যেভাবে ইরাক দখল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ হামলা হয়। এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের ইরাক গণবিধ্বংসী অস্ত্র দিয়েছে এমন শঙ্কা তৈরি হয় মার্কিনিদের মধ্যে।
যদিও ১৯৯১ সালের গালফ যুদ্ধের পর জাতিসংঘ ইরাককে পারমাণবিক, বায়োলোজিক্যাল এবং ক্যামিকেল অস্ত্র ধ্বংস করে দিতে চাপ দেয়। এরপর থেকে ইরাক এসব কার্যক্রম থেকে সরে আসতে থাকে।
কিন্তু তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ দাবি করতে থাকেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইন তখনো এসব মারণাস্ত্র তৈরি অব্যাহত রেখেছিলেন।
তার চাপের মুখে ২০০২ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল একটি রেজ্যুলেশন পাস করে, ইরাক যদি তাদের অস্ত্র নিয়ে তদন্ত করতে না দেয় তাহলে ‘কঠোর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। কিন্তু জাতিসংঘ ইরাকে হামলার কোনো ম্যান্ডেড দেয়নি।
তবে ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে, এমন অভিযোগ করতেই থাকে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল থেকে হামলার ম্যান্ডেট না পাওয়ার পর ‘কোয়ালিশন অব উইলিং’ নামে একটি সামরিক জোট করে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাক দখলে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা।
কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কোনো অস্তিত্ব পায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কারণে ইরাক জড়িয়ে যায় রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে। যা কেড়ে নেয় লাখ লাখ মানুষের প্রাণ। ভঙ্গুর করে দেয় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশটির অর্থনীতি।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি দখলদারিত্ব ছিল ৮ বছর। এ সময়টায় তারা কয়েক হাজার সেনা হারায়। সঙ্গে খরচ হয় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
হামলার দিন জর্জ বুশ জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে বলেন, ইরাকে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ শুরু হয়েছে।
এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য সেনা, যুক্তরাজ্যের ৪৫ হাজার সেনা, অস্ট্রেলিয়ার ২ হাজার সেনা ও পোল্যান্ডের ২০০ সেনা অংশ নেয়। এছাড়া আরও প্রায় ৩৫টি দেশ লজিস্টিক সহায়তা দেয় সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য।
আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য এবং জোটের সামরিক শক্তি বেশি হওয়ায় মাত্র ২০ দিন পর ২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল ইরাকি সেনারা পরাজিত হয় এবং বাগদাদের পতন হয়। প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেইন লুকিয়ে যান। তবে ওই বছরের ডিসেম্বরে তাকে আটক করা হয়। ২০০৬ সালে ইরাকের নতুন সরকার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
সেই যে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরাকে প্রবেশ করে এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর পর তারা বের হয়েছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিনিরা তাদের সর্বশেষ সেনাকে ইরাক থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
aliul / aliul
হুথিদের বড় হামলা রুখে দেওয়ার দাবি ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর
যেভাবে ইরাক দখল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র
ইরাক থেকে সেনাদের স্ক্রু পর্যন্ত নিয়ে আসতে বলেছি
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ, তা সত্ত্বেও বেঁচে আছেন নারী
‘এমন কাপড় পরে দেশে যাবেন না’, ইশারায় দেখালেন গলা কেটে দেবে
হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি
১৭৪ যাত্রীর জীবন বাঁচানো ভারতীয় পাইলটকে নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত: মোদি
হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিজের নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘ঘটকালি সেবা’ চালু করল সিঙ্গাপুর
ইরানের নতুন প্রস্তাবের জবাব দিলো যুক্তরাষ্ট্র
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন নিহত