ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪-১-২০২৬ দুপুর ১১:১

শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় সারা দেশে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই তীব্র শীত অনেকের জন্যই দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের অভাবী ও গরিব মানুষ। শিশু ও বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগ বর্ণনাতীত। শীতে অভাবী মানুষের জন্য এখন জরুরি দরকার হয়ে পড়েছে শীতবস্ত্রের। কিন্তু গ্রামের এসব মানুষের অনেকের পক্ষে আলাদাভাবে শীতের কাপড় কেনা দুঃসাধ্য। তাই সমাজের বিত্তবান ও মানবিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা যদি দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে না দাঁড়ায়, তা হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি থেকে শীতার্তদের রক্ষা করা যায়।
দরিদ্র মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। বদর যুদ্ধে বন্দি হজরত আব্বাসকে (রা.) রাসুল (সা.) পোশাকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.)-এর কাছে মুদার গোত্র থেকে গলায় চামড়ার আবা পরিহিত বস্ত্রহীন কিছু লোক আগমন করল। তাদের করুণ অবস্থা দেখে তার চেহারা বিষণ্ন হয়ে গেল। তিনি নামাজ শেষে সাহাবায়ে কেরামের সামনে দান-সাদকার উৎসাহমূলক খুতবা প্রদান করলেন। ফলে সাহাবায়ে কেরাম এত অধিক পরিমাণ দান করলেন যে, খাদ্য ও পোশাকের দুটি স্তূপ হয়ে গেল। এ দৃশ্য দেখে রাসুল (সা.) অত্যন্ত আনন্দিত হলেন, তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বস্ত্র দানের গুরুত্ব প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো মুসলমান অন্য মুসলমানকে কাপড় দান করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের পোশাক দান করবেন। 
ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল দান করবেন। কোনো তৃষ্ণার্ত মুসলমানকে পানি পান করালে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের সিলমোহরকৃত পাত্র থেকে পবিত্র পানীয় পান করাবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
এই হাড় কাঁপানো শীতে যে বিপুল জনগোষ্ঠী বর্ণনাতীত দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দ্বীনি দায়িত্ব। এ বিষয়ে হজরত রাসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার সব বিপদ দূর করে দেবেন। 
আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবী মানুষকে সচ্ছল করে দেবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ইহকাল ও পরকালে সচ্ছল করে দেবেন।’ 

Aminur / Aminur