ঢাকা শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র ও সমাজে চূড়ান্ত সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭-১১-২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশে শুধু রাজনৈতিক ব্যাবস্থাকেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়নি; রাষ্ট্র ও সমাজে চূড়ান্ত সামাজিক অবক্ষয়ও ঘটেছে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে হীন স্বার্থ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে বাংলাদেশের আবহমানকালের বিরাজমান সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সহমর্মিতার মূল্যবোধকেও বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখতে পরিবারে-পরিবারে পর্যন্ত বিরোধ বিবাদ উসকে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলেও প্রতিশোধ প্রতিহিংসা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই পরিস্থিতির উন্নয়ন একমাত্র উপায় বলে আমি মনে করিনা। বরং, আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সক্রিয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ধর্মীয়-সামাজিক-পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, এবং মানুষে মানুষে সামাজিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং সহমর্মিতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা অন্যতম একটি কার্যকর উপায়।  

তিনি বলেন, সমাজে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত হলে সামাজিক অপরাধের মাত্রা অনেক কমে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এক্ষেত্রে সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে গ্রাম পুলিশের কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, সব ক্ষেত্রেই আপনাদের ভূমিকা হতে হবে আইনসম্মত, মানবিক, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ইউনিয়ন বা গ্রামের জন্য কার্যকর স্থানীয় প্রশাসন, দায়িত্বশীল গ্রাম পুলিশ এবং সচেতন জনগণের সক্রিয়তা, এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয় জরুরি। এই সমন্বয় যত কার্যকর এবং শক্তিশালী হবে, দেশের ইউনিয়ন কিংবা গ্রামগুলোও তত বেশি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্য যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতেও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আপনাদের কাজগুলো হয়তো সবসময় সংবাদপত্রের শিরোনাম হয় না। তবে মনে রাখবেন, তাৎক্ষণিকভাবে আপনাদের একটি বিচক্ষণ এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্ত সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে যাতে কিছুটা সচ্ছল জীবন পরিচালনা করতে পারেন, ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে একটু হলেও যাতে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, সেদিকেও সরকারের নজর রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো গ্রাম পুলিশের জন্য ঈদ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং ঘোষণা কার্যকরও করা হয়েছিল।  

তিনি বলেন, একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সারাদেশে কর্মরত ৪০ হাজারের বেশি গ্রাম পুলিশের পরিবার পরিজনের স্বাচ্ছন্দ্য জীবন জীবিকার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনাদের পদবি পরিবর্তন করে গ্রাম পুলিশ করা হয়েছে। তবে শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, আপনার জেনে খুশি হবেন গ্রাম পুলিশের বেতন ভাতাও বাড়ানো হয়েছে ।  

তারেক রহমান বলেন, আমি ঘোষণা দিচ্ছি, আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ইনশাআল্লাহ। বেতন ভাতা ছাড়াও আপনাদের জন্য আরও কয়েকটি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।    

তিনি বলেন, বর্তমানে ‘গ্রাম পুলিশের’ মাসিক বেতন সাড়ে সাত হাজার টাকা। এই বেতন বাড়িয়ে ১০ দশ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানের বর্তমান বেতন ৮ হাজার টাকা। এই বেতন বাড়িয়ে সাড়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। মাসিক বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরকালীন বিদ্যমান আনুতোষিক ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশের জন্য আনুতোষিক ভাতা ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের আনুতোষিক ভাতা ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য দেওয়া-নেওয়ার জন্য গ্রাম পুলিশকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয়। এ কারণে সরকার প্রতিজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মোবাইলে ফোনের খরচের জন্য মাসিক ২ শত টাকা করে দেবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে গ্রাম পুলিশকে স্থানীয় থানায় যাওয়া আসা যাওয়া করতে হয়। থানায় প্রতি সপ্তাহে হাজিরার জন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা পেয়ে থাকেন। বর্তমান সরকার থানায় যাতায়াত ভাড়া প্রতি সপ্তাহে আরো ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানের থানায় যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। রাষ্ট্র এবং সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে নারীর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সরকার ইতোমধ্যেই সারাদেশে ১ লক্ষ হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরমধ্যে ৮০ হাজার হবেন নারী হেলথ ওয়ার্কার। পাশাপাশি আজ আমি ঘোষণা দিচ্ছি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুনভাবে আরও ২ জন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করা হবে। নারী পুলিশদেরকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, গ্রাম পুলিশের কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ রাস্তা ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হবে। সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় এনে ‘গ্রাম পুলিশ সড়কে’ বৃক্ষরোপণ করা হবে। গাছ পরিণত হলে ওইসব গাছ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এভাবেই সব ক্ষেত্রে আমরা স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

aliul / aliul

২১ বছর পর রাজপথে, শোভাযাত্রায় প্রায় ৭ কিলোমিটার হাঁটলেন তারেক রহমান

২০২৭ সালের কোন মাসে কত দিন ঐচ্ছিক ছুটি

সৌদিতে দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় জামায়াতের শোক

কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

সচল এফএসআরইউ, বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

রিয়াদ-দাম্মামের ১৮০ ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ২৩ হাজার ৮৫ জন

‘জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হয়েছে’

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র ও সমাজে চূড়ান্ত সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন: বিদ্যুৎমন্ত্রী

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্বে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদার

পায়ে হেঁটে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বভৌমত্ব র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী