ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

৯ মাস ধরে বিছানায় অভিনয়শিল্পী মিজান


বিনোদন ডেস্ক photo বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০-১০-২০২৬ দুপুর ৪:৫৬

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মস্তিষ্কজনিত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ অভিনয়শিল্পী ও কাস্টিং ডিরেক্টর মিজানুর রহমান মিজান। তিনবার স্ট্রোক করার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।
গত নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, কথাও বলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার। এমতাবস্থায় চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার বড় ছেলে মেহরাজ হোসেন মিরাজ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে বাবার শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের সংকটের কথা জানান মিরাজ। তার অভিযোগ, চলচ্চিত্রের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করলেও অসুস্থতার এই কঠিন সময়ে মিজানুর রহমানের পাশে সেভাবে কাউকে পাওয়া যায়নি। কেউ তার খোঁজ নেয়নি।

মিরাজ বলেন, ‘আমার আব্বু চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অনেক কিছুই করেছেন কিন্তু সে অনুযায়ী তাকে কোনো মূলায়নই করা হয়নি।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও কেউ তার খোঁজ নেয়নি। এফডিসি থেকে কিংবা শিল্পী সমিতি; কাউকেই পাশে পাইনি। উনি তিনবার স্ট্রোক করেন এরপর ২০২২ সাল থেকে একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ব্রেন হ্যামারেজ হয়েছে, প্রায় সময়ই রক্তক্ষরণ হয়। মাঝে অনেক দিন ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি ছিলেন।
প্রায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আমরা সেসব সামলে উঠতে পারছি না।’
বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে মিরাজ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী তার বাবা। নিজের কোনো কাজই এখন আর করতে পারছেন না তিনি। 

মিরাজ বলেন, ‘নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে আব্বু একদম বিছানায় পড়া। গত সাত মাস ধরে উনি একদম অচলাবস্থায় আছেন। হাঁটাচলা করতে পারছেন না, এমনকি কথাও বলতে পারছেন না। উনাকে নল দিয়ে খাওয়াতে হয়, এমনকি ওষুধও নল দিয়ে দিতে হচ্ছে। বিশ মিনিটের বেশি পস্রাব,পায়খানা চেপে রাখতে পারেন না। সবকিছু বিছানাতেই করেন।’

মিজানুর রহমানের দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে। তবে চিকিৎসার ব্যয় ও পারিবারিক সংকটের কারণে সেই ব্যবস্থা করতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেছেন মিরাজ।

তিনি বলেন, ‘আব্বুর খুব দ্রুত সার্জারি করা প্রয়োজন। আমরা কোনোভাবেই কোনোকিছু সামলে উঠতে পারছি না। সবার সহযোগিতা চাইছি আমার আব্বুকে সুস্থ করে তোলার জন্য। এমনকি সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছি। আমার আব্বু চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য এত কিছু করেছেন, তার পাশে তো সবারই থাকা উচিত।’

শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগে অভিনেতা জয় চৌধুরী কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমানের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মিরাজ। সে সময় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাননি বলে অভিযোগ তার।

মিরাজ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে উনি এসেছিলেন। কয়েকজন ইউটিউবার সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। জানিয়েছিলেন কোনো সহযোগিতা লাগলে উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এরপর উনার সঙ্গে আমি অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। প্রায় তিন মাস যোগাযোগ করার পর তিনি অল্প কিছু টাকা দিয়েছিলেন। এটাকে তো সহযোগিতা বলে না।’

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য সিনেমায় কাজ করেছেন মিজানুর রহমান মিজান। রাজ্জাক-শাবানার সময় থেকে শুরু করে শাকিব খানের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা হাজারেরও বেশি বলে জানিয়েছেন মিরাজ। অভিনয়ের পাশাপাশি কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মিজান। বহু মানুষকে চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। শাকিব খান যে বছর শিল্পী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন, সে সময় নবগঠিত সহশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মিজানুর রহমান। 

অভিনয়ের বাইরে ২০১১ সালে ‘আমরাও মানুষ’ শিরোনামে একটি সিনেমা প্রযোজনা করেছিলেন মিজান। প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ করলেও সেই ছবিটি আর মুক্তি দিতে পারেননি। 

দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র অঙ্গনে অবদান রাখা এই অভিনয়শিল্পীর অসুস্থতার খবরে তার চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ছেলে মিরাজ। এখন বাবার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই তাদের পরিবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

শান্তা / এমএসএম