ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কংক্রিটের ঢাকায় পাখিদের ‘আকাশ নীড়’


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬-৯-২০২৬ রাত ৮:২১

পাখির রাজ্যে স্বাগতম— এই স্লোগানকে সামনে রেখে কংক্রিটের নগরী ঢাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে ‘আকাশ নীড়’। সেখানে একসঙ্গে মিলেছে সবুজ, ফুল, ফল, জলাধার, পাখির খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়। উদ্দেশ্য শুধু একটি ছাদকে সবুজে সাজানো নয়; বরং নগরের বুকে হারিয়ে যেতে বসা জীববৈচিত্র্যের জন্য তৈরি করা একটি নিরাপদ পরিসর।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা ‘আকাশ নীড়’ উদ্বোধন করেন।

মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নগরায়ণের ফলে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সবুজ এলাকা ও জীববৈচিত্র্যের পরিসর। এ বাস্তবতায় ছাদ বাগান শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, বরং নগরের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর একটি উদ্যোগ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি নিজেদের ভবনের ছাদে সবুজায়ন করে এবং পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে সম্মিলিতভাবে নগরের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এ বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আকাশ নীড়’ মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ককে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার একটি উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ইট-পাথরের এই ব্যস্ত নগরীতে সবুজের জন্য একটু জায়গা, নির্মল বাতাসের জন্য একটু অবকাশ এবং পাখির কিচিরমিচির শোনার মতো একটি শান্ত পরিবেশ দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। তবে উদ্যোগ, ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কংক্রিটের শহরের বুকেও সবুজের পরশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আকাশ নীড়’ শুধু একটি ছাদ বাগান নয়; এটি নগর জীবনে সবুজ, জীববৈচিত্র্য ও পাখির নিরাপদ আবাস ফিরিয়ে আনার একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ প্রয়াস। এখানে এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে পাখি শুধু আসবে না, নিরাপদে আশ্রয় নেবে, খাবার পাবে এবং নির্বিঘ্নে বিচরণ করতে পারবে।

জেলা প্রশাসক জানান, ‘আকাশ নীড়ে’ রয়েছে ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ। এর মধ্যে পাখিদের খাদ্যের উৎস ও পরাগায়নের জন্য রোপণ করা হয়েছে ৩০ প্রজাতির ২২৯টি ফুলের গাছ। রয়েছে ১৪ প্রজাতির ৪১টি ফলের গাছ, যা পাখিদের জন্য তৈরি করবে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস। জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে রয়েছে ১১ প্রজাতির ৪৪টি অর্নামেন্টাল গাছ। পাখিদের জন্য রাখা হয়েছে পদ্ম ও শাপলায় সাজানো জলাধার এবং বার্ডস বাথ। পাশাপাশি তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড়, পাখির ঘর এবং বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছের পরিবেশ। স্থানীয় খরগোশ, বানর ও কাঠবিড়ালীর জন্যও রাখা হয়েছে নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, ঢাকার প্রতিটি ভবনের ছাদ যদি একটু একটু করে সবুজ হয়ে ওঠে এবং প্রতিটি মানুষ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একটি গাছ রোপণ করেন, তাহলে এই শহর আরও বাসযোগ্য, সুন্দর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। প্রকৃতিকে রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সবুজ মানেই শুধু সৌন্দর্য নয়, সবুজ মানেই প্রাণ, সুস্থতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন।

এদিকে মানুষের জন্যও ‘আকাশ নীড়’কে রাখা হয়েছে স্বস্তির একটি জায়গা হিসেবে। নগরজীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য এখানে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক বিশ্রামস্থল, ছাতা ও কাঠের চেয়ার। ফুলের সুবাস, সবুজের সমারোহ আর পাখির কলতানে জায়গাটি হয়ে উঠেছে নগরজীবনে প্রশান্তির এক ছোট্ট পরিসর।

ঢাকার জেলা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

aliul / aliul

জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিপিসি

কংক্রিটের ঢাকায় পাখিদের ‘আকাশ নীড়’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ১১৪ ভেন্যুতে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু

সচিব কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা বাণিজ্য সচিবের

কলেজে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর নিখোঁজ, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করতে বললেন শামা ওবায়েদ

রাজশাহী-নাটোরে প্রাণ-আরএফএলের কারখানা পরিদর্শন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের

হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মেট্রোরেলের পিলারে ফাটল : তদন্তে গাফিলতি মিললেই কঠোর ব্যবস্থা

বাড়ছে বিমানের বহর, বোয়িং-এয়ারবাস থেকে আসছে ২১ উড়োজাহাজ

বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ

বাড়তে পারে তিস্তার পানি, কমবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার

র‍্যাবের গ্রেপ্তার তিনজনের সংশ্লিষ্টতা মেলেনি, ডিবির হাতে নতুন দুজন