সীমান্ত সমস্যার একমাত্র সমাধান কাঁটাতারের বেড়া নয় : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সীমান্তে কেবল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে সীমান্ত সমস্যার একমাত্র বা পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে দেখা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর ও জটিল সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করা অপরিহার্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, সঠিক গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।
তবে সীমান্ত সুরক্ষায় কেবল সামরিক বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যে সমস্ত সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট সুযোগ নেই, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপর্যাপ্ত এবং রাষ্ট্রীয় সেবার উপস্থিতি খুবই দুর্বল, সেখানে শুধু কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অসম্ভব। সীমান্তবাসী যদি মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকে, তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কখনোই টেকসই হতে পারে না।
পোস্টে তিনি একটি শক্তিশালী সীমান্ত গড়ে তোলার জন্য তিনটি মূল ভিত্তির কথা উল্লেখ করেন— শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আধুনিক জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নত সীমান্ত জনপদ। তিনি বলেন, সীমান্তবাসীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক হাসপাতাল ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কারণ, সীমান্তের মানুষ কেবল ভৌগোলিকভাবেই নয়, বাস্তব অর্থেও রাষ্ট্রের প্রথম সারির প্রতিরক্ষা স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তা কেবল কাঁটাতারের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি মূলত শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কার্যকর রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নাগরিক আস্থা এবং সীমান্তবাসীর মর্যাদার ওপর টিকে থাকে। একটি দূরদর্শী রাষ্ট্র সীমান্তকে কেবল নিরাপত্তার চোখ দিয়ে দেখে না, বরং একে উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় সংহতির একটি সমন্বিত প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করে। তাই সীমান্ত সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ হলো— শক্তিশালী সীমান্ত, শক্তিশালী সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং শক্তিশালী সীমান্ত জনপদ।
Aminur / Aminur
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা
‘যে পথে আপা হেঁটেছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটছেন’
বিরোধীদল স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আলোচনায় মোস্তাফিজুর রহমান
কর্নেল ওলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে জেল অথবা মৃত্যু ছিল অবধারিত: জামাল হোসেন
এনসিপি বলতে যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন: রাশেদ খাঁন
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর যেন দলীয় ইতিহাস চর্চার জায়গা না হয়: নাহিদ ইসলাম
‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি’
সচিবালয় ঘেরাও করতে গেল ১১ দলীয় ঐক্য, আটকে দিলো পুলিশ
‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাবির টিএসসিতে ছাত্রশিবিরের গণজমায়েত