সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ে নৈরাজ্য যেন থামছেই না!
নতুন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলেও সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খুচরা পর্যায়ে তা ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকে রাজনৈতিক দলের তকমা ব্যবহার করে এলপিজি গ্রাহকদের পকেট কাটছে। সরকারি সংস্থাগুলোও নির্বিকার থাকায় এ নৈরাজ্য যেন থামছেই না।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি কিনতে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করছেন অসাধু ব্যবসায়িরা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃস্টি ও অসাধু ব্যবসায়িদের এ ধরণের আচরনে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভোক্তাদের অভিযোগ, দোকানিরা বলছেন সরবরাহ কম, তাই বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই ঘাটতির কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং ‘প্যানিক বায়িং’-এর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তারা বলছেন, কোম্পানি থেকে রেট বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজির এলপিজিতে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বাড়তি দাম দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে। সরকারি দামে আমরাই এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারি না।
লালবাগের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালেও ২১৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনেছি। গত মাসে ১৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। সরকারি রেট তো আরও কম। সরকার নির্ধারিত দামে কোনোদিন সিলিন্ডার কিনতে পারি না। সব সময় ২০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়। তাহলে দাম নির্ধারণের দরকার কী!
উত্তরা এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবী আইনুল হক জানান, তিন-চার দোকান ঘুরে কোথাও কম দামে সিলিন্ডার পেলাম না। ২২০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হলো। তবে প্রশ্ন হচ্ছে? শুধু সিলিন্ডারেই যদি দুই হাজারের বেশি চলে যায়, তাহলে নিম্ন-মধ্যবৃত্তরা সংসার চালাবে কীভাবে। তাদেরতো অভাব লেগেই থাকবে।
এ বিষয়ে একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি সমন্বয়হীনতা ও নজরদারির ঘাটতির ফল।
আজিমপুরের এলপিজি খুচরা ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে এলপিজির সরবরাহ কম এজন্য দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে আমাদের। তাই বিক্রিও বেশি দামে করছি। সরবরাহ কম নাকি বেশি এসব ওপরের খবর আমরা জানি না। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২২০০ টাকা। এর কম নেই। বাজারে গ্যাস কম এজন্য দাম নাকি কিছুটা বাড়ছে।
এলপিজি ব্যবসায়ী আমানত উল্লাহ বলেন, কোম্পানি থেকে রেট বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজির এলপিজিতে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বাড়তি দাম দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে। সরকারি দামে আমরাই এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে পারি না। আগে তো ১৫০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হতো। গতকাল হঠাৎ দাম বাড়ানো হয়েছে। এজন্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মার্চ মাসে ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজির সাপ্লাই হয়েছে। এটি অন্য মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। সাপ্লাই নিয়ে টেনশনের কিছু নেই। তিনি বলেন, প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই জেলা প্রশাসক, ভোক্তা অধিদপ্তরকে জানিয়ে দিই। দাম যাতে বেশি নিতে না পারে সেজন্য লোয়াবও সক্রিয়। দাম বাড়ার বিষয়টি আমাদের মনিটরে আছে। তবে উৎসাহী কিছু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দাম থেকে বেশি রাখলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা খতিয়ে দেখব।
এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শামসুল আলম বলেন, এসব অনিয়ম প্রতিরোধ করার দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। তারা এখন পর্যন্ত একজনেরও লাইসেন্স বাতিল করেনি। প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিদপ্তর এ সব প্রতিষ্ঠান যেখানে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে তার মানে সরকার নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। আমরা বিইআরসির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়ে রেখেছি, তাদের আমরা বয়কট করেছি। এখন সরকার সে জায়গায় পরিবর্তন আনেনি যেসব অলিগার্কে (গুটিকয়েক সম্পদশালী ব্যবসায়ীর একটি গোষ্ঠী) পরিণত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এ প্রক্রিয়াটা আরও বেশি হয়েছে। তারা এসব অবস্থাকে উসকে দিয়েছে এবং অসাধু বাজার ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত করেছে। এজন্য সরকারকে দ্বায়িত্বশীল হতে হবে। দোষিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, এখনো যদি সরকার না বোঝে লোক বদলিয়ে এসবের প্রতিকার করতে হবে। এসব প্রতিকার করার দায়িত্ব সরকারের। মানে প্রতিযোগিতা কমিশন, বিইআরসি, ভোক্তা অধিদপ্তর, বিএসটিআই এরা সবাই সবার জায়গা থেকে এগুলো প্রোটেক্ট করে তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। বাজার থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের উৎখাত করতে হবে। দরকার হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে লাইসেন্স নতুন করে দিতে হবে। এই ব্যবসা কারও ব্যক্তিগত কোনো ব্যবসা না। পৈতৃক ব্যবসাও না। এই ব্যবসা করার জন্য রাষ্ট্র তাদের দাসখত লিখে ব্যবসা করতে দেয়নি যে, তারা যত খুশি দাম বাড়াবে, ইচ্ছামতো বিক্রি করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা নেবে না। আমি মনে করি, সরকারকে এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে জনগণের প্রতি দেয়া রাজনৈতিক ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হবে।
Aminur / Aminur
সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ে নৈরাজ্য যেন থামছেই না!
সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
টানা চারবার বাড়ল সোনার দাম
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জরুরি চাহিদা পূরণে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল কিনছে সরকার
সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা
দিনে দুদফায় সোনার দাম বাড়ল ৬৫৯০ টাকা
এবার বাড়ল সোনার দাম
মুরগির বাজার চড়া, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু-খাসি
কমতির দিকে সবজির দাম, বাজারে স্বস্তি
চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ
ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ৯৭.৭৯ শতাংশ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ