ঢাকা সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো


আন্তর্জাতিক ডেস্ক  photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮-৪-২০২৬ দুপুর ১০:৫৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সমীকরণে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হরমুজ প্রণালি’। বিশ্ব বাণিজ্যের এই লাইফলাইন বা প্রধান ধমনিটি এখন কার্যত ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে গেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ১৪ দিন এই জলপথ দিয়ে যেকোনো জাহাজের যাতায়াত কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন তা ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিশেষ বিবৃতিতে এই শর্তটি তুলে ধরেছেন। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি জানান, ‘নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে’ এবং ‘কারিগরি সীমাবদ্ধতা’ বিবেচনা করে প্রতিটি বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ও নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এর কোনো সরাসরি প্রতিবাদ আসেনি, বরং তিনি যুদ্ধবিরতির স্বার্থে এই পরিস্থিতি মেনে নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
কেন এই প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ?
১. তেল সরবরাহ: বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
২. ভৌগোলিক অবস্থান: পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই প্রণালিটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য একমাত্র সমুদ্রপথ।
৩. সামরিক কৌশল: এই জলপথের সরু অংশে ইরান খুব সহজেই আধুনিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরাঘচির বিবৃতিতে উল্লিখিত ‘কারিগরি সীমাবদ্ধতা’ শব্দটি অত্যন্ত অর্থবহ। এর মাধ্যমে ইরান ইঙ্গিত দিচ্ছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলে জলপথে যে মাইন বা ধ্বংসাবশেষ থাকতে পারে, তা পরিষ্কার করা বা তদারকি করার নামে তারা প্রতিটি জাহাজে তল্লাশি বা কঠোর নজরদারি চালাতে পারে। এতে কার্যত এই অঞ্চলের ওপর ইরানের ‘সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’ আরও পোক্ত হলো।
মার্কিন নৌবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই শর্তটিকে একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ‘মুক্ত নৌ চলাচল’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এলেও, এখন তাদের নিজেদের শত্রু বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে হচ্ছে। পেন্টাগন থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস একে ‘অস্থায়ী ব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি আংশিক উন্মুক্ত হওয়ার খবরে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান কোনো জাহাজকে বাধা দেয় বা সমন্বয়ের নামে হয়রানি করে, তবে তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আপাতত, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলাকালীন হরমুজ প্রণালিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক এলাকা। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোর মধ্যে কোনো সামান্য ভুল-বোঝাবুঝি পুনরায় বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা করতে পারে।

 

Aminur / Aminur

যুদ্ধবিরতি শেষের দিকে, আতঙ্কিত সাধারণ ইরানিরা

ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

কেন বছরের পর বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ইরানের ইউরেনিয়াম?

ইরানের বন্দরে অবরোধ না তুললে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়া হবে

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল

হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে: ট্রাম্প

পাকিস্তানে সোমবার হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনা

ইরানের বন্দরে অবরোধ না তুললে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়া হবে

হরমুজ খোলায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করল ইরান

স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অস্থায়ী সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান