বিএনপি নেতার আঘাতে গর্ভপাত গর্ভবতীর, বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ছাগলে সবজি খাওয়াকে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে ফেরদৌস মিয়া(৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় ওই গৃহবধূর বাবা-মা ও ভাইকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আজ শুক্রবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গত বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পালগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
আর ভুক্তভোগী গৃহবধূ আশা আক্তার (২১) সুয়াইর গ্রামের সালমান শাহ'র স্ত্রী। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা দিলখুশ মিয়ার দেওয়া অভিযোগের পর অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ফেরদৌসকে আটক করে পুলিশ। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ আশা আক্তার তার বাবার বাড়ি পালগাঁও গ্রামে অবস্থান করছিলেন। গত বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে আশা আক্তারের ভাই জুয়েল মিয়ার একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘুরছিল। ছাগলকে কামড় দিতে পারে এসব নিয়ে ফেরদৌস মিয়া তাদের বকাঝকা করেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমে জুয়েল মিয়াকে পিটিয়ে জখম ফেরদৌস ও তার লোকজন। পরে তার বাবা দিলখুশ ও মা সালেমা আক্তার এগিয়ে গেলে তাদেরকেও বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ সময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে আশা আক্তার বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তার পেটে লাথি মারে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় আশা আক্তারের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান- রক্তক্ষরণে তার গর্ভপাত হয়েছে। বর্তমানে আশা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া দিলখুশ মিয়া, সালেমা ও জুয়েল মিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর বাবা দিলখুশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়াকে আটক করলেও কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় বিএনপির নেতারা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তারা বিষয়টির বিচার দলীয়ভাবে করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী আশা আক্তার বলেন, আমার ভাইকে মারধর করছে দেখে তাকে বাঁচতে যাই। এসময় ফেরদৌস মিয়া আমার পেটে লাথি মারে। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম, এখন পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে।
আশার স্বামী সালমান শাহ বলেন, রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে এনে পরীক্ষার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগ দেওয়ার পর আসামি ফেরদৌস মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে স্থানীয় ও উপজেলার নেতারা এসে আমাদের বিরাট রিকুয়েষ্ট শুরু করে বলে যে, তারাএর বিচার করবে। তারপর আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে। আমরা অভিযোগ প্রত্যাহার করিনি। এখন শুনতেছি- অভিযুক্তরা বলতেছে আমাদের অভিযোগ নাকি মিথ্যা। আমার স্ত্রীর নাকি আগেই গর্ভপাত হয়েছিল- আমরা নাকি সুযোগে তাদের ফাঁসাচ্ছি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ্ জানান, পরীক্ষায় ওই গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। আমাদের খাতায় এটা লিখা আছে। তিনি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফেরদৌস মিয়ার দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি
মোস্তফা জামিল স্বপন বলেন, আমি এলাকায় নেই, তবে শুনেছি- ওই গৃহবধূর আগেই গর্ভপাত হয়েছিল, এখন মারামারি হওয়ায় বিষয়টায় ফেরদৌসকে জড়ানো হচ্ছে। তবে সত্য মিথ্যা জানি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম প্রথমে বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা তো অভিযোগ দিচ্ছে না, আমরা তো মামলা নিতে অভিযোগ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, এর কপিও সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে জানালে তিনি বলেন, অভিযোগ দিয়েছে, তবে তারা মিমাংসা করতে চাইছে।
আসামি আটক করার পর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয় অস্বীকার করে ওসি বলেন, ভুক্তভোগী ও আসামিসহ সবাই আসছিল, উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ নেতারাও আসছিল। তারা নিজেরা আপোস করবে তাই নিয়ে গেছে। তবে আটক বা ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফেরদৌস ওই নারীকে হেনস্থার কথা অস্বীকার করেছে। যেহেতু খুবই নিরিহ পরিবার তাই সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তকে জরিমানা করার চেষ্টা করবো আমরা।
এমএসএম / এমএসএম
ধামইরহাটে প্রধানমন্ত্রী’র নির্দেশক্রমে অসুস্থ যুবদল নেতাকে চিকিৎসা সহায়তা দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আখরাজুল ইসলাম
ধামইরহাটে উৎসবমূখর পরিবেশে কারাম উৎসব উদযাপন
প্রশাসনিক অযুহাতে লালমনিরহাটে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের পরিচিতি সভা পণ্ড
কুতুবদিয়ায় আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা
মুরাদনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, সাবেক ইউপি সদস্যসহ আহত ৫
কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
কালিয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
পেকুয়ায় স্বর্ণের দোকানে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আটক কর্মচারী
ভোলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল, ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও
দাউদকান্দিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সচেতনতায় গুরুত্ব
পত্নীতলায় বিষ প্রয়োগে ২ একর জমির ধান নষ্টের অভিযোগ
বকশীগঞ্জে ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় পরিবারের ওপর হামলা, শিক্ষার্থীসহ আহত ৭