রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় নিয়ে রসাটমের বক্তব্য
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ জানিয়েছে রসাটম। রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসব জানায় রসাটম।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রসাটম জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নির্মীয়মান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনামূলক মূল্য সংক্রান্ত একটি বিষয়ের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে আমরা মনে করি এবং এর প্রেক্ষিতে এ জাতীয় বিভ্রান্তি দূরীকরণে আমাদের বক্তব্য নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ
বাণিজ্যিক গোপনীয়তার স্বার্থে রসাটম এবং তার পার্টনাররা পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল্য সংক্রান্ত বিষয়টি কখনোই প্রকাশ করে না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ মূল্য তুলনা করাটা সঠিক বলে আমরা মনে করি না।
কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ সম্পন্ন হবার পর যথাক্রমে ২০১৩ ও ২০১৬ সালে ভারতের জাতীয় গ্রীডের সঙ্গে যুক্ত হয়। উন্নত অবকাঠামো সমৃদ্ধ একই সাইটে দ্বিতীয় ধাপে বর্তমানে তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট নির্মানাধীন রয়েছে। অন্যদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল একটি ‘গ্রীনফিল্ড প্রকল্প’ যেখানে পুরো অবকাঠামো শূন্য থেকে নির্মাণ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশে আমরা দুটি পরমাণু বিদ্যুৎ ইউনিট ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট, কন্সট্রাকশন) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করছি, যার মধ্যে নির্মান ও ইন্সটলেশন ছাড়াও কমিশনিং মূল্য (প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ) অন্তর্ভূক্ত। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রকল্প ইপি চুক্তি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার অর্থ হলো নির্মান ও কমিশনিং মূল্য গ্রাহকের (ভারতের)। নির্মাণ ও কমিশনিং মূল্য ভারত দ্বারা নির্ধারিত যা রসাটমের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত নয়।
ভারতীয় প্রকল্প সাইট এবং সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রকল্প সাইট ও আবহাওয়ার মধ্যে বিশাল তারতম্য রয়েছ। অধিকন্তু, উভয় দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রাপ্যতা যেমন দক্ষ স্থানীয় শ্রমিক, বালি, পাথর ও ধাতব সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দূরত্বের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে।
সাইটে মাটির বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে পুরো সাইটের জরিপ করা হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের নির্মানের সময় শুধুমাত্র অতিরিক্ত কিছু বিষয় জানার জন্য স্বল্প মাত্রায় জরিপ চালানোর প্রয়োজন হয়েছিল। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি মূলত: অত্যন্ত শক্ত মাটি বা রক এর ওপর নির্মিত। অন্যদিকে, নদী তীরবর্তী স্থানে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে মাটির স্ট্যাবিলাইজেশনের প্রয়োজন পড়ে যা অত্যন্ত ম্যাটেরিয়াল ও লেবার ইন্টেনসিভ একটি কাজ।
রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনা। তাই এর নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত গবেষণা ও জরিপ (বিনিয়োগ বিবেচনা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ইত্যাদি) এবং প্রাথমিক প্রযুক্তিগত কার্যক্রম (উদাহরণ স্বরূপ, শ্রমিকদের ক্যাম্প ইত্যাদি) পরিচালনা আবশ্যক ছিল। ভারতীয় প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই কাজগুলো প্রথম ইউনিটগুলো নির্মাণের সময় করা হয়েছিল।
ভারতে প্রথম ইউনিটগুলো নির্মাণের সময় লজিস্টিক্স স্কীম, ট্রান্সপোর্ট হাব (প্রয়োজনীয় রড, সংরক্ষণ স্থান ও এলাকা) তৈরি ও ব্যবস্থাপনা কর হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই কাজগুলো এখনো চলমান।
ভারতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের শুধুমাত্র প্রথম ধাপে বস্তুকলার প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভূক্ত ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির অধীনে এই সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
ভারতীয় প্রকল্পের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকরণ এবং ডিজাইন প্রণয়নে লোকালাইজেশনের অনুপাত ক্রমান্বয়ে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া ইতোমধ্যে পাম্পিং যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইন ফিটিংস প্রস্তুতকারী বৃহৎ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে যার ফলে দূর দূরান্ত থেকে পরিবহণ ব্যয় এবং এবং রাশিয়া থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহে ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল্য অনেকাংশেই সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
সার্বিকভাবে বলতে গেলে উভয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ইকুইপমেন্ট মূল্য একই তবে, কন্সট্রাকশন এবং ইন্সটলেশন মূল্য উভয় দেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি মূল্যের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
T.A.S / T.A.S
চিন্তায় গাফিলতি এলে জুলাই জাদুঘর থেকে ঠিকানা খুঁজে নতুন যাত্রা করবো
জুলাই শহীদদের ডকুমেন্টারি ঘিরে রাষ্ট্রপতির সামনেই হট্টগোল
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে: প্রধানমন্ত্রী
দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার আহ্বান সরকারের
পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ গণ-অভ্যুত্থান: রাষ্ট্রপতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: জাগো নিউজকে শিক্ষামন্ত্রী
স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
জুলাই সনদকে ভিত্তি করে সংবিধান সংশোধনী আনবে সরকার : আইনমন্ত্রী
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর