ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

বিনয় ও নম্রতা মুমিনের অপরিহার্য গুণ


ডেস্ক রিপোর্ট  photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৮-৪-২০২৬ দুপুর ১১:২২

সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা প্রচুর অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক হয়েও নিজেকে জাহির করতে ব্যস্ত থাকেন। অন্যদের ছোট করা, ধমক দেওয়া বা নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা যেন তাঁদের চালচলন ও কথাবার্তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। একে বলা হয় ‘দম্ভ’ বা ‘অহংকার’। ইসলামে অহংকারকে চরম ঘৃণা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে বিনয় ও নম্রতা হলো মুমিনের ভূষণ।
বিনয় ও নম্রতার প্রকৃত অর্থ
নিজেকে ছোট ভাবা, অন্যকে নিজের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং দম্ভভরে না চলাই হলো প্রকৃত বিনয়। মনীষী হাসান বসরি (রহ.) খুব সুন্দর একটি কথা বলেছেন, ‘নিজের ঘর থেকে বের হওয়ার পর যার সঙ্গেই সাক্ষাৎ হোক, তাকে নিজের চেয়ে ভালো মনে করার নামই বিনয়।’
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বিনয়ীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘দয়াময় আল্লাহর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে বিনয়ের সঙ্গে চলাফেরা করে।’ (সুরা ফুরকান: ৬৩)। অপর দিকে আল্লাহ অহংকারীকে ভালোবাসেন না। সুরা মুমিনে আল্লাহ স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে দূরে থাকে, অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মুমিন: ৬০)
রাসুলের (সা.) বিনয়ী জীবন
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা ও সম্মান থাকা সত্ত্বেও বিশ্বনবী (সা.) ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ১০ বছর খেদমত করার পরও রাসুল (সা.) তাঁকে কোনো কাজে ধমক দেননি বা কেন কাজটি করলেন না—এমন প্রশ্নও করেননি।
বিনয়ী ব্যক্তির মর্যাদা ও ফজিলত
নম্রতা আল্লাহর প্রিয় গুণ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ স্বয়ং নম্র, তাই তিনি নম্রতাকে ভালোবাসেন। কঠোরতার জন্য তিনি যা দান করেন না, নম্রতার জন্য তা দান করেন’ (সহিহ মুসলিম)। মুমিনের জন্য বিনয় ও নম্রতা অপরিহার্য। যে ব্যক্তি নম্রতা থেকে বঞ্চিত, সে যেন সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। অন্যদিকে, যারা ইমান এনেছে ও বিনয়াবনত হয়েছে, আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন (সুরা হুদ: ২৩)।

 

Aminur / Aminur