অসচ্ছলতার অভিশাপ থেকে বাঁচার উপায়
পৃথিবীতে মহান আল্লাহ কাউকে সচ্ছলতা দিয়েছেন ও কাউকে অসচ্ছলতা দিয়েছেন। এই তারতম্যের পেছনে আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরিয়তের হুকুম-আহকাম সঠিকভাবে পালন করছে কি না, এ ব্যাপারে বান্দাদের পরীক্ষা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জেনে রেখো, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। আর মহাপুরস্কার রয়েছে আল্লাহরই কাছে’ (সুরা আনফাল : ২৮)। সম্পদ ও সন্তানের মহব্বত মানুষের মজ্জাগত বিষয়। কিন্তু পরীক্ষা এভাবে যে, এ ভালোবাসা আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি করতে উৎসাহ জোগায় কি না সেটা লক্ষ করা হবে। সম্পদ ও সন্তানের প্রতি ভালোবাসা যদি গুনাহ ও নাফরমানির দিকে নিয়ে যায়, তবে এটা মুসিবতের কারণ।
আল্লাহ তায়ালার বানানো ধনী-গরিব শ্রেণির প্রভেদের অর্থ এই নয় যে, মানুষ অকর্মণ্য হয়ে ইচ্ছাকৃত দারিদ্র্য গ্রহণ করবে। বরং উচিত হবে, বৈধ সীমারেখার ভেতরে জীবনের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য অর্জনের চেষ্টা করা। কারণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘দারিদ্র্য কখনো কখনো কুুফরিতে নিমজ্জিত করে’ (শুয়াবুল ঈমান)। দারিদ্র্য দূরীকরণে ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নানাবিধ মাধ্যম প্রয়োগ করে দারিদ্র্য নির্মূলের চেষ্টা করেছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থিক বৈষম্য মুছে ফেলতে একদিকে যেমন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি ও নিজ হাতে উপার্জন করার প্রতি ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে, তেমনি ধনী শ্রেণির ওপর আর্থিক ইবাদতের বিধান আরোপ করেছে। উভয়ের সামষ্টিক বাস্তবায়নেই সমাজ-রাষ্ট্র থেকে দারিদ্র্য দূর হতে পারে। সমাজ ও রাষ্ট্রের অবস্থা বিবেচনায় ইসলাম দারিদ্র্য দূর করার জন্য বিশেষ মূলনীতি গ্রহণ করেছে।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসে শ্রম বিনিময়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জনজীবনে শ্রমের প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নামাজ শেষ হয়ে গেলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকার) সন্ধান করো। যাতে তোমরা সফলকাম হও’ (সুরা জুমা : ১০)। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে নামাজ আদায়ের পরেই নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন পূর্ণ করার লক্ষ্যে রিজিক তালাশের আদেশ করেছেন। পবিত্র কুরআনের মতো হাদিস শরিফের দিকে দৃষ্টিপাত করলেও আমরা দেখতে পাই, নবী করিম (সা.) দরিদ্রতা দূর করার প্রতি সীমাহীন গুরুত্বারোপ করেছেন। মুসলমানদের উপার্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিজ হাতে উপার্জন করে খাদ্য গ্রহণের চেয়ে উত্তম খাবার মানুষের আর হতে পারে না। দাউদ (আ.) স্বহস্তে উপার্জন করে জীবন ধারণ করতেন’ (বুখারি : ২০৭২)। এই হাদিসে স্বহস্তে উপার্জনের গুরুত্ব ও দারিদ্র্য সমস্যার সরাসরি সমাধান রয়েছে। নবীগণ পৃথিবীর বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও বেকার অবস্থায় জীবনধারণ করেননি, বরং নিজ হাতে উপার্জন করে জীবন অতিবাহিত করেছেন।
অপরদিকে ধনীদের সম্পদে আল্লাহ তায়ালা গরিবদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ধনীদের সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ গরিবদের মালিকানায় দেওয়ার মাধ্যমে ইসলাম দারিদ্র্য নির্মূল করার প্রয়াস চালিয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত ইসলামের দ্বিতীয় পন্থা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে নবী! তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করো, যার মাধ্যমে তুমি তাদের পবিত্র করবে এবং যা তাদের পক্ষে বরকতের কারণ হবে’ (সুরা তওবা : ১০৩)। আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করার লক্ষ্যে এবং বিপুল পরিমাণ সওয়াব অর্জন করার উদ্দেশ্যে গরিব-দুঃখীদের দান-সদকা করা। বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গকে নিজেদের অঢেল সম্পদ থেকে সামর্থ্য পরিমাণ সম্পদ দীনহীনদের দানে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ইসলাম দারিদ্র্য দূর করার চেষ্টা করেছে। মানুষের উচিত এসব মূলনীতি অনুসরণ করে সমাজ থেকে অসচ্ছলতা দূর করার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
এমএসএম / এমএসএম
কুরআন হাদিসের আলোকে সৎ শাসকের বৈশিষ্ট্য
অসচ্ছলতার অভিশাপ থেকে বাঁচার উপায়
রমজানের প্রস্তুতি যেন না ভুলি
পার্থিব কামনায় ক্ষতি হয় আখেরাতের
সন্তান জন্মের পর শোকর ও সন্তুষ্টি
পাপ পরিহারের গুরুত্ব
শবে বরাতে রোজা রাখবেন যেভাবে
শবে বরাতেও ক্ষমা নেই যাদের
রবের করুণা অর্জনের প্রেরণা
জ্ঞান ও সভ্যতার চিরন্তন দর্শন
ইসলামের দৃষ্টিতে ক্রয়-বিক্রয়ের লভ্যাংশ
সাহাবিদের ব্যবসায়িক সাফল্যের রহস্য