ঢাকা বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আগস্টে সার্বিক পিএমআই কমে ৪৯.৯: অর্থনীতিতে সামান্য সংকোচনের আভাস


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮-৯-২০২৬ দুপুর ৪:৩১

আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সার্বিক পারচেজিং ম্যানেজার্স’ ইনডেক্স (PMI) জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৪৯ দশমিক ৯-এ নেমেছে। এর ফলে আগস্টে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামান্য সংকোচনের চিত্র উঠে এসেছে। উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মকাণ্ডের মন্থরতা এ পতনের প্রধান কারণ হলেও কৃষি খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং নির্মাণ খাতও পুনরায় সম্প্রসারণের ধারায় ফিরেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (PEB) যৌথভাবে আগস্ট মাসের বাংলাদেশ PMI প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা এবং Singapore Institute of Purchasing & Materials Management (SIPMM)-এর কারিগরি সহায়তায় MCCI ও Policy Exchange-এর উদ্যোগে এ PMI প্রণয়ন করা হয়েছে।PMI দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্য প্রদানের একটি অগ্রণী সূচক হিসেবে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে কৃষি খাত টানা দ্বাদশ মাসের মতো সম্প্রসারণ রেকর্ড করেছে। এ খাতের PMI জুলাইয়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬ দশমিক ৫-এ উন্নীত হয়েছে। কৃষিতে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ধারায় ছিল এবং কর্মসংস্থানও বেড়েছে। উপকরণ ব্যয় (Input Costs) শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পেলেও বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। তবে অসম্পন্ন অর্ডার (OrderBacklogs) সংকোচনের ধারায় রয়েছে।অন্যদিকে, উৎপাদন খাতের পরিস্থিতি আগস্টে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। এ খাতের PMI ১৮ পয়েন্ট কমে ৪৭ দশমিক ৪-এ নেমেছে, ফলে উৎপাদন খাত আবারও সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়ের মজুত, আমদানি ও কর্মসংস্থান—সবকটি সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে। একই সময়ে উপকরণের দাম দ্রুততর হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অসম্পন্ন অর্ডারের সংকোচনের হার কিছুটা কমলেও সরবরাহকারীদের সরবরাহের সময় অপরিবর্তিত ছিল।
নির্মাণ খাত অবশ্য আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ খাতের PMI ৫২ দশমিক ৪-এ উন্নীত হয়ে পুনরায় সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পর্যায়ে ফিরেছে। নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে সংকোচনের হার কমেছে। তবে উপকরণ ব্যয় দ্রুততর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অসম্পন্ন অর্ডার সংকোচনের পর্যায়ে চলে গেছে।সেবা খাতেও আগস্টে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। ২২ মাস পর প্রথমবারের মতো এ খাত সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। জুলাইয়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে সেবা খাতের PMI আগস্টে ৪৯ দশমিক ২-এ দাঁড়িয়েছে। নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের গতি কমেছে। কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে এবং অসম্পন্ন অর্ডারের সংকোচনের হারও কমেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তরদাতাদের মধ্যে সতর্কতা থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে। অনেক উত্তরদাতা বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন। তবে ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁরা তুলে ধরেছেন।উৎপাদন খাতের উত্তরদাতারা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থপ্রাপ্তিতে জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়াকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড মন্থর হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা জ্বালানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সেবা খাতের উত্তরদাতারা আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আয়করসহ অন্যান্য করের চাপ হ্রাসের দাবি জানিয়েছেন। কৃষি খাতের উত্তরদাতারাও বিশেষ করে কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তরদাতাদের মধ্যে সতর্ক কিন্তু ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি, সহজতর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাবান্ধব কর ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের গতিও বাড়তে পারে।তবে Future Business Index বা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক অনুযায়ী, সব খাতেই ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের মাত্রায় সামান্য পতন ঘটেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, “আগস্টের PMI ৪৯ দশমিক ৯-এ অবস্থান করায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ সীমার
কাছাকাছি ছিল, যদিও উৎপাদন ও সেবা খাতে সাময়িক চাপ বিদ্যমান ছিল। কৃষি খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত ছিল এবং নির্মাণ খাত পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে, যা অর্থনীতির অন্তর্নিহিত স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দেয়।তিনি বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতা আংশিকভাবে মাসিক রপ্তানি কমে যাওয়া এবং LNG অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সাময়িক জ্বালানি বিঘ্নের প্রতিফলন। সামনে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে এবং আরও দৃঢ় প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে MCCI ঢাকার মহাসচিব ও সিইও ফারুক আহাম্মাদ এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও এম. মাসরুর রিয়াজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

কোম্পানি আইনে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চায় ডিবিএ

কমলো সোনার দাম

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার

বিএসইসির ১৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি

বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের অর্ডার সিস্টেম ওয়েবভিত্তিক হচ্ছে

আগস্টে সার্বিক পিএমআই কমে ৪৯.৯: অর্থনীতিতে সামান্য সংকোচনের আভাস

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন ২৫০ কোটি টাকা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ

বিদেশ ভ্রমণে ডলার খরচের সীমা বেড়ে হলো ১৮ হাজার

কমলো সোনার দাম

দাম বাড়লেও সরবরাহ ঠিক হয়নি সয়াবিন তেলের, ডিম-মুরগি চড়া

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইএসডিবি