ঢাকা সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

রমজানে কখন সবচেয়ে বেশি দোয়া কবুল হয়


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬-২-২০২৬ দুপুর ১২:১৭

রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস। রমজান মাস হলো বরকত ও রহমতের মাস। এই মাসে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের ডাক শোনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকেন। এই মাসের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান, তবে কিছু নির্দিষ্ট সময় রয়েছে যখন মহান আল্লাহ বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না।
নবী করীম (সা.) এর বিভিন্ন হাদিস ও ইসলামের সোনালী ইতিহাস থেকে এই বিশেষ সময়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তসমূহ
রমজান মাসে মূলত পাঁচটি সময় দোয়া কবুলের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী সময় হিসেবে ইসলামে নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, মহান আল্লাহ চাইলে যে কোন সময় তার বান্দার দোয়া কবুল করে নিতে পারেন।
ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত
সারাদিন রোজা রেখে ক্ষুধার্ত থাকার পর বান্দা যখন ইফতার সামনে নিয়ে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা করে, তখন আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হন। হাদিসে বলা হয়েছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, তার মধ্যে একজন হলো রোজাদার, যখন সে ইফতার করে। (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)
শেষ রাত বা সেহরির সময়
রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময়ে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাকে ক্ষমা ও রহমত চাওয়ার আহ্বান জানান। সেহরির বরকতময় সময়ে মোনাজাত করলে তা সরাসরি কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
জুমার দিন
রমজান মাসের জুমার দিনগুলো সাধারণ দিনের চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদাবান। জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তাকে তাই দান করেন।
লাইলাতুল কদর (কদরের রাত)
রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলো হলো কদরের রাত। পবিত্র কুরআনে এই রাতকে ‘হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলা হয়েছে। এই রাতে করা দোয়া সারা জীবনের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারে।
আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়
প্রতিদিন ফরয নামাযের আযান এবং ইকামতের মাঝখানে যে সময় পাওয়া যায়, সেই সময়ের দোয়া মহান আল্লাহ ফেরত দেন না।
দোয়া কবুলের শর্তাবলী
একাগ্র মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ অবশ্যই দেবেন।
হালাল খাবার, হারাম উপার্জন দোয়া কবুলের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
হামদ ও দরুদ, দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজির (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করা। তড়িঘড়ি না করা, দোয়া করলাম কিন্তু কবুল হলো না - এমন মনোভাব পোষণ করা যাবে না।
রমজানে দোয়া করার মাধ্যমে একজন মুমিন কেবল দুনিয়াবী চাহিদাই পূরণ করেন না, বরং এর মাধ্যমে তার তাকওয়া (আল্লাহভীতি) বৃদ্ধি পায়। এটি বান্দা ও স্রষ্টার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এক অনন্য মাধ্যম।
রমজানের প্রতিটি সেকেন্ডই অমূল্য। বিশেষ করে ইফতারের আগ মুহূর্তে ব্যক্তিগত মোনাজাত এবং শেষ রাতে তওবার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারি। অলসতা বা গাফিলতির কারণে এই শ্রেষ্ঠ সময়গুলো যেন হাতছাড়া না হয়, সেদিকে সজাগ থাকা উচিত।

এমএসএম / এমএসএম