ডিপ্রেশনের মারাত্মক ধরন ও এর লক্ষণসমূহ
ডিপ্রেশন একটি ব্যাধির নাম। এটি কমবেশি সবার কাছেই পরিচিত। প্রত্যেকের জীবনেই ভালো বা খারাপ দুটো সময়ই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে অনেকের ক্ষেত্রে জীবনের কিছু কিছু ঘটনা সব স্বপ্ন ভেঙে দেয়। যার ফলে ওই ব্যক্তি আর নিজেকে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারেন না। তলিয়ে যান এক অন্ধকার বিষণ্নতায়। হয়ে পরেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
অনেকেই নিজের অজান্তেই হতাশা নামক এই ব্যাধি নিয়ে প্রতিদিন লড়াই করছেন। যা প্রাথমিক অবস্থায় দূর করতে না পারলে একসময় হতাশা আরও মারাত্মক ব্যাধিতে রূপ ধারণ করে।
ডিপ্রেশনের কয়েকটি ধরন ও এর লক্ষণসমূহ
বিষণ্নতা যেভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে: হতাশা প্রত্যেককে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, বিভিন্ন উপসর্গ দেখাতে পারে এবং এক একটির নিরাময় প্রক্রিয়াও ভিন্নরকম হতে পারে। দু’জনের সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ এবং বিষণ্নতার লক্ষণ থাকতে পারে।
৬ ধরনের বিষণ্নতা এবং লক্ষণসমূহ
মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার: মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (এমডিডি) যা ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন নামেও পরিচিত। এটি সবচেয়ে সাধারণ ডিপ্রেশনের ধরন। ধরুন কোনো ব্যক্তি ভালো চাকরি করেন, সাজানো গোছানো একটি পরিবার, সন্তান সবই আছে তারপরও তিনি এমডিডি’তে ভুগতে পারেন। কখনও কখনও মানুষের হতাশ বোধ করার সুস্পষ্ট কারণও থাকে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তারা হতাশায় ভুগছেন না।
ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের কয়েকটি লক্ষণ
কোনো কিছুই উপভোগ করেন না
ওজনের পরিবর্তন
ঘুমের ধরনে পরিবর্তন
ক্লান্তি
মূল্যহীনতা এবং অপরাধবোধের অনুভূতি
কাজে মনোনিবেশে অসুবিধা
মৃত্যু এবং আত্মহত্যার চিন্তা
ডাইসথিমিয়া বা পার্সিসটেন্ট ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (পিডিডি)
দুই বছর ধরে যদি কেউ কোনো বিষণ্নতার ঘটনায় ভুগে থাকেন তাকে বলা হয় ডাইসথিমিয়া বা পার্সিসেন্টেন্ট ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার। এটি হতাশার আরও দীর্ঘস্থায়ী একটি রূপ।
এই রোগের কারণে ব্যক্তির পক্ষে দৈনন্দিন কাজকর্ম করা বা অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক টেনে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা।
এর লক্ষণগুলো গুরুতর হতে পারে। যেমন-
গভীর দুঃখ বা হতাশা
কম আত্মসম্মান বা অপ্রতুলতার অনুভূতি
সবকিছুতেই আগ্রহের অভাব
ক্ষুধা পরিবর্তন
ঘুমের ধরনে পরিবর্তন
অ্যানার্জি কমে যাওয়া
মনোযোগ এবং স্মৃতি সমস্যা
সামাজিক প্রত্যাহার
প্রসবোত্তর বিষণ্নতা বা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (পিপিডি)
গর্ভাবস্থা সব নারীর জীবনেই আনন্দ বয়ে আনে। তবে এ সময় নারীর শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এ কারণে মেজাজ পরিবর্তন হতে থাকে বারবার। একজন নারী গর্ভাবস্থার শুরুতে বা সন্তান জন্মের পরে হতাশায় ভুগতে পারেন। একে প্রসবোত্তর বিষণ্নতা বলা হয়। প্রসবোত্তর বিষণ্নতা গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এর লক্ষণগুলো হলো
মেজাজ খিটখিটে থাকা
দুঃখবোধ করা
মেজাজ দ্রুত পরিবর্তন
সামাজিক প্রত্যাহার
সন্তানের যত্ন নিতে অনীহা
ক্ষুধা পরিবর্তন হওয়া
অসহায় এবং নিরাশ বোধ করা
উদ্বেগ এবং আতঙ্ক বোধ করা
নিজেকে বা সন্তানকে আঘাত করার প্রবণতা
আত্মহত্যার চিন্তা
ম্যানিক ডিপ্রেশন বা বাইপোলার ডিসঅর্ডার
বাইপোলার ডিপ্রেশন একটি মেজাজ পরিবর্তন সংক্রান্ত ব্যাধি। এতে আক্রান্ত রোগীর মেজাজে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্তরা দুঃখবোধ করলেই মেজাজে পরিবর্তন আসে। এমনকি দিনের পর দিন হতাশায় কাটে রোগীর জীবন। এর লক্ষণগুলো হলো-
দুঃখ ও শূন্যতার অনুভূতি
শক্তির অভাব
ক্লান্তি
ঘুমের সমস্যা
মাঝে মাছে শক্তি বেড়ে যাওয়া
খিটখিটে ভাব
আত্মবিশ্বাস হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়া
অ্যাটিপিক্যাল ডিপ্রেশন (এডি)
এই ধরনের হতাশা বেশ সাধারণ। এটি অনেকটা নিরব ঘাতকের মতো। রোগী নিজেও অনেক সময় টের পান না তিনি হতাশায় ভুগছেন। আবার অনেকে টের পেলেও অন্যরা যাতে বুঝতে না পারেন এজন্য রোগী চিন্তিত থাকেন। এই রোগীরা দুঃখিত নাও হতে পারেন এবং বিভিন্ন সময়ে তারা প্রফুল্ল থাকতে পারেন। এ ধরনের বিষণ্নতার লক্ষণগুলো হলো-
অতিরিক্ত খাওয়া বা ওজন বৃদ্ধি
অতিরিক্ত ঘুম
ক্লান্তি বা দুর্বলতা
প্রত্যাখ্যাত হলে সহ্য করতে না পারা
উগ্র মেজাজ
দুর্বল শরীর
ব্যথা ও যন্ত্রণায় ভোগা
সিজনাল এফেকটিভ ডিসর্ডার (এসএডি)
ঋতুভেদেও বিষণ্নতা হতে পারে। একজন ব্যক্তি বছরের একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে বিষণ্ন হতে পারেন। পরবর্তীতে আবার এ সমস্যা ঠিক হয়ে যায়। মৌসুমি সংবেদনশীল ব্যাধি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শীতকালে ঘটে। আবার শীতকাল চলে গেলে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। এ ব্যাধির লক্ষণগুলো হলো-
সামাজিক প্রত্যাহার
অতিরিক্ত ঘুম
ওজন বৃদ্ধি
দুঃখিত, আশাহীন বা মূল্যহীন বোধ করা
প্রাথমিক অবস্থায় যদি আপনি অনুভব করেন যে আপনি হতাশায় ভুগছেন; তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হন। আর সেটা না করলে এসব ব্যাধি একসময় মারাত্মক রুপ ধারণ করতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রীতি / প্রীতি
নিটোরে ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক: ১১ বছরের শিশুর সফল ‘টোটাল ফিমার রিপ্লেসমেন্ট’
ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২
ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৪৩
হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৯২
ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৫৪
ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক লাখ ছাড়াল
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছুঁইছুঁই
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৪৯ জনের
ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬০
আজও ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৯৬
ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৮৯