এক দিনে দুই দফা কমল টাকার মান
যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক দিনে দুই দফা কমল। এরমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ১ টাকা ৬০ পয়সা কমায়। এরপর আরো ৪৫ পয়সা অবমূল্যায়ন হয়। তবে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপডেট হয়নি। করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর বিশ্ব যখন স্বাভাবিক অবস্থায় যাচ্ছে, সে সময় ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রতিক্রিয়ায় নানা ঘটনাপ্রবাহে দেশে দেশে মুদ্রা যখন মান হারাচ্ছে, তখন সোমবার (৬ জুন) এ ঘটনা ঘটল।
গতকাল দুপুরে টাকার মান ১ টাকা ৬০ পয়সা কমিয়ে ডলারের দর ৯১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আরো ৪৫ পয়সা কমিয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ সোমবার সবশেষ আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার প্রায় ৯২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ ১ ডলারের জন্য গুনতে হয়েছে ৯২ টাকা।
ব্যাংকগুলোতে ডলারের একক হার বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর তিন দফায় ডলারের দাম বাড়ল। আর মে মাসে চার দফা কমেছিল টাকার মান।
একদিনে দুই দফা টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আসলে সেরকম নয়, আন্তঃব্যাংক লেনদেনের দর সব সময় নিয়মিতভাবে হালনাগাদ হয় না। সে কারণেই এমনটা মনে হচ্ছে। রোববারই আসলে ডলারের দর ৯১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেটা সোমবার ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। সোমবার ডলারের দর আরো ৪৫ পয়সা বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে। সেটা মঙ্গলবার ওয়েবসাইটে দেয়া হবে।’
রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ডলার-টাকার বিনিময় হার দেয়া ছিল ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা। এর আগে ডলারের দর বেঁধে দেয়ার নিয়ম তুলে দেয়ার দিন বৃহস্পতিবার দুই দফায় আগের দিনের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ওই দিনও দুবার টাকার মান কমে যায়। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ব্যাংকগুলোর কাছে ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা দরে বিক্রি করা হয় সাড়ে ১৩ কোটি ডলার।
মুখপাত্র সিরাজুল জানান, ওই দিন দ্বিতীয় দফায় জরুরি চাহিদা মেটাতে আরও ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয় ৯১ টাকা ৫০ পয়সায়। এতে ডলারের দর বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার দিনই টাকার মান কমে আড়াই টাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একদিনে টাকা এতটা দর হারায়নি। এর আগে দর কমেছিল একদিনে সর্বোচ্চ ১ টাকা ১০ পয়সা।
গত বুধবার সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা সংকটে অস্থির হয়ে ওঠা ডলারের বাজারে প্রধান এ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য নির্ধারণের অনুসরণ করে আসা ‘ম্যানেজড এক্সচেঞ্জ রেট’তুলে নেয়ার কথা ব্যাংকগুলোকে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে গত কয়েক মাস ধরে। রপ্তানি ও রেমিটেন্স থেকে আমদানি খরচ মেটানোর মত ডলার মিলছে না। এ কারণে ডলারের সরবরাহে টান পড়েছে, যা প্রধান এ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে চড়া করে তোলে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে ডলারের বিনিময় হার বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে নিজেদের মধ্যে ডলার লেনদেনে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রির দরকে ‘অনুসরণ’ করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারের চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার ব্যাংকগুলোকে সাপোর্ট দিতে এক কোটি ডলার বিক্রি করেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার সবশেষ আন্তব্যাংক লেনদেনে ব্যাংকগুলোর কাছে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সায় ডলার বিক্রি করলেও ব্যাংকগুলো সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ৩ থেকে ৪ টাকা বেশি দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে।
জামান / জামান
সোনার দাম ভরিতে এক লাফে বাড়লো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা
স্বস্তি নেই বাজারে, চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ-মুরগি-সবজি
বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় দায় : অর্থমন্ত্রী
রিজার্ভ বেড়ে ফের ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে নজর দিচ্ছি : অর্থমন্ত্রী
মাছ-মুরগি আগের দামে, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
ভ্যাটসহ নতুন করে সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯ হাজার টাকা
সৎ ও পেশাদারদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের দাবি
রডে কর বৃদ্ধি ও গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি রিহ্যাবের
বাজেট ‘চিন্তাশীল’ হলেও নীতিকাঠামো দুর্বল, পুরোনো পথে হাঁটা দুঃখজনক
ইসলামী ব্যাংকের পুরো বোর্ড ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সংকট সামলাতে ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক