পার্থিব কামনায় ক্ষতি হয় আখেরাতের
পার্থিব জীবনে অতি লোভের ফলে ক্ষতি হয় পরকালীন জীবনে। মুমিনের লক্ষ্য হওয়া চাই পরকাল, ইহকাল নয়। যারা নাস্তিক, তারা পরকালে বিশ্বাসী নয়। তারা দুনিয়াকে দুনিয়ার বিনিময়ে উপার্জন করবে। কিন্তু মুসলমান পরকালের জান্নাত ও জাহান্নামকে বিশ্বাস করে। তারা দুনিয়ার জীবন অতিবাহিত করবে পরকালে সুখ-শান্তি পাওয়ার প্রত্যাশায়। এমনটাই বিশ্বাস মুসলিম উম্মাহর। কোনো মুসলমান দুনিয়ার মোহে পড়ে আখেরাত ধ্বংস করতে পারে না।
যারা দুনিয়ার লোভে পড়ে আখেরাতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তারা পরকালে ভয়ংকর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আর তাদের দুনিয়াবি শাস্তি হলো দুনিয়াকে অন্বেষণ করবে কিন্তু দুনিয়া তাদের ধরা দেবে না। এভাবে দুনিয়ামুখী মানুষ দুনিয়ার কাছে ঘৃণিত হয়।
দুনিয়াদার কেবল দুনিয়াই পেয়ে থাকে : আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা ওলি-বুজুর্গরা দুনিয়াবিমুখ হন। তাদের কাছে সবসময় দুনিয়া নগণ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়। বুজুর্গদের কাছে দুনিয়া পদচুম্বন খেয়ে ধরা দেয়, কিন্তু তারা দুনিয়াকে গ্রহণ করে না। পক্ষান্তরে দুনিয়াদাররা দুনিয়াকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে, কিন্তু দুনিয়া তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। দুনিয়া লোভীরা দুনিয়ার নির্ধারিত অংশ ছাড়া বেশি কিছু অর্জন করতে পারে না।
তাদের পার্থিব জীবনে আখেরাতের কোনো ইঙ্গিতই পাওয়া যায় না। এসব দুনিয়াদারকে আল্লাহ তায়ালা অভাবে রাখেন। পার্থিক জীবনে তারা সফলকাম হবে না। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যার চিন্তা শুধু আখেরাতই হবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা সৃষ্টি করে দেবেন, তার বিক্ষিপ্ত বিষয়াদি একত্রিত করে দেবেন এবং দুনিয়া লাঞ্ছিত হয়ে তার কাছে আসবে।
আর যার চিন্তা শুধু দুনিয়া হবে আল্লাহ তায়ালা দারিদ্র্যকে তার সম্মুখে রেখে দেবেন। আর তার একত্রিত বিষয়াদিকে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন এবং যা নির্ধারিত তা ছাড়া একটুও বেশি দুনিয়া অর্জন হবে না।’ (তিরমিজি : ২৬৫৩)
দুনিয়ার মোহ মানুষকে দারিদ্র্যে নিপতিত করে : দুনিয়াদার ধনীরা সম্পদে শান্তির সুঘ্রাণ পায়। তারা বিশাল বিশাল অট্টলিকার স্বপ্ন প্রতিনিয়ত দেখতে পায়। কিন্তু এরপরও দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণা তাদের পিছু ছাড়ে না। আকস্মিক সমূহ বিপদগ্রস্ত হয়ে তাদের সমুদয় সম্পদ এক নিমেষেই ক্ষয়ে যায়। দুনিয়ার কোনো শক্তি তাদের ক্ষতিপূরণ করতে পারে না। এক সময়ের সম্পদশালী পরিবারে হঠাৎ করে অভাবের লাল বাতি জ্বলতে থাকে। দরিদ্রতা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।
এ ছাড়া দুনিয়ামুখিরা সম্পদহারা হয়ে স্বীয় স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মীয়স্বজনের কাছে ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়। এ পরিণামের কারণ হলো একমাত্র আখেরাতবিহীন দুনিয়ার মোহ।
এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য অন্তরকে খালি করে নাও। আমি তোমার অন্তরকে অভাব মুক্তি দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমাদের দরিদ্রতার পথ বন্ধ করে দেব। আর যদি তা না করো, তবে আমি তোমার হাতকে দুনিয়ার ব্যস্ততায় পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব মিটাব না’ (ইবনে মাজাহ : ৪২৪৬)। আল্লাহ সবাইকে বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।
Aminur / Aminur
হজযাত্রীদের সুবিধার্থে মিকাতের আধুনিকায়ন করল সৌদি
আলহামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ ও ফজিলত
হজভূমি: পৃথিবীর প্রথম ঘর কাবা
কোরআনের বাণী: আল্লাহ কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করেননি
নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা
হজযাত্রীদের সেবায় অনিয়ম করলে গুনতে হবে জরিমানা
ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়া অমার্জনীয় পরিণতি
ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতার নানা দিক
৪০ দিন পর খুলে দেওয়া হলো আল-আকসা
সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
ভালো কাজের শুভ সূচনা ও সমাপ্তি যেভাবে হয়
গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করার পরিণতি