ঢাকা সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

কেন বছরের পর বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ইরানের ইউরেনিয়াম?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক  photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮-৪-২০২৬ দুপুর ২:৩৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমন সংক্রান্ত আলোচনার বরাবরই একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ইউরেনিয়াম। গত প্রায় দুই যুগ ধরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ইউরেনিয়াম নিয়ে বিরোধ চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে।

ইরান সবসময় দাবি করে আসছে যে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরায়েল কখনও তা বিশ্বাস করেনি।

আর এই অবিশ্বাসকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)। ২০২৫ সালের জুন মাসের শুরুর দিকে এক বিবৃতিতে আইএইএ জানিয়েছিল, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে এবং এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, বিশুদ্ধতার মান যদি আরও ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে অনায়াসেই ইরানের ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।

আইএইএ এই বিবৃতি দেওয়ার পর থেকেই ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গত বছর জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পরমাণু প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা সত্ত্বেও ইরানের ইউরেনিয়ামের কোনো হদিস উদ্ধার করতে পারেনি। এই ইউরেনিয়াম কোথায় আছে— তা এখনও রহস্য।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনার কেন্দ্রে সবসময় থাকে ইউরেনিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক। অন্যদিকে, ইরান সবসময় এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ইরানের পরামাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ তারিখ ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র; শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র –ইসরায়েল যুদ্ধ।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, যা এখনও বহাল আছে। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেই সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষর না করেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা ফিরে গেছেন।

বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মূলত পরমাণু প্রকল্প এবং ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে মতবিরোধের কারণেই ব্যর্থ হয়েছে ১১ তারিখের সংলাপ।

সামনে ২২ এপ্রিল ফের সংলাপে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সেখানেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে ইরানের ইউরেনিয়াম। কারণ ওয়াশিংটনের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে সীমারেখা টানা।

অন্যদিকে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে, তাহলে একদিকে তেহরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পাহাড় সরবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও মিলবে।

কিন্তু একটা চুক্তির জন্য ইরান তার এত বছরের পরমাণু কর্মসূচিকে সীমিত করতে ইচ্ছুক হবে কি-না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র : বিবিসি

এমএসএম / এমএসএম

ভারতে আতশবাজি কারাখানায় বিস্ফোরণে ১৯ শ্রমিকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাসঘাতকতা করবে, পাকিস্তানকে বলেছে ইরান

যুদ্ধবিরতি শেষের দিকে, আতঙ্কিত সাধারণ ইরানিরা

ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

কেন বছরের পর বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ইরানের ইউরেনিয়াম?

ইরানের বন্দরে অবরোধ না তুললে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়া হবে

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল

হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে: ট্রাম্প

পাকিস্তানে সোমবার হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনা

ইরানের বন্দরে অবরোধ না তুললে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়া হবে

হরমুজ খোলায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন