যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও প্রশংসা অর্জন করেছে রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জন্ম থেকে স্বাধীনতার চেতনায় স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের সবকিছুই সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম । মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি । ভারতে অনেকেই গিয়েছিলেন । কিন্তু অনেকে অস্ত্র হাতে নেননি। আমরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি। বেঁচে আছি বলে গাজী। মারা গেলে বলতো শহীদ। কোনদিন স্বপ্নও দেখিনি, কোনদিন চিন্তাও করিনি, আমার পিতামাতা কখনো আল্লাহর কাছে দোয়া ও করেননি তাদের ছেলে রাষ্ট্রপতি হবেন। তারা প্রার্থনা করেছেন তাদের ছেলে মানুষ হোক।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সক্রিয় উপদেষ্টা ছিলাম।যতটুকু নিরপেক্ষ ততটুকুই থাকতে হবে। যতটুকু সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্য হয়। আমার বুকের মধ্যে লালিত স্বাধীনতার চেতনা থেকে বিচ্যুত হতে পারি সেটা তো হতে পারে না । মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু সরকার একাত্তরের গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিল। কিন্তু পঁচাত্তরের পর অবৈধ সামরিক সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল । মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক দালালদের দলগুলোকে রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিল। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে এবং শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ও কার্যকর করে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও প্রশংসা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আর্থ-সামাজিক ও তথ্যপ্রযুক্তির নানা সূচকে বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করেছি আমরা। এই অগ্রযাত্রার পথে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল মৌলবাদ ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্ব এবং জঙ্গীবাদের প্রতি তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণেই জঙ্গীবাদ দমনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। কেবল সরকারের সাফল্যই নয়, জঙ্গীবাদ দমনে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজ পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার ভিত্তিতে যে অবদান রেখেছে, তাও অনুকরণীয়।
তিনি আরো বলেন, নির্মূল কমিটির ৮ম জাতীয় সম্মেলনে আমি অনেক প্রতিভাবান তরুণ মুখ দেখতে পাচ্ছি। তরুণদের প্রতি আমি আহ্বান জানাবো, আপনারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ুন, বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও আদর্শ সম্পর্কে জানুন। আপনাদের মননে, বোধে, জীবনাচরণে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে লালন করুন। ডিজিটাল মাধ্যমকে আপনারা ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করুন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর দর্শন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বোধকে। আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন। বিশ্বের কাছে তুলে ধরুন বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সহনশীল ও মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আগামী দিনগুলিতেও 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'র অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক সমাজ গড়ে তুলুন - এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৮ম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন কাজী মুকুল বলেন, বাংলাদেশ গড়ে ত লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হচ্ছে তোরা এর আলোকে উজ্জীবিত করবার জন্য আমাদের এই মঞ্চ সম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রত্ন জাতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নারী সমাজের প্রতিনিধি প্রতিনিধি বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আসন গ্রহণ করে বলেছেন।
বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সরকারের সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংস্থাটি কাজ করছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিযে দাবি তুলেছিল , আমাদের রাষ্ট্রপতি তার নেতৃত্বে কমিশন গঠন করেছিলেন । নির্মূল কমিটি সে তদন্তে সহযোগিতা করেছিল। সাহাবুদ্দিন কমিশন প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলাম।শাহরিয়ার কবির বলেছেন, বাংলাদেশ সংবিধানকে মৌলবাদী অসম্প্রদায়িকতার সংবিধান করেছেন।
আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে আমি এই সম্মেলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসেছি । সারা বিশ্বের নন্দিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি । তিনি আমাদের তৃতীয় লিঙ্গ বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেয়া আমাদেরকে সামাজিক সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করেছেন। সুনন্দ প্রিয় বলেন, একটা সংখ্যালঘু কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।
নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান করেছিলেন। তাকে হত্যার পর সংবিধান পরিবর্তন করে সাম্প্রদায়িক সংবিধান করা হয়। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে নেতৃত্ব দিয়েছে নির্মূল কমিটি। ধর্ম নিরপেক্ষ মানবিক, সমতাভিত্তিক সমাজ আমরা গড়ে তুলতে চাই।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দক্ষিণ এশিয়ার গণ আন্দোলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক , বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সুনন্দ প্রিয়, তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী, আদিবাসী মুক্তি মোচার সভাপতি যোগেন্দ্র নাথ সরেন, খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রধানমন্ত্রী স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি বাণী পাঠ করেন। রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয় শহীদ সন্তান শমী কায়সার ও আসিফ মুনীর। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন শহীদ সন্তান অধ্যাপক ডা.নুজহাত চৌধুরী।
এমএসএম / এমএসএম

৬০ দিন আগে তফসিল, ভোট ছাড়া কিছু ভাবছি না: ইসি সচিব

নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় আছে র্যাব : মহাপরিচালক

রোডম্যাপ ঘোষণা: সংলাপ ও পোস্টাল ভোট নিয়ে ইসির যত পরিকল্পনা

বিশ্বের প্রথম এইডস টিকা তৈরি করছে রাশিয়া

দেশের ৩ স্থলবন্দর বন্ধ ও একটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

সেপ্টেম্বরে নতুন দলের নিবন্ধন, হবে সংলাপ

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে লতিফ সিদ্দিকী

সিইসি-মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক দুপুরে

দুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

৪ কারণে ভেঙেছিল চট্টগ্রামের সেই ব্রিজ, তদন্ত কমিটির ৪ সুপারিশ

কমিটি প্রত্যাখ্যান, ৫ দফা দিলেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা
