ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

কখনো অভিনেত্রী হতে চাইনি


বিনোদন ডেস্ক photo বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০-১০-২০২৬ দুপুর ১১:১২

 

আজ বলিউড অভিনেত্রী রেখার জন্মদিন। ৭১ বসন্তে পা রাখলেন তিনি। এখনো তাঁর রূপের ছটায় মুগ্ধ মানুষ। রেখা এমনই একজন অভিনেত্রী যিনি তরুণ প্রজন্মেরও হার্টথ্রব। অভিনয় আর সৌন্দর্য দুটের টানে এখনো তিনি হিন্দি ছবির দর্শকদের মনের মণিকোঠায় রাজ করছেন। সম্প্রতি তাঁকে খুব একটা সিলভার স্ক্রিনে দেখা যায় না; কিন্তু তারপরও রেখা টিনসেল টাউনের আলোচনার অন্যতম একটি নাম। কারণ তাঁর জীবনে ধারা, তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া নানান গসিপ। কিন্তু নাম রেখা হলেও রেখার জীবনে কখনই সরল রেখায় চলেনি। বলা যেতে পারে, কিছুটা বক্ররেখায় আবর্ত তাঁর জীবন। সম্প্রতি সামনে এসেছে আরও অবাক করার মতো তথ্য-তা হলো রেখা নাকি জীবনে কখনই অভিনেত্রী হতে চাননি। জোর করেই তাঁকে দিয়ে এই অপ্রিয় কাজটি করানো হয়েছিল। হিন্দি ছবিতে শিশু অভিনেত্রী হিসেবে পা রেখেছিলেন রেখা। ১৯৬৯ সালে ‘সিআইডি’ শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি। পরের ছবি ছিল ‘আনজানা সফর।’ অমিতাভ থেকে শুরু করে রাজেশ খান্না, জিতেন্দ্র একের পর এক সুপারস্টারদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে অভিনয় করেছেন। অক্ষয় কুমারের বিপরীতেও তিনি অভিনয় করেছেন। ১৯৮৬ বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রেখা জানিয়েছিলেন তাঁকে জোর করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁর বাবা শিবাজি গণেশান ও মা পুষ্পবলই জোর করেছিলেন সিনেমা জগৎকে বেছে নিতে। তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। রেখা জানিয়েছিলেন তাঁরা সিনেমা নিয়ে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর প্রথম কয়েক বছর ইন্ডাস্ট্রির সবকিছুই তাঁর খারাপ লাগত। সব কিছুই তিনি অপছন্দ করতেন। কারণ তিনি মোটেও আগ্রহী ছিলেন না।

রেখা ব্যাখ্যা করেছিলেন, “আমার বাবা, এত বেশি নয়, কিন্তু আমার মা সত্যিই চেয়েছিলেন যে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করি। কিন্তু অন্তত ছয় বা সাত বছর ধরে, আমি যা করছিলাম তা পছন্দ করিনি। আমাকে শুটিংয়ের জন্য টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমাকে মেরে মেরে অভিনেত্রী তৈরি করা হয়েছিল। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রী আসলে একসময় বিমানবালা হতে চেয়েছিলেন। রেখার দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর প্রবল ইচ্ছা ছিল ছোটবেলা থেকেই। তাই বিমানবালা হতে চেয়েছিলেন; অভিনেত্রী নন। আর এ ইচ্ছা থেকে বিমানবালার চাকরির জন্য চেষ্টা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারকালে অল্প বয়সের কারণে বাদ পড়ে যান। পরে হতে চান নান। শেষ পর্যন্ত নানও হতে পারলেন না তিনি। অবশেষে চরম হতাশায় একসময় আত্মহত্যা করতে যান রেখা। এ হতাশার কারণ তাঁর গায়ের রং ছিল কালো। একদিকে বাবা-মায়ের অনাদর, অন্যদিকে অভাবের সংসার তার ওপরে তাঁর গায়ের রং কালো বলে কারও মন আকৃষ্ট করতে পারছিলেন না তিনি। ফলে সিদ্ধান্ত নেন এ হতাশার জীবন আত্মহত্যার মাধ্যমেই সাঙ্গ করবেন তিনি। কিন্তু তাঁর সৎ বোনরা তাঁকে খুব ভালোবাসত। তারাই তাঁকে সাহস জুগিয়ে বুঝিয়ে সেই পথ থেকে ফেরান। ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ বছর তাই অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়েছে তাঁকে। অনেক ছবি থেকে এ কারণে বাদও পড়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি রেখা খুব সুন্দর গানও করেন। ‘খুবসুরাত’ সিনেমার গানে চমৎকার প্লে-ব্যাক করেন তিনি। পুরুষকে আকৃষ্ট করতে রেখার জুড়িমেলা ভার। বলি আইকনিক ক্যারিশমার জাদুতেই মুগ্ধ আট থেকে অষ্টাদশী। সত্তর থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত ১১ জনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন রেখা। তবে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে রেখার সম্পর্কটি ছিল রীতিমতো একটি মিথ। বলিউডের একমাত্র ডিভা উপাধি লাভ করেন তিনি। দক্ষ অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন তিনবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। ১৯৮২ সালে ‘উমরাও জান’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয়  পুরস্কারও লাভ করেন। 

শান্তা / শান্তা