যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান, তীব্র সংকটে মার্কিন বাহিনী
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও কৌশলগত অস্ত্রের মজুতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ায় মার্কিন বাহিনী এখন অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ানোর পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঘাঁটি ও আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুতের এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি অবশিষ্ট রয়েছে। একইভাবে টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের প্রায় অর্ধেক মজুত ব্যবহার হয়ে গেছে।
শুধু প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র নয়, আক্রমণাত্মক অস্ত্রের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইল এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নতুন করে বিভিন্ন চুক্তি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ইরানের তুলনায় আরও উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একই সময়ে একাধিক সংঘাতে জড়ালে এই ঘাটতি বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী নজিরবিহীন মাত্রায় অস্ত্র উৎপাদন করছে এবং দেশটির কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অস্ত্র রয়েছে।
তবে সিএসআইএসসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভাণ্ডারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন অস্ত্র তৈরি ও মজুত পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
aliul / aliul
চীনে যাচ্ছেন আরাগচি, আলোচনায় যুদ্ধ ও হরমুজ
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান, তীব্র সংকটে মার্কিন বাহিনী
তাইজে হুথিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব
পুতিনকে লেখা চিঠিতে রাশিয়ার প্রতি ‘অটুট সমর্থন’ কিমের
পবিত্র মক্কায় হামলার বিরল সতর্কতা জারি সৌদির
হুথিদের লক্ষ্য করে সৌদির তিনশরও বেশি বিমান হামলা
জাপানে শুরু হয়েছে বসকে না জানিয়ে চাকরি ছাড়ার পরিষেবা
হরমুজের কাছে দ্বিতীয় এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করল বিপ্লবী গার্ড
ইরান যুদ্ধের জেরে ঘাটতি দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে
প্রথম দেশ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউরেনিয়াম-বিরল খনিজের বিশাল খনি পেলো সৌদি, মজুত ১১ কোটি টন
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বন্ধন দৃঢ় করার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের