ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

মাশরুম বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজন সমন্বিত বিপণনব্যবস্থা


টি আই এস বিউটি photo টি আই এস বিউটি
প্রকাশিত: ২৭-১০-২০২৬ দুপুর ২:৫৫

সহজলভ্য শীতল সংরক্ষণব্যবস্থা, নিয়মিত ক্রেতা এবং কার্যকর বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসাও সম্প্রসারণ করা সম্ভব 

পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ মাশরুম চাষে আগ্রহ বাড়ছে উদ্যোক্তাদের। তাজা মাশরুমের পাশাপাশি শুকনা মাশরুম, মাশরুমের গুঁড়া, স্যুপ ও আচারসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করছেন তারা। তবে উৎপাদনের পর দ্রুত পচনশীলতা, পর্যাপ্ত সংরক্ষণব্যবস্থার অভাব, বাজারসংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি এ খাতের সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ও মাশরুম সেন্টারে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে মাশরুম চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারা জানান, উৎপাদিত মাশরুম দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া ও তাপমাত্রার ওঠা-নামায় উৎপাদন এবং সংরক্ষণ-দুই ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তাদের মতে, সহজলভ্য শীতল সংরক্ষণব্যবস্থা, নিয়মিত ক্রেতা এবং কার্যকর বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা

গেলে এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসাও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

মাশরুম উদ্যোক্তা লাকি আক্তার কুলসুম ও মো. সুজন আলী দীর্ঘদিন ধরে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অভিজ্ঞতায়, শুধু মাশরুম উৎপাদন করলেই ব্যবসায় সফল হওয়া যায় না; উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত সংরক্ষণ, মান বজায় রাখা এবং সময়মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান
কাঁকনের সহযোগিতা তাঁদের এগিয়ে চলার পথে সহায়ক হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উৎপাদিত মাশরুম সংরক্ষণের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের জন্য একটি সাধারণ ফ্রিজের ব্যবস্থা করেছেন। এতে মাশরুম সংরক্ষণে কিছুটা সহায়তা মিলছে।

তবে উদ্যোক্তাদের মতে, একটি সাধারণ ফ্রিজ সাময়িকভাবে সহায়ক হলেও উৎপাদন বাড়লে বৃহত্তর পরিসরে সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত শীতলীকরণব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিশেষ করে মাশরুমের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে একদিকে পণ্যের সংকট, অন্যদিকে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উৎপাদক, পাইকারি ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা, সুপারশপ, রেস্তোরাঁ ও অনলাইন বিক্রেতাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

তাজা মাশরুমের পাশাপাশি বাড়ছে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের সম্ভাবনা: উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে তাজা ও শুকনা মাশরুমের পাশাপাশি মাশরুম পাউডার, গ্যানোডার্মা বা ঋষি মাশরুম, এর গুঁড়া এবং ব্ল‍্যাক মাশরুম বা কান মাশরুমের মতো পণ্য নিয়েও কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাশরুম দিয়ে স্যুপ, আচারসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে তাজা মাশ-রুম দ্রুত বিক্রি করতে না পারার ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে শুকানো, গুঁড়া তৈরি, প্যাকেটজাতকরণ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়া, মান নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে ভোক্তার আস্থা বাড়বে এবং বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ঋষি বা গ্যানোডার্মা মাশরুমের বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও উঠে এসেছে উদ্যোক্তাদের আলোচনায়। তাদের মতে, এ ধরনের পণ্যের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিতি ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ঋষি মাশরুমের কোনো নির্দিষ্ট রোগ সারানোর দাবি যথাযথ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া প্রচার করা উচিত নয়। পণ্যের প্রকৃতি, ব্যবহারবিধি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে তুলে ধরাই হতে পারে বাজার সম্প্রসারণের কার্যকর পথ।

বাজারসংযোগ বাড়াতে ডিজিটাল প্রচারের ওপর গুরুত্ব: উদ্যোক্তারা মনে করেন, মাশরুমের পুষ্টিগুণ, রান্নার পদ্ধতি এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানো গেলে চাহিদা বাড়তে পারে। এ জন্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, অনলাইন অর্ডার গ্রহণ, রান্নাবিষয়ক ভিডিও, খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী এবং গণমাধ্যমে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

বিশেষ করে গৃহিণীদের কাছে সহজ রেসিপি পৌঁছে দেওয়া, রেস্তোরার সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি করা এবং স্থানীয় বাজারে নিয়মিত বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে মাশরুমের ক্রেতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদকদের জন্য নির্ভরযোগ্য ক্রেতার তালিকা, পাইকারি বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনলাইন বিপণনের প্রশিক্ষণও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের লক্ষ্য পুষ্টি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন 'মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ' প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সরকারি প্রকল্প-তথ্য অনুযায়ী, মাশরুম উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি, মানসম্পন্ন মাশরুম ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের উৎপাদনপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থান এবং পুষ্টি উন্নয়ন এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। প্রকল্পের পরিকল্পনায় ৮০০ জন মাশরুম উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ৮০০টি 'মাশরুম পল্লী' সম্প্রসারণের লক্ষ্যও রয়েছে।

প্রকল্পটির পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে মাশরুম খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল কতটা উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা মূল্যায়নে উৎপাদন, বিক্রি, আয়, কর্মসংস্থান এবং বাজারসংযোগের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজন টেকসই বাজারব্যবস্থা: সাভারের উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বলছে, মাশ-রুম খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। উৎপাদনের সঙ্গে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারজাতকরণের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প খরচে সংরক্ষণসুবিধা, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ব্যবসার জায়গা, প্যাকেজিং সহায়তা এবং নিয়মিত ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ যোগ তৈরি করা গেলে এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মাশরুমভিত্তিক খাদ্যপণ্যের প্রচার, সু-পারশপ ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অনলাইন বিপণনকে সহজ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার বাড়বে, অন্যদিকে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে মাশরুমের ব্যবহারও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মাশরুম চাষকে টেকসই ও লাভজনক পেশায় রূপ দিতে হলে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কার্যকর বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সহায়তা জোরদার হলে সাভারের মাশরুম খাত দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

এমএসএম / এমএসএম

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৩৮৯ মামলা

মাশরুম বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজন সমন্বিত বিপণনব্যবস্থা

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত: প্রধানমন্ত্রী

গফরগাঁওয়ে চলন্ত অবস্থায় তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন

ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা শুরু করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে: তথ্য উপদেষ্টা

প্রচারের উত্তাপ শেষে নীরব ঠাকুরগাঁও, এখন ভোটের লড়াইয়ের অপেক্ষা

ভুয়া বিল করে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলায় ১৪ জন

স্পেনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

২২ বছরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২৯৫৭

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন তারেক রহমান