৫০টির অধিক বিয়ে করে লাপাত্তা প্রতারক আওয়াল
এম এ আওয়াল এক বিশ্ব প্রতারকের নাম, ছাত্রজীবন থেকেই যার ব্যবসা প্রতারণা। একই সঙ্গে তিনি নারী লোভী। পিতার অবাধ্য সন্তান হিসেবে তার পিতা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেপুরের মল্লিকপাড়ার মৃত আব্দুর রশিদ এবং সাহিদা বেগমের সন্তান এই বাটপার আওয়াল। ছাত্রজীবনে অন্যের বউকে ভাগিয়ে আনার জন্য তার পিতা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেন। সেই থেকেই প্রতারণার মাধ্যমে আওয়ালের জীবন শুরু। মেহেরপুর থেকে অন্যের বউকে ভাগিয়ে (দুই সন্তানের জননী) নিয়ে বিয়ে করে সারাজীবন নির্যাতন ও অবহেলায় মধ্যে রেখেছেন ওই স্ত্রীকে। ওই স্ত্রীর ঘরে তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। সন্তান জন্মের পর এই প্রতারক হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যান, ফলে বাচ্চাদের মানুষ করার জন্য সংগ্রাম করতে হয় মাকে। স্বল্প শিক্ষিত এই প্রতারক নিজেকে কখনো ডাক্তার আবারা কখনো কেমিষ্ট হিসেবে পরিচয় দেন। বহুরূপী প্রতারক এম এ আওয়াল প্রতারণার জন্য নিজের নাম পরিবর্তন করে সরকার আলমগীর কবীর পরিচয় দেন।
দৈনিক সকালের সময়ে জমা দেয়া জীবন বৃত্তান্তে তার ঠিকানা ১৯৫, রহমান ম্যানশন, ফকিরের পুল, ঢাকা হলেও ভোটার আইডি কার্ডে তার বর্তমান ঠিকানায় উল্লেখ আছে ভাটারা। স্থায়ী ঠিকানা মেহেরপুরের মল্লিকপাড়া হলেও ভোটার আইডি কার্ডে ঠিকানা আছে কুষ্টিয়ায় কোর্টপাড়া, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া। ক্ষণে ক্ষণে ঠিকানা পরিবর্তন এবং মোবাইল সিম পরিবর্তন করা তার নিত্য অভ্যাস। আর এসব তিনি করেন প্রতারণা করার কৌশল হিসেবে। নিজেকে ডাক্তার, কেমিষ্ট, সাংবাদিক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ বলে দাবি করলেও এই প্রতারকের কোনো ঠিকানা নেই। ঠিকানাবিহীন ও কর্মহীন আপাদমস্তক প্রতারক আওয়াল। তিনি যেখানে গেছেন এবং যার সঙ্গে মিশেছেন তার ক্ষতি করেই ছেড়েছেন।
নিজেকে কেমিষ্ট পরিচয় দিয়ে মিটফোর্ড থেকে কেমিক্যাল কিনে ফেনসিডিল তৈরি করে কোটি কোটি টাকার স্বপ্ন দেখিয়ে মানিকগঞ্জের অনেকের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়েছেন। এই প্রতারণা ধরা পড়ার পর মানিকগঞ্জের ফেনসিডিল ব্যবসার পার্টনাররা শরীরের চামড়া পর্র্যন্ত তুলে দিয়েছে বাটপার আওয়ালের।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সত্য, ইত্যাদির ভেঁপু বাজালেও তার জীবনে ভালো কাজের লেশমাত্র নেই। প্রতারণার জন্য মার খেয়ে অভাবের তাড়নায় কিছুদিন ভিক্ষা করেছেন এই প্রতারক আওয়াল। জেল খেটেছেন কয়েকবার। প্রতারণার জন্য অনেক মানুষ তাকে খুঁজে বেড়ান। মানুষ তার চরিত্র বুঝে ফেললে তিনি প্রতারণা ব্যবসা বাদ দিয়ে জীবন-জীবিকার জন্য মিটফোর্ড থেকে কেমিক্যাল সংগ্রহ করে ফেনসিডিলের সঙ্গে মিশিয়ে নতুন করে বোতলজাত করে রাজধানীর শ্যামলী, কাকরাইল, মতিঝিল এলাকায় বিক্রি করে যাচ্ছেন এই মাদক ব্যবসায়ী। তিনি এখন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিয়ে করার অভিনব কৌশল জানেন প্রতারক আওয়াল। বয়স ষাটের উপরে হলেও বিয়ে করে প্রতারণা করা তার নেশা। কোনো মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ছলে-বলে সর্বস্ব লুট করা তার নেশা। এক্ষেত্রে তিনি নিজেকে পরিচয় দেন- এই পৃথিবীতে তার কেউ নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মা-বাবাকে হারিয়েছেন বলে মানুষের কাছে বলে বেড়ান। এমন কথা বলে মানুষের সহানুভূতি আদায় করে বাসা ভাড়া করে নিজেকে ব্যাচেলর পরিচয় দিয়ে রাজধানী, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ময়মনসিংহসহ সারাদেশে ৫০টির মতো বিয়ে করেছেন এই বিশ্ব প্রতারক এম এ আওয়াল ওরফে সরকার আলমগীর কবীর। বিয়ে করার পর নিজের বাচ্চাদের প্রতি কোনো দায়িত্বই পালন করেন না এই প্রতারক।
দৈনিক সকালের সময় পত্রিকা অফিসে তার বিয়ে করা ১০ নারীর সাক্ষাৎকার সংরক্ষিত আছে। তার মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের সলেহা, বরগুনার সাথী, ময়মনসিংহের মাধবী, সাভারের অনিকের মা রয়েছেন। তাছাড়া কয়েকজন নাম প্রকাশ না করতে চাওয়ায় এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতারক আওয়ালের এসব কুকীর্তি এবং জীবন কাহিনী জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলগুলোতে অচিরেই তুলে ধরা হবে। ইতোমধ্যে তার নামে সাইবার ক্রাইমে মামলাও হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট
সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক ডনের জামিন মেলেনি
শিশু রামিসা হত্যা : ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির প্রস্তুতি শেষ
সবশেষ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
এমপিওভুক্তদের নতুন শর্তের বেড়াজালে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তার, নেওয়া হচ্ছে আদালতে
তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর ফের গ্রেফতার
আজ ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা জেআইসি পরিদর্শনে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনাল
সাদ্দাম-ইনানকে ফোনে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের
সাদ্দাম-ইনানকে ফোনে হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের