ্যগতভাবে ব্রাজিল সব সময় প্রথম বক্তা হিসেবে ভাষণ দেয়। ১৯৫৫ সালে অন্য কোনো দেশ প্রথম বক্তব্য দিতে রাজি না হওয়ায় ব্রাজিল স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছিল; সেই থেকে এ প্রথার শুরু। আয়োজক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে বক্তব্য দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাজিলের পর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট বক্তব্য দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যান্য সদস্যদেশের ভাষণের ক্রম নির্ধারিত হয় তাদের প্রতিনিধিদলের প্রধানের পদমর্যাদা (রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান নাকি মন্ত্রী), তাদের পছন্দের সময় এবং ভৌগোলিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে। অ-সদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ভ্যাটিকান সিটি, ফিলিস্তিন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

• কোথায় হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিতর্ক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ইস্ট নদীর তীরে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে নির্মিত এই সুউচ্চ ভবন জাতিসংঘের নিজস্ব মালিকানাধীন এবং এটি আন্তর্জাতিক মুক্ত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্ব কূটনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ভবনটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে পরিষদের অধিবেশন যে সব সময় নিউইয়র্কেই অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নয়। ইউএনজিএর প্রথম ছয়টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইউরোপের বিভিন্ন শহরে। এর সূচনা হয়েছিল লন্ডনে, পরবর্তীতে অধিবেশন বসেছিল প্যারিসেও। তবে ১৯৫২ সাল থেকে সাধারণ পরিষদের প্রায় সব কয়েকটি অধিবেশন নিউইয়র্কের সদর দপ্তরেই আয়োজিত হয়ে আসছে।

ব্যতিক্রমী ঘটনাও রয়েছে। ১৯৮৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অধিবেশন স্থানান্তরিত করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজন করা হয়।

চলতি বছরও টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটাভুটির মাধ্যমে অনুমোদনের পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সরাসরি উপস্থিত না থেকে পূর্ব-রেকর্ড করা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ‘সদর দপ্তর চুক্তির’ সরাসরি লঙ্ঘন। নিয়ম অনুযায়ী, জাতিসংঘের বার্ষিক সম্মেলন ও অন্যান্য কূটনৈতিক কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার জন্য যেকোনো দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পূর্ণ কূটনৈতিক সুবিধাসহ নিউইয়র্ক সফরের সুযোগ দিতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য।

• এবারের এজেন্ডা ও মূল বিষয়বস্তু
এবারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘আস্থা পুনর্বহাল ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ।’

নেতাদের ভাষণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পদক্ষেপ ও উন্নয়ন অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণার ৪০তম বার্ষিকী; ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি; ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রস্তুতি; ২৮ সেপ্টেম্বর বর্ণবাদবিরোধী ‘ডারবান ঘোষণা’র ২৫তম বার্ষিকী এবং ২৯ সেপ্টেম্বর পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলবিষয়ক বৈঠক।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং জাতিসংঘের অর্থসংকটের বিষয়টি ভাষণে বড় জায়গাজুড়ে থাকবে। এর পাশাপাশি আগামী ৩১ ডিসেম্বর গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হতে চলায় তার উত্তরসূরি নির্বাচনের দৌড় নিয়েও কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

• কে হচ্ছেন পরবর্তী জাতিসংঘ প্রধান?
সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিয়োগ দিলেও চলতি সপ্তাহে এ সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটি চালিয়ে যাচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাদের সুপারিশ প্রয়োজন।

১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের ৯ জন মহাসচিবের সবাই ছিলেন পুরুষ। তবে এবার নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশ সংস্থায় প্রথম কোনো নারী মহাসচিব দেখার তাগিদ দিয়েছে। এই দৌড়ে এখন পর্যন্ত সাতজন প্রার্থী টিকে আছেন; যাদের মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ :

• রেবেকা গ্রিনস্প্যান (কোস্টারিকা) : আঙ্কটাডের মহাসচিব ও কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট

• ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বার্কেট (গায়ানা) : জাতিসংঘে গায়ানার স্থায়ী প্রতিনিধি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

• আইভন বাকি (ইকুয়েডর) : কূটনীতিক ও সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী

• মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা (ইকুয়েডর) : সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

• রাফায়েল গ্রোসি (আর্জেন্টিনা) : আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক

•  ম্যাকি সাল (সেনেগাল) : সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট

• ওলারা ওতুন্নু (উগান্ডা) : সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল

সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১টির সমর্থন পাওয়ায় চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট শনিবার প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান (৯টি সমর্থন, ৫টি বিরোধিতা, ১টি নিরপেক্ষ)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন গায়ানার রদ্রিগেজ-বার্কেট (৮টি সমর্থন, ৬টি বিরোধিতা, ১টি নিরপেক্ষ)। চূড়ান্ত সুপারিশের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো এড়িয়ে যেকোনো এক প্রার্থীর নাম নিশ্চিত করতে হবে।

• জাতিসংঘের সদস্যপদ ও কাঠামো
১৯৪৫ সালে ৫১টি সদস্যদেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা জাতিসংঘের বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১৯৩। এ ছাড়া ফিলিস্তিন ও ভ্যাটিকান সিটি পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে। বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার রক্ষা ও সংঘাত প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় এটি দিন দিন ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সমালোচকরা।

সাধারণ পরিষদে প্রতিটি দেশের ভোট ক্ষমতা সমান এবং এর সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত ‘পরামর্শমূলক’। অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত আইনিভাবে বাধ্যবাধকতামূলক এবং এর পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।

aliul / aliul

ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর ব্যাপক ড্রোন হামলা হুথিদের

বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন তেলের দাম

বিশ্ব সংকটের উত্তাপ নিয়ে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ অধিবেশন

দোকানেও যাওয়া যাবে না, ইরানিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ

ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় চালু সৌদি

সাংবাদিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু যুক্তরাষ্ট্রে

মক্কা প্রতিরক্ষা জোট নিয়ে নিউইয়র্কে সৌদি-পাকিস্তানের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

টেলি যোগাযোগ বিভ্রাট : যুক্তরাষ্ট্রে বিলম্বিত-বাতিল প্রায় ৭ হাজার ফ্লাইট

ইয়েমেনে চলছে তীব্র লড়াই, দুদিনে নিহত ১৫০ জনের বেশি

হুথিদের দমনে মার্কিন বাহিনীর অভিযান শেষ মুহূর্তে থামালেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে দিলেও তার মিডিয়া টিমকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির ভূমিধস বিজয়