ঢাকা রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন : টিয়ারশেলে আতঙ্কিত কোমলমতি শিশু ও অভিভাবকরা


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১-১১-২০২৬ দুপুর ২:৫৮

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দ্বিতীয় দিনের আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের নিক্ষিপ্ত টিয়ারশেলের ঝাঁজালো ধোঁয়ায় আকস্মিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে মিরপুরের বিভিন্ন স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি শিশু ও তাদের অভিভাবকরা। ছুটির সময় আকস্মিক এমন রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় আতঙ্কিত হয় তারা।

বাতাসে টিয়ারশেলের তীব্র ঝাঁজ ছড়িয়ে পড়লে অনেকেরই চোখ জ্বালা করতে শুরু করে এবং নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। চোখের সামনে সন্তানের এমন আতঙ্ক দেখে অনেক অভিভাবককে চরম অসহায়ত্ব বোধ করতে দেখা যায়। 

রোববার (০১ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায় মিরপুর ১১ নম্বর পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকা ও এর আশপাশে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠি হাতে সাধারণ মানুষকেও সড়ক থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। হঠাৎ পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানে ওই এলাকার ফুটপাত ও আশপাশে থাকা উৎসুক জনতা ও সাধারণ পথচারীরাও আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। বন্ধ হয়ে যায় আশেপাশের সব দোকানপাট ও বিপণিবিতান। একপর্যায়ে মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় পুলিশ একবার চক্কর দিয়ে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার পর অবশেষে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও সাধারণ মানুষের মনে রয়ে যায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার রেশ।

মিরপুর ১১ নম্বরের হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া সুমাইয়া আক্তারের বাবা ইমতিয়াজ জানান, দুপুরে স্কুল ছুটির বেল পড়ার আগে থেকেই মিরপুর ১১-তে ঝামেলা শুরু হয়। এক পর্যায়ে হঠাৎ চারপাশ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া আর গলায় দম বন্ধ হয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমার বাচ্চাটা ভয়ে শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠছিল আর বলছিল, আব্বু আমার চোখ জ্বলছে, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে পুলিশ আর শ্রমিকদের ছোটাছুটি আর টিয়ারশেলের শব্দ। পরিস্থিতি দেখে আমি বাচ্চাকে নিয়ে আবারও স্কুলের ভেতরে চলে যাই। আন্দোলনের দাবি যাই থাকুক, ছোট ছোট বাচ্চাদের তো কোনো দোষ নেই বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

মো. সাদেকুল ইসলাম রূপনগরের বাসিন্দা। মিরপুর ১১, হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ুয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাফিনকে নিতে আসেন। আতঙ্কিত কণ্ঠে সাদেকুল জানান, স্কুলগেটে দাঁড়ানো ছিলাম ছেলেকে নেওয়ার জন্য। হঠাৎ বিকট শব্দে সাউন্ড গ্রেনেড ফুটল আর চারদিক টিয়ারশেলের ঝাঁজালো ধোঁয়ায় ভরে গেল। চোখের সামনে দেখলাম অভিভাবকেরা যার যার সন্তানকে কোলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন। পুলিশের লাঠিচার্জ আর টিয়ারশেলের কারণে মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কোনোমতে বাচ্চার হাত ধরে এক গলিতে আশ্রয় নিই। এখনও চোখ, নাক ও মুখমণ্ডল জ্বালাপোড়া করছে বলে জানান। 

aliul / aliul

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত ১১ আ. লীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করায় ১৮১০ মামলা

হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৪১৭ জন, আরো ২ জনের মৃত্যু

‘ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাতে কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়’

তাহসিফ হত্যা মামলা: দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন : টিয়ারশেলে আতঙ্কিত কোমলমতি শিশু ও অভিভাবকরা

তাহসিফের কথিত ‘বান্ধবী’ দিশা গ্রেপ্তার, সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ

মিরপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলা, আহত চালক

ঢাকায় ই-রিকশা চলবে আটটি জোনে, নিবন্ধন শুরু কাল থেকে

প্রধানমন্ত্রী গ্রিডের বিদ্যুৎ নিচ্ছেন না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে ৫ মেট্রোস্টেশন বন্ধ

শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক : পুলিশ

শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব নয়, এবার দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি