ঢাকা রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

সিগারেট থেকে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪-৮-২০২২ রাত ১০:৩৭

তামাক পণ্য  সিগারেট থেকে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। সঠিক কর কাঠামো না থাকায় ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার এ পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের উপর সুনির্দিষ্ট করারোপ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।  

 

বুধবার (২৪ আগষ্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের উপর সুনির্দিষ্ট করারোপ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্স এবং বিএনটিটিপি এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ৭১ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা। 

 

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সঠিক কর কাঠামোর অভাবে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। সিগারেটের প্যাকেট মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং গবেষণায় পাওয়া বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের খুচরা বিক্রয় মূল্যর পার্থক্য থেকে কর হিসাবে সরকারের প্রাপ্য অংশ হিসাব করে গত অর্থবছরের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি বের করা হয়েছে। 

 

সেমিনারে বলা হয়, অতিউচ্চ স্তরের সিগারেটের ২০ শলাকার প্যাকেট মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৭০ টাকা হলেও বিক্রিত গড় মূল্য ২৯৪ দশমিক ২৯ টাকা। সেই হিসাবে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর থেকে কর আদায় করা সম্ভব হলে উচ্চ স্তরের সিগারেট থেকে সরকার আরও প্রায় ৫৮৩ কোটি টাকা বেশি পেতে পারতো। একইভাবে উচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, মধ্যম স্তর থেকে প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা এবং নিম্ন স্তর থেকে আরও ৩ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতো।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, এত অল্প শেয়ার নিয়ে বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বোর্ডে এত জন সরকারের মানুষ পরিচালক থাকাটা দখতেও কেমন লাগে। আমরাও চাই তামাকের ব্যবহর কমে আসুক। সমন্বিতভাবে তামাকের ব্যবহর কমাতে হবে। আমার জায়গা থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ আলোচনা করবো।  

 

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী হোসেন আলী খন্দকার। আলোচক ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর ফ্রিকিডসের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মাহফুজুর রহমান, ওয়াণ্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ড. সৈয়দ মাহফুজুল হক এবং দ্য ইউনিয়নের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.রুমানা হক ও সাংবাদিক সুশাস্ত সিনহা। সেমিনাওে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন।  

 

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমানের অ্যাড ভ্যালোরেম করারোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করাারোপ পদ্ধতি আরোপ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি দ্রব্যের বাজার ও বিক্রয় পর্যবেক্ষণে এবং কর আদায়ে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এছাড়া সিগারেটের চার স্তরভিত্তিক কর কাঠামো ধারাবাহিকভাবে এক স্তরে নিয়ে আসতে হবে। সিগারেট ও বিড়ির খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ভোক্তারাও তামাক গ্রহণে উৎসাহিত হচ্ছে। কর ফাঁকি রোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সামগ্রিক সমস্যা মোকাবেলা করতে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে একটি জাতীয় তামাক কর নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

সাদিক পলাশ / সাদিক পলাশ