ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভেনিসে প্রশংসিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে যা বলছেন সমালোচকরা


বিনোদন ডেস্ক photo বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০-৯-২০২৬ বিকাল ৫:৩৬

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। বিশ্বখ্যাত ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে প্রিমিয়ারের পর লন্ডন ও টরন্টো উৎসবেও অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে সিনেমাটি। উৎসবগুলোতে প্রদর্শনের পর আন্তর্জাতিক বিনোদন সংবাদমাধ্যম ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র পর্যালোচনাভিত্তিক সাইটগুলোতে এটি নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।


সৌন্দর্যচর্চার বিষাক্ত সংস্কৃতি, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, বডি-হরর এবং সামাজিক শ্রেণি বৈচিত্র্যের গভীর চিত্রায়নের কারণে বৈশ্বিক চিত্রসমালোচকদের নজর কেড়েছে চলচ্চিত্রটি। সিনেমাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিনোদন মাধ্যম ‘ইন্ডিওয়্যার’, ‘আই ফর ফিল্ম’ এবং ‘এশিয়ান মুভি পালস’-এর করা পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ইন্ডিওয়্যার: ভয় ও শ্রেণিবৈষম্য রয়েছে, কিন্তু গল্পে গভীরতার ঘাটতি

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিষয়ক খ্যাতিমান সংবাদমাধ্যম ইন্ডিওয়্যারে প্রকাশিত পর্যালোচনায় সমালোচক মিরিয়াম বালানেস্কু রুবায়েত হোসেনের এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তার মতে, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সৌন্দর্যচর্চা ও বিয়ের প্রস্তুতিকে ঘিরে তৈরি হলেও ছবিটির আসল জোর বাংলাদেশের সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য ও নারীর অবস্থান নিয়ে। ঢাকার একটি বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে সাজানো ছবিতে একদিকে বিলাসী পোশাক, ফুল, আয়না ও সাজসজ্জার জগৎ, অন্যদিকে ঢাকার জরাজীর্ণ রাস্তা, গৃহহীন মানুষ ও শিশু ভিক্ষুকদের বাস্তবতা দেখানো হয়েছে। এর সঙ্গে মৃত এক সাবেক কনের আত্মা, শরীরে দাগ, রক্ত, সুই, পুঁজসহ নানা অস্বস্তিকর দৃশ্য যোগ হয়ে ছবিতে ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। 


এই সমালোচকের মতে, কাগজে-কলমে কাহিনিটা যতই হাস্যকর শোনাক না কেন, “দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড” সস্তা ভূতের সিনেমায় পরিণত হয়নি। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জাইনিন ও নিম্নবিত্ত নারী মিনোতির সম্পর্ক। তাদের দুজনের জীবন দেখিয়ে বোঝানো হয়েছে—ধনী পরিবারের একজন নারী যে স্বাধীনতা কিছুটা উপভোগ করতে পারেন, নিম্নবিত্ত নারীর জন্য সেই সুযোগ অনেক কম। কিন্তু এখানেই ছবিটির বড় দুর্বলতা দেখেছেন এই সমালোচক। তার মতে, সৌন্দর্য, নারী ও শ্রেণিবৈষম্য নিয়ে আরও অনেক কিছু বলার সুযোগ ছিল; শেষ পর্যন্ত পরিচালক সেসব প্রশ্নের গভীরে না গিয়ে গল্পটিকে বেশ সহজভাবে শেষ করেছেন। ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আর পাওয়া যায় না। ইন্ডিওয়্যার ছবিটিকে ‘C’ গ্রেড দিয়েছে।

আই ফর ফিল্ম: মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও বডি-হররের মিশ্রণ


চলচ্চিত্র বিষয়ক পোর্টাল ‘আই ফর ফিল্ম’-এর চিত্রসমালোচক অ্যাম্বার উইলকিনসন ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-কে মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা, বডি-হরর ও ভূতের গল্পের মিশ্রণ হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, বিয়ের আগে নিজেকে নিখুঁত করে তোলার জন্য জাইনিনের ওপর পরিবার ও সমাজের যে চাপ তৈরি হয়, সেটিই ছবির অন্যতম প্রধান বিষয়। সৌন্দর্যচর্চার নামে ওজন কমানো, ত্বক নিয়ে নানা চিকিৎসা এবং আক্রমণাত্মক নানা প্রসাধনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। পার্লারের মালিক যখন তার শরীরের নানা খুঁত তুলে ধরে একের পর এক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তখন ‘সৌন্দর্যের জন্য এই প্রস্তুতি’ আনন্দের বদলে এক ধরনের হুমকির মতো মনে হয়। 

সমালোচক উইলকিনসন ছবির আবহ, শব্দ পরিকল্পনা ও দৃশ্য নির্মাণেরও প্রশংসা করেছেন। সুন্দর কাপড়, গয়না ও সাজসজ্জার দৃশ্যকেও শব্দ ও ক্যামেরার ব্যবহারে অস্বস্তিকর করে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাইনিনের শরীরের ভেতর পোকামাকড় চলার অনুভূতি, রাতে নিজের শরীর আঁচড়ানো এবং মৃত কনের উপস্থিতি ছবির ভৌতিক আবহকে আরও বাড়িয়েছে। জাইনিনের চরিত্রে জাইনিন চৌধুরী করিমের অভিনয়ও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, বডি-হররের মাত্রা কিছু দর্শকের কাছে তুলনামূলকভাবে কম মনে হতে পারে এবং ছবিতে উত্থাপিত কিছু গভীর সামাজিক প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। তবুও বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক বাস্তবতা থেকে তৈরি এই গল্পে সৌন্দর্য ও নারীর ওপর সামাজিক চাপের যে বিষয় উঠে এসেছে, তা সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে বৃহত্তর দর্শকের কাছেও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।


এশিয়ান মুভি পালস: পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর প্রভাব ও একাকিত্বের চিত্র

এশিয়ান মুভি পালস-এ সিনেমাটি নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন তোবিয়াস দুনিন। মূলত পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো কীভাবে একজন নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকে ভেঙে দেয়, সেই দিকটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি। এই সমালোচকের মতে, চলচ্চিত্রটি শুধু একজন কনের বিয়ের প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর পেছনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোকেও উপস্থাপন করেছে। 

চিত্রগ্রাহক লিওনোর তেলেসের ক্লোজ-আপ শট এবং আয়নার ঘনঘন ব্যবহার জাইয়ের বন্দিদশা এবং সর্বদা অপরের নজরদারিতে থাকার অনুভূতিকে তীব্র করে তুলেছে। সহকারী পরিচালক থেকে মূল অভিনেত্রী হিসেবে রূপ নেওয়া জাইনিন চৌধুরী করিমের অভিনয়কে বিশেষভাবে প্রশংসিত করা হয়েছে; যিনি নিজের শরীর নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক প্রত্যাশার চাপে পিষ্ট হওয়া একজন একা নারীর রূপ চমৎকারভাবে ধারণ করেছেন। 

এছাড়া সহায়িকা মিনতির চরিত্রে রিকিতা নন্দিনী শিমুর বলিষ্ঠ পারফরম্যান্স এবং তাদের মধ্যকার শ্রেণিগত ব্যবধান গল্পটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রটি নিজেকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে পেরেছে এবং নারীদের নিজস্ব স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের লড়াইয়ের একটি শক্তিশালী ও চিন্তাশীল চিত্র তুলে ধরেছে- এমনতাই মত এই সমালোচকের। 

aliul / aliul

ফের সুইমিং পুলে মোহনীয় পরীমনি

রবীন্দ্রনাথের ‘ফরাসি সংযোগ’-এ গাইবেন সঞ্চিতা রাখি

ভেনিসে প্রশংসিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নিয়ে যা বলছেন সমালোচকরা

বিজ্ঞাপনে খোলামেলা, ফের বিতর্কে সিডনি

রানি মুখার্জিকে বিশেষ সম্মাননা

নজরুল স্মরণে দুই দিনব্যাপী নৃত্য উৎসব

‘এখনও অনেক কিছু করা বাকি’, নতুন চরিত্রের খোঁজে রাকুল

নোবেলকে নিয়ে টুলুর আক্ষেপ—অদ্ভুত প্রতিভা নিজের ইচ্ছায় ধূলিসাৎ করে দিলো

পরিবেশ বিপর্যয় নাকি গভীর ষড়যন্ত্র? ‘ডিগার’-এর শেষ ট্রেলারে তোলপাড়

পপি : ঢাকাই সিনেমার অপূর্ব আশীর্বাদ, অতঃপর আক্ষেপ

অন্তর্জালে ১ বিলিয়নের ক্লাবে ‘জানজিরিন’

অভিনয়ে অনন্য ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান

শো চালানো অসম্ভব—কেন এমন আকুতি অমিতাভ বচ্চনের?