কারাগারে নেই মানসিক ডাক্তার
দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের এক-তৃতীয়াংশই মাদক মামলার আসামি। আর তাদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত রোগী। মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ধৃত আসামি মাদকসেবী ও মাদক কারবারি একই সেলে থাকছে কারাগারে। ফলে তাদের মধ্যে সহজেই বন্ধুত্ব হওয়ার সুযোগে এর ঝুঁকি আরো বাড়ছে। এছাড়া বন্দীদের মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কারাগারে নেই প্রয়োজনীয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কাশিমপুর ও নারায়ণগঞ্জ কারাগারের হাসপাতালে ৪ জন সহকারী সার্জন নিয়োগ থাকলেও মাদকরোগীর চিকিৎসায় নেই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্স । অথচ দেশের ৬৮ কারাগারে প্রতিদিন আটক থাকে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার আসামি। এর মধ্যে মাদক মামলার আসামিই প্রায় ২৪ হাজার। অবশ্য মাদক মামলার এসব আসামিদের বড় অংশই মাদকরোগী।
কারাগারে মাদক মামলায় বন্দীদের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ সকালের সময়কে মুঠোফোনে বলেন, এ কারাগারে ৬শ বন্দীর মধ্যে প্রায় ২শ আসামিই মাদক মামলায় আটক। মাদক মামলার নতুন আসামিদের মাদকসেবী চিহ্নিত করতে প্রথমে আলাদা সেলে রাখা হয়। পরে নেশার উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিলে কারারক্ষী ও কয়েদিরা তাদের অভিজ্ঞতায় সেবা দেয়ার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, এদের চিকিৎসা প্রয়োজন হলে কারা হাসপাতালের চিকিৎসক জেনারেল চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তবে দেশের কারা হাসপাতালগুলোতে নেই মনোরোগ চিকিৎসক, মাদকরোগীর চিকিৎসায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ খুবই প্রয়োজন। কারণ মাদকসেবীর নেশা ওঠলে অনেক সময় একজন অপরজনকে আঘাত করাসহ নানান রকম আত্মঘাতি আচরণ করে থাকে।
এছাড়া হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মতিয়ার রহমান সকালের সময়কে মুঠোফোনে বলেন, আমাদের জেলা কারাগারে ৮৮৬ জন বন্দীর মধ্যে ২শ এর বেশি মাদক মামলার আসামি। মাদকাসক্ত বন্দী অনেক সময় নেশার চাহিদায় অজ্ঞান হয়, মানসিক উত্তেজনায় অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে। তখন নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে মাদক মামলার এসব বন্দীদের নার্সিং করি ও কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করি। এদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন, মাদকাসক্তরোগীকে সুস্থ্যজীবনে ফেরাতে মানসিক সুস্থ্যতায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, যা কারাগারে নেই।
বন্দী মাদকরোগীদের চিকিৎসায় কারাগারে প্রশিক্ষিত লোকবল নেই এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মো. জিয়াউল হক সকালের সময়কে বলেন, কারাগারে বন্দীদের জেনারেল চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। মাদকরোগীর চিকিৎসায় আলাদা প্রশিক্ষিত লোকবলের ব্যবস্থা এখনো নেই। তবে প্রয়োজনীয় লোকবলের চাহিদা কাঠামো প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। প্রস্তাবিত চাহিদা অনুমোদন হলে এ বিষয়ে নিয়োগ দিবেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের ৬৮টি কারাগারে মাদক মামলার আসামিদের সচেতন করতে ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত মাদকবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদক নিরোধে ও বন্দীদের সচেতন করতে কারাগারগুলোতে ২০২২ সালে ১শ সেমিনার করলেও এবছর গত তিন মাসেই ৬৪টি সচেতনতামূলক প্রচারণা করেছে অধিদপ্তর।
এমএসএম / এমএসএম
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৪৩২
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে চিকিৎসক নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
হাম উপসর্গে আরও ৫ জন সহ মোট মৃত্যু ১০৮১
একদিনেই হাম উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু
চলতি বছরে সর্বোচ্চ ১৮৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু ৫
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পাশে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
হামের শিকার ১০ শিশুর প্রায় ৬ জনই সংক্রমিত হয়েছে হাসপাতালে
বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশি
উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মানুষের দন্ত স্বাস্থ্য অধিকার: একটি বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা
রোগের মূল কারণ শনাক্তে জোর, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা পরিবর্তনের আহ্বান
বর্ষাকালের অসুখ-বিসুখ