ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

হরমুজের অভিভাবক দাবি করে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক  photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪-৭-২০২৬ দুপুর ১১:৪৪

হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এবার চরম রূপ ধারণ করেছে। গতকাল সোমবার হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ মাশুল (চার্জ) আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওমান সীমান্তের জলসীমায় তাদের ‘মম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি জাতীয় ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ইরান ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে। এতে মম্বাসা ট্যাঙ্কারে থাকা এক ভারতীয় কর্মী প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুইজন ইউক্রেনীয় নাগরিক, যাদের চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমিরাত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে এবং এর জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে, ট্যাঙ্কার দুটি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এবং নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে মাইন বিছানো পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তারা আরও সতর্ক করেছে যে, ‘শত্রু শক্তির’ সাথে সহযোগিতা করলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে আবারও কড়া নৌ-অবরোধ আরোপ করছে। একই সাথে ট্রাম্প দাবি করেন, এখন থেকে ওয়াশিংটনই হবে ‘হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক’। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা দেওয়ার খরচ হিসেবে প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ মাশুল আদায় করা হবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে খুব শক্ত আঘাত করছি এবং তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিচ্ছি।’ তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্রাম্পের এই মাশুল আদায়ের দাবির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠিকই বলেছেন, যারা হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে, তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। তবে ইরানই সবসময় এই প্রণালীর প্রকৃত অভিভাবক ছিল এবং চিরকাল থাকবে।’ মাশুলের হার নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০ শতাংশ তো অনেক বেশি, আমরা মাশুল নির্ধারণে ন্যায্য হব।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সোমবার রাতেও বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক এবং বন্দর আব্বাসের মতো ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। এটি ছিল ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর টানা তৃতীয় রাতের মতো হামলা। এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় মাধ্যম।

এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ট্রাম্পের এই ২০ শতাংশ মাশুল আরোপের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি সাফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক টোল বা ফি আদায় করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তেল ও ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিকবহন হয়। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

Aminur / Aminur

নারীদের দান-খয়রাতের প্রতিশ্রুতি থেকে রাজ্যে রাজ্যে হঠাৎ কেন পিছিয়ে যাচ্ছে বিজেপি

ইরানের আরেক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ইসরায়েলি সংসদ, নির্বাচন অক্টোবরে

মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে: সেন্টকম

মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ: ট্রাম্পের দাবি

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের প্রচারণা শুরু করলো ভারত

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় ৭৯ শতাংশ মার্কিনি

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

ইরানের আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অবৈধ অবস্থানকারীদের দুঃসংবাদ দিল সৌদি আরব

হরমুজের অভিভাবক দাবি করে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

সৌদির বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা

ইন্দোনেশিয়ায় ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, বাড়ি ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত