যেসব অভ্যাস পালনে মিলবে বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি

বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ নানা কাণে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনে ভুগছে। বিষণ্ণতা এক কথায় বলা যায় নীরব ঘাতক। তবে বিষণ্ণতা এক ধরণের মানসিক রোগ। যা আমাদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মকে বাধাগ্রস্ত করে।
ধীরে ধীরে বিষণ্ণতা থেকে মানুষ আত্মঘাতী পর্যন্ত হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সুখ-দুঃখ মিলিয়ে জীবনকে যদি সহজভাবে মেনে নেয়া যায় তাহলেই মিলবে বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়াই মন খারাপ এবং কষ্ট লাগার অনুভূতি হলে তাকে বিষণ্ণতা বলে। এই সমস্যা নিয়ে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে কিছু বিষয় চর্চা করতে পারলেই বেরিয়ে আসা যায় এ সমস্যা থেকে।
যে নিয়মগুলো চর্চা করলেই মুক্তি মিলবে এই ভয়ানক ব্যাধি থেকে-
-নানা যৌক্তিক অযৌক্তিক কারণে বিষণ্ণতা হতে পারে। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে নিপীড়নের শিকার, আর্থিক, সামাজিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে বঞ্চিত হলে, মনের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকলে, ঘনিষ্ঠ কারো মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতা, জেনেটিক বা শারীরিক অসুস্থতা, বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব বা সামাজিক সহযোগিতার অভাব, বৈবাহিক সমস্যা বা সম্পর্কগত সমস্যা ইত্যাদি। আর এ কারণটি দূর করলে বিষণ্ণতাও চলে যেতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব এসব কারণ দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
-লক্ষ নির্ধারণ করতে হবে বাস্তবতার সঙ্গে সামজস্য রেখে।
-চিন্তার মধ্যে পরিবর্তন দরকার। বিষাক্ত চিন্তা, ব্যর্থ চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তা, অহেতুক চিন্তা, ভয়ের চিন্তা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।, বরং শান্ত থাকা, ইতিবাচক হওয়া, অন্যকে নয় নিজেকে বদলাতে হবে।
-সুখ-দুঃখ দুটোই জীবনের অংশ। দুটোকেই মেনে নিয়ে চলতে হবে। জীবনের সঙ্গে এ ব্যপার দুটা থাকবেই। সবার জীবনেই সুখ দুঃখ আছে।
-নিজের কাউন্সেলিং নিজেকেই করা দরকার। পরের দিন পুনরাবৃত্তি যেন না হয় তার প্রতি লক্ষ্য রেখে নতুনভাবে শুরু করা দরকার।
- মন আমাদের দাস। তাই মনকে যেভাবে আমরা পরিচালনা করবো মন সেভাবেই চলবে।
-আমি যা আমি তাই। ধৈর্য ও সহনশীল হলে সফলতা আসবেই।
-এক্সসেপ্ট ও রিজেক্ট এর হিসেবটা জানা থাকলে কোন ডিপ্রেশনই আসবে না।
-সব বোঝা আল্লাহকে সমর্পণ করে দিয়ে মুক্ত মনে থাকতে পারলে ডিপ্রেশন আর কখোনই আপনাকে ছুতে পারবেনা।
-বাহ্যিক সুখ ক্ষণস্থায়ী, সেই জন্য এই সুখে লালায়িত না-হয়ে আন্তরিক সুখের সন্ধানে নিয়োজিত থাকা উচিত।
-নিজের পছন্দমতো সবকিছু সব সময় হবে এমন আশা করা উচিত নয়। ইগোকে ব্রেক করে সবকিছুকে মেনে নেওয়ার অভ্যাস রাখুন।
- টিভি, ইন্টারনেট, সেল ফোন ডিপ্রেশন সৃষ্টি করে সেই জন্য নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এসবের ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় জীবনটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
-বিষণ্ণতার কারণে অনিদ্রায় অনেকেই ভুগে থাকেন। অনেকের রাতে ঘুমানোই খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিষণ্ণতা দূর করার জন্য ভালো ঘুম খুবই প্রয়োজন। বেশি রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান। যতটা সম্ভব সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
-এলোমেলো জীবনে বিষণ্ণতার প্রকোপ বেড়ে যায়। জীবনকে একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসুন। কারণ বিষণ্ণতা আপনার স্বাভাবিক কাজকর্মের নিয়মকে বদলে দেয়। প্রাত্যহিক জীবন অনেকটা এলোমেলো হয়ে পড়ে। তাই কাজগুলোকে একটা ছকে বাঁধুন এবং সঠিক সময়ে করুন। দৈনন্দিন কাজের রুটিন মেনে চলুন।
-বিষণ্ণ থাকলে সবচেয়ে কঠিক বিষয় হলো কোনো কাজ শুরু করা। মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়াম হলো সবচেয়ে ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্ক থেকে ভালো অনুভূতির হরমোন নিঃসৃত হয়।
-বিষণ্ণতার সময় স্বাভাবিক খাবার পাল্টে ফেলেন অনেকেই। খাবারের মাত্রায় যেমন বেশি-কম হয় তেমন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব ঠিক রাখতে। অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুড, জাংক ফুড এড়িয়ে খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
প্রীতি / প্রীতি

দিনের বেলায় কাজের ফাঁকে ঘুম আসে? জানুন মুক্তির উপায়

তিল ভর্তা তৈরির সহজ রেসিপি

কোন মধু স্বাস্থ্যের পক্ষে বেশি উপকারী, চেনার উপায় কী?

মনে প্রশান্তি চান? করতে হবে এই ৫ কাজ

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে যেসব খাবার

খালি পেটে রসুন খেলে কী হয়?

হঠাৎ জ্বর? সেরে উঠতে যা করবেন

ড্রাগন ফল কারা খাবেন, দৈনিক কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ রোধ করবে যেসব খাবার

তালের পায়েস তৈরির রেসিপি

মাথার ত্বকে ব্রণ হলে কী করবেন?

কফির সঙ্গে কী কী মিশিয়ে খেলে দ্রুত ফল মিলবে
